সাভার ট্যানারি শিল্পনগরীর দূষণ বন্ধে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় শিল্প ও বাণিজ্য সচিবকে তলব করতে যাচ্ছে সংসদীয় কমিটি। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি আগামী বৈঠকে সরকারের এই দুই কর্মকর্তাকে উপস্থিত থাকতে বলেছে। সংশ্লিষ্ট দুই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীদেরও বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হবে।
সোমবার (২২ আগস্ট) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সাভারের ট্যানারির দূষণ নিয়ে আমরা দেখছি গত দেড় বছরে শুধু মিটিংই হচ্ছে। তারা বলছে ব্যবস্থা নিচ্ছি। কিন্তু দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। তাদের কার্যক্রম সন্তোষজনক নয়। সেজন্য আগামী বৈঠকে শিল্প ও বাণিজ্য সচিবকে ডাকা হবে। আমরা শিল্পমন্ত্রী ও বাণিজ্যমন্ত্রীকেও আমন্ত্রণ জানাবো। যদি তারা সময় করতে পারেন আসবেন। কিন্তু দুই সচিবকে অবশ্যই থাকতে হবে।
তিনি বলেন, এখন থেকে এ নিয়ে যত মিটিং হবে তাতে নেতৃত্ব দেবে পরিবেশ মন্ত্রণালয়।
২০১৭ সালে আদালতের নির্দেশে সাভারের হেমায়েতপুরের শিল্পনগরীতে ট্যানারিগুলো যেতে বাধ্য হয়। এ শিল্পনগরী গড়ে তোলার কাজ এরও অর্ধযুগ আগে থেকে শুরু করে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক)।
ওই নগরীতে ১৫৫টি ট্যানারিকে জমি দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধনাগার তৈরি করে দেওয়ার কথা বিসিকের। তারা এ জন্য একটি চীনা কোম্পানিকে দায়িত্ব দেয় ২০১২ সালে। তবে তারা যথাসময়ে সিইটিপি পুরো চালু করতে পারেনি। আবার এই সিইটিপির সক্ষমতা ও কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
সাভারের চামড়া শিল্পনগরীতে দিনে ৪০ হাজার ঘনমিটার বর্জ্য উৎপাদন হয়। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা রয়েছে ২৫ হাজার ঘনমিটারের।
সংসদীয় কমিটি বলছে, দিনে ১৫ হাজার ঘনমিটার বর্জ্য পরিবেশে মিশছে। গত তিন বছরে এক কোটি ৬৪ লাখ ঘনমিটার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বাইরে থেকে গেছে। এর বাইরে ক্রোমিয়াম শোধনের ব্যবস্থাও নেই সেখানে।
গত বছরের আগস্টে পরিবেশ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে না হওয়ায় সাভারের চামড়া শিল্পনগরী ‘আপাতত বন্ধ রাখার’ সুপারিশ করে।
কমিটির সুপারিশের পর পরিবেশ অধিদফতর বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) কাছে চিঠি দেয়। চামড়া শিল্পনগরী ‘কেন বন্ধ করা হবে না’ তা বিসিকের কাছে জানতে চায় সংসদীয় কমিটি। তবে ওই বক্তব্য ‘সন্তোষজনক নয়’ বলে জানিয়েছিল সংসদীয় কমিটি।
এরপর সংসদীয় কমিটি প্লট ধরে ধরে অভিযান চালিয়ে দূষণে জড়িত ইউনিটগুলো বন্ধের সুপারিশ করে। গত ১৭ জুলাই কমিটির বৈঠকে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন করার সুপারিশ আসে।
কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন বলেন, ‘আমাদের জানানো হয়েছে কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান কমপ্লায়েন্স অনুসরণ করেছে। তাদের সাধুবাদ জানাই। কিন্তু যারা করছেন না, তাদের বন্ধ করতে হবে। কমপ্লায়েন্স না ঠিক করে ট্যানারি চালাবে—এমনটা হতে দেওয়া যায় না।’
পরিবেশ দক্ষতা সূচক প্রণয়ন
সংসদীয় কমিটির বৈঠকে পরিবেশের গুণমান জানার জন্য দেশে প্রথমবারের মতো পরিবেশ দক্ষতা সূচক এবং স্যাটেলাইট অ্যাকাউন্টিং প্রণয়ন করা হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে সাবের হোসেন জানান।
এ সূচক প্রণয়নের অংশ হিসেবে প্রাথমিকভাবে বায়ু দূষণ, পানি দূষণ, শব্দ দূষণ ইত্যাটি ৪/৫ অণুষঙ্গ বিবেচনা করা হবে বলেও জানান তিনি।
পরিবেশ দক্ষতা সূচক প্রণয়নের জন্য সকল স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে সভা করা হবে বলেও তিনি জানান।
‘স্যাটেলাইট অ্যাকাউন্টিং’ প্রণয়ন সম্পর্কে সাবের হোসেন বলেন, বাংলাদেশে প্রাকৃতিক সম্পদ এবং এর মূল্য বাড়লো না কমলো, তা জানার জন্য এটি করা হবে।
সাবের হোসেন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য পরিবেশমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার, নাজিম উদ্দিন আহমেদ, তানভীর শাকিল জয়, রেজাউল করিম বাবলু এবং খোদেজা নাসরিন আক্তার হোসেন বৈঠকে অংশ নেন।









