মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার লাঠিটিলা সংরক্ষিত বনে সাফারি পার্ক নির্মাণের প্রকল্প বন্ধসহ ছয়টি দাবি তুলে ধরেছে প্রাণ-প্রকৃতি সুরক্ষা মঞ্চ।
রবিবার (৮ আগস্ট) প্রাণ-প্রকৃতি সুরক্ষা মঞ্চের আহবায়ক ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়ার পক্ষে কাজী মাহির তাজওয়ারের গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ দাবিগুলো তুলে ধরা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় অবস্থিত লাঠিটিলা সংরক্ষিত বনাঞ্চল জীববৈচিত্র্যে পরিপূর্ণ এক প্রাকৃতিক বনভূমি ও বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য। জেলার একমাত্র সংরক্ষিত বন হিসেবে চিহ্নিত ক্রান্তীয় চিরসবুজ এই বনে কোনও ধরনের স্থাপনা নির্মাণ করা এবং প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও সাফারি পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে বন বিভাগ। এই সংরক্ষিত বনে সাফারি পার্ক স্থাপন করা হলে বনভূমি ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস হয়ে যাবে বলে মনে করছেন বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞগণ। পাশাপাশি বনের মধ্যে অবস্থিত ছয়টি গ্রামের অন্তত ৩০০ পরিবার ও বননির্ভর স্থানীয় জনগোষ্ঠী উচ্ছেদের আশঙ্কা রয়েছে। ৯৮০ কোটি টাকার এই প্রকল্পের আওতায় পর্যটকদের জন্য নানা অবকাঠামো, হোটেল-মোটেল, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন, উপকেন্দ্রসহ ভারী অবকাঠামো নির্মিত হবে। প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেখানে বছরে ৮ থেকে ১০ লাখ দর্শনার্থী ভ্রমণ করবেন। সেগুনবৃক্ষ প্রধান ওই বনভূমির ৫ হাজার ৬৩১ একরজুড়ে সাফারি পার্ক নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ২০ কিলোমিটার দক্ষিণে মাধবকুণ্ড ইকোপার্ক ও ৫০ কিলোমিটার উত্তরে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান।
বন ধ্বংসের চলমান পরিকল্পনার বিরুদ্ধে প্রাণ-প্রকৃতি সুরক্ষা মঞ্চের পক্ষ থেকে ছয়টি দাবিও বিবৃতিতে তুলে ধরা হয়েছে। দাবিগুলো হলো‑ লাঠিটিলা সংরক্ষিত বনে ‘সাফারি পার্ক’ বা যেকোন ধরণের অবকাঠামো প্রকল্প গড়ে তোলা যাবে না; উন্নয়নের নামে বনের উপর নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীকে উচ্ছেদ করা যাবে না; লাঠিটিলা বন নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের সাংবাদিককে হুমকি প্রদানকারীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে; স্বাধীন গণমাধ্যম ও সাংবাদিকের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে; প্রাণ-প্রকৃতির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে; প্রাকৃতিক বন ও জলাভূমির জন্য হুমকি এমন সকল উন্নয়ন ও অবকাঠামো প্রকল্প বাতিল করতে হবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, লাঠিটিলা সংরক্ষিত বনে সাফারি পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে ইতোমধ্যে একাধিক জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন ও সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। সম্প্রতি দেশের অন্যতম একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় তেমনি একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর, অনলাইনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জুড়ী উপজেলা পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান সাফারি পার্ক সংক্রান্ত প্রতিবেদনের সাংবাদিকের বাড়ি ঘেরাও করার হুমকি দিয়েছেন, যা গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতার উপর সরাসরি হুমকি বলে আমরা মনে করি। আমরা ওই হুমকির বিরুদ্ধে নিন্দা জ্ঞাপন করি এবং প্রতিবাদ জানাই।









