রাজধানীর পল্লবী থেকে গ্রেফতারকৃত দুই জেএমবি সদস্য মূলত এই সংগঠকের প্রচারক ও অর্থ সংগ্রাহক হিসাবে কাজ করতো। র্যাব জানিয়েছে তাদের কোনও সামরিক প্রশিক্ষণ ছিলো না। মঙ্গলবার দুপুরে র্যাবের কারওয়ান বাজারের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে র্যাব ৪ এর কমান্ডিং অফিসার (সিও) খন্দকার লুৎফুল কবীর এই তথ্য জানান।
এর আগে, সোমবার রাতে পল্লবী এলাকা থেকে জেএমবির সারোয়ার ও তামিম গ্রুপের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করে র্যাব- ৪। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, নীলফামারির মো. আতিকুর রহমান মিলন (২১) এবং বরিশালের মো. খাদেমুল ইসলাম খাদেম ওরফে গাজোয়াতুল (২৮)। তাদের কাছ থেকে পাঁচটি জিহাদী বই, দুইটি ব্যাগ, বিভিন্ন ধরনের লিফলেট, নগদ ৩৭ হাজার ৫৯৩ টাকা ও ৪টি ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
র্যাব জানায়, মো. আতিকুর রহমান মিলন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, সে ২০১১ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ ৪.৫০ পেয়ে এসএসসি পাশ করে। তারপর ডিমলা ইসলামিয়া ডিগ্রি কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগ হতে জিপিএ ৩.৫০ পেয়ে ২০১৪ সালে এইচএসসি পাশ করে এবং বিশ্ববিদ্যালয় কোচিং করার জন্য রংপুরে থাকে। এরপর সে সাভার বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে ২০১৫ সালে সমাজকর্ম বিষয়ে অনার্স ১ম বর্ষে ভর্তি হয়। এখানে কিছুদিন ক্লাস করার পর পারিবারিক অভাব-অনটনের কারণে তার লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায়। মিলনের সঙ্গে ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসের দিকে ফেসবুকের মাধ্যমে ফজলে রাব্বীর (২০) সাথে যোগাযোগ হয়। ফজলে রাব্বীর গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায়। সে নিজেকে জেএমবি’র (সারোয়ার-তামিম গ্রুপের) সদস্য হিসেবে পরিচয় দেয়। ফজলে রাব্বী তার ফেইসবুক আইডিতে যেসমস্ত জিহাদী পোস্ট দিত, সেগুলো মিলন লাইক দিয়ে তার নিজের আইডিতে শেয়ার করত। পরবর্তী সময়ে তাদের মধ্যে মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে যোগাযোগ হয়।
পরবর্তীতে ফজলে রাব্বী মিলনকে ২০১৬ সালের জুলাই মাসের দিকে আব্দুর রহমান নামে সংগঠনের এক বড় ভাইয়ের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়। গত ৮ অক্টোবর ২০১৬ তারিখে র্যাবের অভিযানে আব্দুর রহমান ওরফে সারোয়ার জাহান মৃত্যু হয়। এরপর মিলন জানতে পারে উল্লেখিত বড় ভাই জেএমবির একটি গ্রুপের প্রধান।
লুৎফুল কবীর আরও জানায়, আব্দুর রহমান বিভিন্ন সময় মিলনকে অর্থ বহনের কাজে নিয়োগ করতো। এরই ধারাবাহিকতায় মিলন গাজীপুরসহ কয়েকটি জায়গায় অর্থ দিয়ে আসে এবং টঙ্গীর একটি বস্তিতে অর্থ দিতে গিয়ে খাদেমুলের সাথে তার পরিচয় হয়।
মো. খাদেমুল ইসলাম খাদেম ওরফে গাজোয়াতুলের বিষয়ে র্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘সে ১৯৯৫ সালে ফায়দাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে পঞ্চম শ্রেণী পাশ করে। পারিবারিক আর্থিক সঙ্কটের কারণে তার লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায়। ছোট ভাই নাজমুলের মাধ্যমে ইসলামি জিহাদের প্রতি অনুপ্রাণিত হয় সে। ২০১৬ সালের মার্চ মাসে জেএমবির (সারোয়ার-তামিম গ্রুপের) প্রচার ও প্রসার নিয়ে দাওয়াতী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিভিন্ন কথা বার্তা হয়। এরপর ২০১৬ সালের আগস্ট মাসের প্রথম দিকে তাজুলের মাধ্যমে মাহমুদ ও সিলেটের নীরবের সঙ্গে তার পরিচয় হয়।
যেসমস্ত জঙ্গিরা প্রাথমিক পর্যায়ে বাড়ি ছেড়ে চলে আসত তাদের আশ্রয় প্রদানের দায়িত্বে নিয়োজিত ছিল খাদেমুল ও নাজমুল। সাধারণত খাদেমুল এই সকল জঙ্গিদের আশ্রয় দানের জন্য বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে টাকা পেত। গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইন অনুয়ায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
/এআরআর/এমও/








