ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক জাতীয় সম্মেলনে নেতৃত্ব নির্বাচনে বিচক্ষণতাকে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দলটির রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন। তিনি বলেন, পরীক্ষিত, সম্ভাবনাময় ও জনসম্পৃক্ত নেতাদের দিয়েই আওয়ামী লীগের এবারের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী ‘টিম’ গঠন করা হবে। কাউন্সিলের মাধ্যমে গঠিত, নির্বাচিত কমিটি উন্নয়ন সফলতার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা এবং জাতির প্রত্যাশা পূরণে শতভাগ সচেষ্ট থাকবেন দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বুধবার বাংলা ট্রিবিউনকে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বপন বলেন, শতভাগ জেলা সম্মেলন সম্পন্ন করে এবার ২৮ মার্চ কেন্দ্রীয় কাউন্সিল করতে চাই আমরা। যেসব জেলায় সম্মেলন হয়নি, সেসব জেলার সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্ধারণ করা তারিখগুলোতে সম্মতি দিয়েছেন।
আওয়ামী লীগের এ সাংগঠনিক সম্পাদক আরও বলেন, অতীতে অনেক সময় আওয়ামী লীগের ভেতরে কৌশলে অনুপ্রবেশ ঘটিয়ে দলে ষড়যন্ত্রের অপচেষ্টা করা হয়েছে। তবে, সাড়ে তিন দশকের বিজ্ঞ সভাপতি ও রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা তার বিচক্ষণতা দিয়ে এসব ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করেছেন। তিনি এখন বিজ্ঞ ও অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ। অধিকতর পরিণত এবং রাষ্ট্র ও দল পরিচালনায় তার সক্ষমতা অনেক উচুঁতে। সুতরাং তিনি তার দলীয় টিম নির্বাচনে কোনও ত্রুটি করবেন না।
স্বপন বলেন, আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা শেখ হাসিনার প্রতি পরিপূর্ণ আস্থাভাজন। কাউন্সিলে আগত কাউন্সিলররা তাদের জনগোষ্ঠীর প্রত্যাশা মোতাবেক শেখ হাসিনার প্রতি এবারও আস্থা জানাবেন। বরাবরের মতো তাকেই সভাপতি নির্বাচন করবেন। তার ওপর টিম নির্বাচনের দায়িত্বও অর্পণ করবেন।
সম্মেলনে আওয়ামী লীগের লক্ষ্য কী হবে—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, দলের এবং সরকারের আগামী দিনে মূল চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, উন্নয়নে শতভাগ সফলতা অর্জন করা। তিনি বলেন, বাংলাদেশ অধিক জনসংখ্যার একটি দেশ। একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় শতভাগ সফল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরই মধ্যে পৃথিবীতে একমাত্র দেশ বাংলাদেশ, যেখানকার রাজনৈতিক নেতৃত্বের একটি বড় অংশ অন্য রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য রয়েছে। বিএনপির নেতৃত্বাধীন বড় এ রাজনৈতিক অংশটি এক হয়ে পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রের সঙ্গে মিলে সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।
জয়পুরহাট থেকে নির্বাচিত ক্ষমতাসীন দলের এ সংসদ সদস্য বলেন, বিএনপি বুঝে বা না বুঝে, ঈর্ষান্বিত হয়ে কিংবা বাংলাদেশবিরোধী রাজনীতির অংশ হিসেবে পাকিস্তানের ষড়যন্ত্রের সঙ্গে এক হয়েছে। ভূমিকা রাখছে। তিনি বলেন, এ অপশক্তিটি খুব ছোট নয়।
স্বপন বলেন, এছাড়া বিশ্বব্যাপী চলমান ধর্মীয় সন্ত্রাসবাদ যেকোনও মুহূর্তে দেশে অনুপ্রবেশের আশঙ্কা রয়েছে। সুতরাং জননিরাপত্তা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ। আমরা বিশ্বাস করি, প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার সক্ষমতা রয়েছে। তিনি বলেন, দেশের মানুষ শেখ হাসিনার উন্নয়ন যাত্রার প্রতি ব্যাপকভাবে আস্থাশীল। সরকারের ধারাবাহিকতার মাধ্যমে দেশের উচ্চ আসনে আরোহণের স্বর্ণ দুয়ার উন্মুক্ত হয়েছে। তা অক্ষুণ্ন রাখা আমাদের পবিত্র দায়িত্ব। এ দায়িত্বের প্রতি কমিটমেন্টের কারণে এ মুহূর্তে সরকার ও আওয়ামী লীগের আগাম নির্বাচনের বিষয়ে কোনও চিন্তা নেই। সংবিধান নির্ধারিত সময়ে সব দলের অংশগ্রহণের ভেতর দিয়ে আগামী নির্বাচন হবে। সে নির্বাচনেও ব্যাপক জনসমর্থন নিয়ে আওয়ামী লীগ নির্বাচিত হবে। সরকার গঠন করে জনগণের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটাবে।
/এমএনএইচ/আপ-এনএস/








