‘বাবা মারা গেলেন গাড়ি চাপায়, চাচা মারা গেলেন শোকে। অথচ ঘটনার ছয়দিন পার হলেও পুলিশ ঘাতকদের ধরতে পারেনি।’ এভাবেই সোমবার বিকালে বাংলা ট্রিবিউনের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন গত ১৪ সেপ্টেম্বর বুধবার ভোরে শেওড়া পাড়া বাস স্ট্যান্ডের পাশে প্রাইভেট কারচাপায় নিহত আতাউর রহমানের একমাত্র ছেলে রায়হান।
ঈদুল আজহার পরদিন বুধবার ভোর ৬টার দিকে শেওড়া পাড়ার বাড়ি থেকে মোহাম্মদপুরের মেয়ের বাসায় যাওয়ার জন্য বের হন আতাউর রহমান (৭৮) ও তার স্ত্রী রওশন আরা (৬০)। শেওড়া পাড়া বাস স্ট্যান্ডের পাশে হাজী আশরাফ আলী মার্কেটের সামনে রিকশা কিংবা সিএনজি চালিত অটোরিকশার জন্য অপেক্ষা করছিলেন তারা। এ সময় বেপরোয়া গতিতে আসা একটি প্রাইভেট কার (ঢাকা মেট্রো গ-২১-৮৫৭১) তাদের ধাক্কা দিলে তারা কয়েক গজ দূরে ছিটকে পড়েন। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাদের। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও স্বজনরা যাওয়ার আগেই প্রাইভেট কারের চালক ও আরোহীরা পালিয়ে যায়। দুর্ঘটনায় দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া গাড়িটি পুলিশ জব্দ করলেও এর মালিক ও চালককে গ্রেফতার করতে পারেনি এখনও।
এ ব্যাপারে পরে নিহত আতাউর রহমানের ছেলে রায়হান বাদী হয়ে কাফরুল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ওই থানার এসআই ফেরদৌস মামলাটির তদন্ত করছেন। তিনি বলেন, প্রাইভেট কারটি জব্ধ করা হয়েছে। এর মালিক হিসেবে আশিকুর রহমান নামের একজন ঠিকাদারের নাম পাওয়া গেছে। তাকে গ্রেফতারের জন্য তার ঢাকার শাহিনবাগে ও গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলসহ সম্ভাব্য জায়গাগুলোতে একাধিকবার অভিযান চালানো হয়েছে। কিন্তু তাদের ধরা সম্ভব হয়নি। পুলিশের পাশাপাশি র্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার লোকজনও তাদের গ্রেফতারের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
শেওড়াপাড়ায় গাড়ি চাপায় নিহত বৃদ্ধ দম্পতির ছেলে রায়হান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমার বাবা-মা মারা যাওয়ার পর তাদের শোকে গত শুক্রবার মারা গেছেন আমার চাচা ইদ্রিস আলী। এখনও আমাদের পুরো পরিবার শোকে স্তব্ধ। থানায় মামলা হয়েছে। কিন্তু এখনও কেনও ঘাতকরা ধরা পড়েনি সেটা আমরা বুঝতে পারছি না।’
রায়হান আরও বলেন, ‘প্রায় এক সপ্তাহ হয়ে গেলেও থানা থেকে আমাদের কিছু জানানো হয়নি। মাঝে বাবার মিলাদ হয় গত শুক্রবার। তার আগে একবার থানা থেকে ফোন করে আমাদের খোঁজ নেওয়া হয়েছিল। তবে আসামি শনাক্ত হয়েছে কিনা—এ বিষয়ে জানানো হয়নি।’
কাফরুল থানার ওসি সিকদার মোহাম্মদ শামীম হোসেন বলেন, ‘প্রাইভেট কারটি আমাদের কাছে আছে। গাড়ির মালিককে আমরা খুঁজছি। তাকে গ্রেফতার করতে পারলেই জানা যাবে তখন গাড়িতে কারা ছিল।’
/জেইউ/এমএনএইচ/








