‘ডিসকো বয়েজ’ ও ‘নাইন স্টার’ গ্রুপের দ্বন্দ্বেই মৃত্যু আদনানের!

জাকিয়া আহমেদ
০৯ জানুয়ারি ২০১৭, ০০:৫০আপডেট : ০৯ জানুয়ারি ২০১৭, ১৭:৩৮

নিহত আদনান উত্তরায় উঠতি তরুণদের দুই গ্রুপের দ্বন্দ্বের কারণেই ১৪ বছরের কিশোর আদনান কবিরের মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি পরিবারের। তবে পুলিশ বলছে, নিহত আদনান নিজেও একটি গ্রুপের সদস্য ছিল বলে তাদের কাছে প্রমাণ রয়েছে। এ ঘটনায় আদনানের বাবার দায়ের করা মামলায় দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
ঘটনাস্থল উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরের ১৭ নম্বর রোডে গিয়ে দেখা যায়, আদনানকে যে বাড়ির সামনে কুপিয়ে আহত করা হয়েছিল সেখানে এখনও লেগে আছে রক্তের দাগ। ওই জায়গাটি ইট দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার (৬ জানুয়ারি) উত্তরার ট্রাস্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র আদনান কবিরকে সন্ত্রাসীরা খেলার মাঠে হকিস্টিক দিয়ে পিটিয়ে এবং কুপিয়ে মারাত্মকভাবে আহত করে। চিকিৎসার জন্য তাকে উত্তরার একটি হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওইদিন সন্ধ্যায় আদনানের বাবা কবির হোসেন বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় ৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
রবিবার (৮ জানুয়ারি) উত্তরা গিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ‘উত্তরা আমরা চালাবো’— এমন মনোভাব নিয়ে ‘ডিসকো বয়েজ’ ও ‘নাইন স্টার’ নামের দুইটি গ্রুপ নিয়ন্ত্রণ করে আসছে উত্তরার কয়েকটি সেক্টর। এই দুই গ্রুপের নেতারা মাত্র উচ্চমাধ্যমিক শেষ করেছেন। আর গ্রুপের বেশিরভাগ সদস্যই উত্তরার মাইলস্টোন, ক্যামব্রিয়ান, উত্তরা হাইস্কুল, রাজউক, ট্রাস্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম, নবম, দশম এবং উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থী।

স্থানীয়রা জানান, ‘নাইন স্টার’ গ্রুপের লিডার রাজু এলাকাতে তালাচাবি রাজু নামে পরিচিত। রাজুর বাবা তালিচাবি ঠিক করার কাজ করতো। রাজু নিজেও অনেকদিন এই কাজ করত বলেই তাকে এই নাম দেওয়া হয়। অন্যদিকে, ডিসকো বয়েজের লিডার ছোটন ও সেতু। আদনানের পরিবারের দাবি, ছোটন ফেসবুকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বলে নিজেকে দাবি করলেও সে তেজগাঁও এলাকার ছিনতাইকারী ছিল।

আদনানের পরিবারের দাবি, সেদিন এই আবাসিক এলাকার মধ্যে আদনানকে হামলা করা হলেও তাকে বাঁচাতে কেউ আসেনি। অথচ তখন রাস্তায় লোকজন ছিল, পাশের বাড়িরগুলোর বারান্দা থেকেও অনেকে দেখেছেন এই ঘটনা। এছাড়া আদনানের ওপর হামলার আগে ডিসকো গ্রুপের সদস্যরা হাতে লাঠি আর রড নিয়েও ছবিও আপলোড করে ফেসবুকে।

আদনানের ওপর হামলাকারী সাদাফ, শুদ্ধ, রবিউল ও জিহান ১৫ নম্বর বাড়ির কেয়ারকেটার রশিদ আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি ঘটনার সময় ছিলাম না। পরে এই ঘটনার কথা শুনেছি।’ তবে পাশের বাসার আরেকজন বলেন, ‘আমি ঘটনার সময় সামনে ছিলাম না। চিৎকার শুনে সামনে এসে দেখি, দুইজন মহিলা রিকশায় করে কাউকে নিয়ে যাচ্ছে। পরে শুনি এই ঘটনা।’

স্থানীয় কলেজের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘এই গ্রুপের দ্বন্দ্ব মূলত উত্তরা এলাকাকে নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে। দুটি গ্রুপই এলাকাতে খুবই তৎপর। তারা বিকট শব্দে বাইক চালায়, পার্টি করে, মাদকের আড্ডা দেয় এবং স্কুল-কলেজের ছাত্রীদের নিয়মিত উত্যক্ত করে। যেকোনও ঘটনায় এরা নিরীহদের হেনস্তা করে, তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলার নেই। কথা বলতে গেলেই তাকে পেটানো হয়। তাই ভয়ে এদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলে না।’

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, নাঈমুর রহমান অনিক, সাদাফ জাকির, রায়হান আহম্মেদ সেতু, রবিউল ইসলাম, আক্তারুজ্জামান ছোটন, আহম্মেদ জিয়ান, নাজমুস সাকিব, নাফিজ মো. আলম ওরফে ডনের নামসহ আরও ১২ জনকে আসামি করে মামলা করেছে আদনানের বাবা কবির হোসেন।

উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (অপারেশন) মো. শাহ আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নিহত আদনান এক সময় নাইন স্টার গ্রুপের সদস্য ছিল বলে আমরা জানতে পেরেছি। ঘটনার দিন ডিসকো গ্রুপের সদস্যরা ১৩ নম্বর সেক্টরেই অবস্থান নিয়েছিল। আর নাইন স্টার গ্রুপের মধ্যে একা আদনান ছিল। যার কারণে ওরা ওকে একা পেয়ে এই ঘটনা ঘটিয়েছে।’

এদিকে এই মামলায় দু’জনকে এরই মধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে জানিয়ে মো. শাহ আলম বলেন, ‘দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতার করার জন্য আমরা অভিযান চালাচ্ছি। তাদের প্রত্যেকের ফেসবুক আইডি রয়েছে। আর তাদের স্থায়ী ঠিকানাও আছে আমাদের কাছে। ফেসবুক আইডি ধরে তাদের লোকেশন নিয়ে উপ-পরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহীন মিয়া তাদের গ্রেফতার করার চেষ্টা করছে।’

শাহ আলম আরও জানান, যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাদের মধ্যে নাফিজ ওরফে ডন নামের একজনকে একদিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। আরেক আসামি সাদাফের বয়স কম বলে তাকে আদালত তার রিমান্ড না দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তাকে গাজীপুরের কিশোর সংশোধন কেন্দ্রে পাঠানো হবে।

/টিআর/এমও/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বাংলাদেশের বিজয়ে রাষ্ট্রপতির অভিনন্দন
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বাংলাদেশের বিজয়ে রাষ্ট্রপতির অভিনন্দন
ইরানে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল: খামেনি
ইরানে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল: খামেনি
ডেঙ্গুর চরম ঝুঁকিতে ঢাকা দক্ষিণ সিটির ২৭টি ওয়ার্ড
ডেঙ্গুর চরম ঝুঁকিতে ঢাকা দক্ষিণ সিটির ২৭টি ওয়ার্ড
রামিসা হত্যা: সর্বোচ্চ সাজা চায় রাষ্ট্রপক্ষ, লঘুদণ্ডের দাবি আসামিপক্ষের
রামিসা হত্যা: সর্বোচ্চ সাজা চায় রাষ্ট্রপক্ষ, লঘুদণ্ডের দাবি আসামিপক্ষের
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের