ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের সাবেক জিএস, তৎকালীন সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের জেলা আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোখলেসুর রহমান (৭৫) মারা গেছেন। শনিবার (২২ এপ্রিল) ঈদুল ফিতরের দিন ভোর ৬টার দিকে রাজধানীর মিরপুরের শাহআলী থানা এলাকার নিজ বাসায় তিনি ইন্তেকাল করেন তিনি (ইন্না লিল্লাহি... রাজিউন)। মোখলেসুর রহমান স্ত্রী, দুই ছেলে, তিন মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
মরহুমের জানাজা ওই দিন বাদ জোহর শাহআলী থানা এলাকার আল নূরী জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়। পরে নিজ বাসার সামনে তাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মান জানানো হয়। শেষে বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়। মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনায় সোমবার (২৪ এপ্রিল) বাদ আসর আল নূরী জামে মসজিদে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
মো. মোখলেসুর রহমান ১৯৪৮ সালের ১৭ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। সরকারি ব্রাহ্মণবাড়িয়া কলেজে পড়ার সময় তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত হন। পরে এ কলেজের ছাত্র সংসদের জিএস (১৯৬৮-৬৯) নির্বাচিত হন।
১৯৬৯ সালে তিনি সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আহ্বায়ক নির্বাচিত হন। একপর্যায়ে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি ভারতে গিয়ে প্রশিক্ষণ নেন। দেশে ফিরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিভিন্ন এলাকায় অস্ত্র হাতে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। মুক্তিযুদ্ধে তিনি সাবেক ছাত্রনেতা এবং রাজনীতিক আবদুল কুদ্দুস মাখনের সহযোদ্ধা ছিলেন।
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তিনি নবীনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, উপজেলা কৃষক লীগের সাবেক সভাপতি, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও জেলা কৃষক লীগের সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৭৩ সালে মোখলেসুর রহমান ঢাকার মিরপুরে ব্যবসা এবং স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। তিনি মিরপুর বাঙলা কলেজের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও বর্তমানে শাহআলী থানা যুবলীগ নেতা এআর রাজীবের বাবা এবং দৈনিক আমাদের সময়ের যুগ্ম বার্তা সম্পাদক আলী ইমাম সুমনের শ্বশুর। বীর মুক্তিযোদ্ধা মোখলেসুর রহমানের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় পরিবারের পক্ষ থেকে দোয়া চাওয়া হয়েছে।









