ডিবি পরিচয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সদর দফতরের পাশে হেয়ার রোড থেকে এক ব্যবসায়ীকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে নয় লাখ টাকা ছিনতাই করেছে দুর্বৃত্তরা। পরে নারায়ণগঞ্জের মৌচাক নামক স্থানে তাকে গাড়ি থেকে ফেলে দেওয়া হয়। ওই ব্যবসায়ীর নাম শামসুজ্জামান রতন। এ ঘটনায় তিনি রমনা থানায় অভিযোগ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
শনিবার বিকাল ৪টার দিকে এই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। রতন পেশায় একজন ঠিকাদার। তিনি ডলার কেনাবেচারও ব্যবসা করেন বলে জানিয়েছেন।
শামসুজ্জামান রতন জানান, ২০ হাজার মালয়েশিয়ান রিংগিত (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় চারলাখ) ও সাড়ে চার লাখ বাংলাদেশি টাকাসহ মোট সাড়ে ৮ লাখ টাকা তার একটি ব্যাগের ভেতরে ছিল। টাকা নিয়ে তিনি বায়তুল মোকাররম থেকে সাইকেলে করে কলাবাগানের নিজ বাসায় যাচ্ছিলেন। কাকরাইল পার হয়ে হেয়ার রোড ধরে তিনি যখন রমনা পার্কের দিকে আসছিলেন, তখন কালো একটি মাইক্রোবাস তার গতিরোধ করে। তিন ব্যক্তি তাকে টেনে মাইক্রোবাসে তুলে চোখ বেঁধে ফেলে। দুই হাত পেছনে নিয়ে হ্যান্ডকাফ পরানো হয় তাকে। এরপর লাঠি দিয়ে পেটানো হয়। গুলি করে তাকে হত্যার হুমকি দেয় দুর্বৃত্তরা। চলন্ত গাড়িতে তাকে কথা না বলার জন্য ভয় দেখায় ডিবি পরিচয়ের ছিনতাইকারীরা। তার ব্যাগটি নিয়ে নেয় তারা।
রতন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গাড়িতে তারা অন্তত ছয়-সাতজন ছিল।নিজেদের মধ্যে স্যার স্যার বলতেছিল।তারা বলে, আমি নাকি অবৈধ ব্যবসা করি, এসব বলতে বলতে আমাকে মারতে থাকে। প্রথমেই চোখ বেঁধে আমার পিঠের ওপর একজন বসে। তাদের একজন আমাকে অফিসে নিতে চেয়েছিল। তার উত্তরে আরেকজন বলে, ‘মামলা করলে ওর জীবন শেষ হয়ে যাবে। অফিসে নেওয়ার দরকার নাই। এরপর বিকাল ৫ টার দিকে তারা আমাকে নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড পেরিয়ে মৌচাক নামক স্থনে ফেলে দেয়। আমাকে ফেলে দেওয়ার সময় কথা না বলার জন্য হুমকি দেয়। এ সময় চিৎকার করেও কোনও কাজ হয়নি।’
এ বিষয়ে রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মশিউর রহমান জানান, ‘এ বিষয়ে ভুক্তভোগীর অভিযোগ নেওয়া হচ্ছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে দেখা হবে।’
আরও পড়ুন:
সাঁড়াশি অভিযান: ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার তিন সহস্রাধিক
/এআরআর/ এপিএইচ/







