‘গ’ শ্রেণিভুক্ত পৌরসভা হিসেবে ২০০৬ সালের ১ জুন যাত্রা শুরু রাজশাহীর আড়ানী পৌরসভার। তবে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতাসহ বিভিন্ন কারণে শুরুর ৫ বছর পৌরসভাটি পরিচালিত হয় প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে। ২০১১ সালের ১২ জানুয়ারি এ পৌরসভায় প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান মিনু। তবে ৬ মাস দায়িত্ব পালনের পর ওই বছরের ২৭ জুলাই তার মৃত্যু হয়। এরপর থেকে ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন মুক্তার আলী। তিনিই সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে মেয়র পদে পুনর্নিবাচিত হয়েছেন। ২০১৪ সালে পৌরসভাটি ‘খ’ শ্রেণিতে উন্নিত হয়।
আড়ানী পৌরসভার বর্তমান মেয়রের সঙ্গে তার ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে মুখোমুখি বাংলা ট্রিবিউন প্রতিনিধি।
প্রশ্ন: শপথ নেওয়ার আগের দিন আপনি একজন মাদক ব্যবসায়ীকে ধরিয়ে দিলেন। এই অভিযান কী অব্যাহত থাকবে?
মুক্তার আলী: আড়ানী পৌর এলাকায় আরও মাদক ব্যবসায়ী রয়েছে। তাদেরও পর্যায়ক্রমে পুলিশে দেওয়া হবে। নির্বাচনি প্রচারে আমি ভোটারদের মাদকমুক্ত পৌরসভা গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছি। আগামীতেও এ চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
প্রশ্ন: এই পৌরসভাকে মডেল পৌরসভায় উন্নীত করতে আপনার পরিকল্পনা কী?
মুক্তার আলী: আমার একক প্রচেষ্টায় আড়ানিকে মডেল পৌরসভায় উন্নীত করা সম্ভব নয়। এজন্য ৯টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও সচেতন ব্যক্তিদের সমন্বয় করে কাজ করতে হবে। এছাড়া মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের বাড়ি এই পৌর এলাকায়। তার সহযোগিতায় আড়ানিকে মডেল পৌরসভায় উন্নীত করতে চাই।
প্রশ্ন: পৌরসভাগুলোর উন্নয়নে সরকার প্রতি বছর যে বাজেট পাঠায় তার কতোটা কাজে লাগে?
মুক্তার আলী: আমি সবেমাত্র শপথ গ্রহণ করে মেয়রের দায়িত্ব নিয়েছি। পৌরসভাগুলোর উন্নয়নে সরকার প্রতি বছর যে বাজেট পাঠায় তা সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে পৌরসভার উন্নয়নে কাজ করব।
প্রশ্ন: একই সড়ক নির্মাণের দু/এক বছর পরপরই ভেঙে যায় কেন?
মুক্তার আলী : সঠিক তদারকির করলে সড়ক নির্মাণের পরপরই ভেঙে যাওয়ার কথা নয়। ঠিকাদারদের দিয়ে সঠিকভাবে কাজটা করিয়ে নিলে এমনটা হবে না। আমি সেটাই করবো।
প্রশ্ন: এ ধরনের উন্নয়ন ও নির্মাণকাজের তদারকির ক্ষেত্রে পৌর কর্তৃপক্ষ কতোটা দায়বদ্ধ থাকবে?
মুক্তার আলী: আমি জনগণের ভোটে নির্বাচিত পৌর মেয়র। এজন্য পৌর কর্তৃপক্ষ জনগণের কাছে সম্পূর্ণ দায়বদ্ধ থাকবে। পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে যেন কোনও অভিযোগ না আসে, আমি সেভাবেই কাজ করবো।
প্রশ্ন: পৌরসভার উন্নয়নকাজের দরপত্র নিয়ে প্রায়ই বিবিধ অভিযোগ শোনা যায়। সরকারি দলের নাম ভাঙিয়ে কিছু অপেশাদার ঠিকাদার এসব কাজ বাগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। এ কারণে প্রকৃত ঠিকাদাররা কাজ করার সুযোগ পান না। এ বিষয়ে আপনি কি ধরনের পদক্ষেপ নেবেন?
মুক্তার আলী: আমি ৯টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও তিন সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরকে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন উন্নয়নের জন্য দরপত্র আহ্বান করবো। লটারির মাধ্যমে কাজ দেওয়া হবে। কাউকে সরকারি দলের নাম ভাঙিয়ে কাজ করার সুযোগ দিবো না।
প্রশ্ন: পৌরসভার উন্নয়নে আপনার ভবিষ্যত পরিকল্পনা কী?
মুক্তার আলী: আড়ানীতে আন্তঃনগর ট্রেন স্টপেজ, নগর ভবন, সাব পুলিশ স্টেশন, হাসপাতাল, শিশু পার্ক, ফায়ার সার্ভিস, অডিটোরিয়াম, মন্ত্রী মহোদয়ের সহযোগিতায় বড়াল নদী সংস্কার, রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ উন্নয়ন, বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ প্রতিরোধ এবং পৌরসভাকে ‘খ’ শ্রেণি থেকে প্রথম শ্রেণিতে উন্নীত করতে চাই।
প্রশ্ন: পৌর এলাকার নাগরিকদের সঙ্গে আপনার সম্পৃক্ততা কেমন থাকবে?
মুক্তার আলী: আশা করছি ভালো থাকবে। কারণ, আমি দুইবার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য, দুইবার কাউন্সিলর, ৫ বছর প্যানেল মেয়র-১ এবং ৪ মাস ভারপ্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেছি। বিগত সময় যেভাবে দায়িত্ব পালন করেছি ইনশাআল্লাহ সেভাবেই দায়িত্ব পালন করবো। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন।
জেবি/পিএইচ/টিএন/
আপ-এসটি








