নারীদের কর্মস্থলে শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র গড়ার দাবি

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
০৩ মার্চ ২০১৭, ২৩:৩৮আপডেট : ০৩ মার্চ ২০১৭, ২৩:৩৮

মতবিনিময় সভায় নারী সংহতির সদস্য ও অতিথিরা শিশুর নিরাপদ শৈশব এবং নারীর সৃজনশীল সত্তার বিকাশে পাড়া-মহল্লায়, কর্মস্থলে ও কারখানায় মানসম্মত শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছে গণসংহতি আন্দোলনের সহযোগী সংগঠন বিপ্লবী নারী সংহতি। আন্তর্জাতিক নারী দিবসকে সামনে রেখে শুক্রবার (৩ মার্চ) ‘ডে-কেয়ার শিশুর নিরাপদ শৈশব ও নারীর সত্তার বিকাশ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এ দাবি তোলা হয়।

রাজধানীর ২ পুরানা পল্টন মুক্তি ভবনের প্রগতি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত মতবিনিময়ে বক্তারা বলেন, ‘নিউইয়র্কের নারী শ্রমিকের মজুরি বৈষম্য, নির্দিষ্ট শ্রম ঘণ্টা এবং মাতৃত্বকালীন ছুটিসহ অন্যান্য দাবিতে মাঠে নেমে প্রতিবাদ করতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হওয়ার ইতিহাসের বয়স শত বছরেরও বেশি। তারপর থেকে আজ পর্যন্ত নারী দিবস পালিত হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু নারীরা মানুষ ও নাগরিক হিসেবে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত। এখনও মাতৃত্বকালীন ছুটি এবং ডে-কেয়ারের মতো গুরুত্বপূর্ণ দাবি পূরণ করতে সক্ষম হয়নি দেশ।’

বক্তারা আরও বলেন, “বর্তমান সময়ের একক পরিবার ও সমাজ কাঠামোয় সবার দমবন্ধ দশা। আর ‘মা নারী’ যদি হয় খেটে খাওয়া কিংবা কর্মজীবী বা কৃষক তাহলে তার দায়-দায়িত্বের কঠিন চাপ ভাগ করে নেওয়ার জন্য পরিবার, রাষ্ট্র কিংবা সমাজ পাশে দাঁড়ায় না। বাস্তবতার এ সংকট কাটাতে শিশুর নিরাপদ শৈশব এবং নারীর সৃজনশীল সত্তার বিকাশে পাড়া-মহল্লায় এবং কর্মস্থলে-কারখানায় পর্যাপ্ত মানসম্মত শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।”

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক নাসিম আখতার হোসাইন বলেছেন, ‘শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র কেবল শিশুর নিরাপত্তা বা পেশাজীবী নারী-পুরুষের জন্যই দরকার তা নয়, এটি নারী মুক্তির লড়াইয়েরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি। নারীর প্রকৃত ক্ষমতা ও অধিকারের সঙ্গে অত্যাবশ্যকভাবে তার শিক্ষা, উপার্জন, সুস্বাস্থ্য, জ্ঞান ও দক্ষতার চর্চা জরুরি। শিশু লালন-পালনের দায় রাষ্ট্র ও সমাজ যথাযথভাবে না নেওয়ার কারণে নারী পিছিয়ে পড়ছে কর্মজীবনে। একই সঙ্গে সৃষ্টিশীল ও নীতি নির্ধারণী কাজে এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বে নারীর উপস্থিতির স্বল্প হয়ে আসছে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক আহমেদ কামাল বললেন, ‘শ্রম আইনে কর্মক্ষেত্রে ৪০-এর অধিক কর্মী হলে শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র থাকার কথা থাকলেও রাষ্ট্রের উদাসীনতার কারণে বাস্তবে এর বাস্তবায়ন দেখা যায় না। শ্রমজীবী মেহনতি এবং মধ্যবিত্ত সব নারী ডে-কেয়ারের অভাবে নিজেদের সন্তান নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভোগেন। পোশাকশিল্প শ্রমিকদের অধিকাংশই তাদের বাচ্চাকে নিজের কাছে পর্যন্ত রাখতে পারে না কম আয় করে বলে।’

সংগঠনের পক্ষ থেকে বক্তব্য উত্থাপন করেন নারী সংহতির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক কানিজ ফাতেমা। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে দেশে প্রায় দুই কোটি নারী অর্থনৈতিক কাজে সম্পৃক্ত। ভবিষ্যত শ্রমবাজারে যুক্ত হতে পারে তাদের এমন সংখ্যা আরও বহুগুণ। অথচ সরকারি হিসাবে, দেশে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পে এবং রাজস্ব বাজেটের আওতায় ঢাকা ও অন্যান্য জেলা শহরে মাত্র ৪৮টি শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র রয়েছে, যার অধিকাংশের মান নিয়ে রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। প্রতি ৩ লাখ ৮৫ হাজার শিশুর জন্য সরকারিভাবে বরাদ্দ মাত্র একটি করে শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্র।’

নারী সংহতির সাধারণ সম্পাদক অপরাজিতা চন্দ’র পরিচালনায় এবং ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তাসলিমা আখতারের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে আরও অংশগ্রহণ করেন অধ্যাপক আনন্দময়ী মজুমদার, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির নারী সেলের আহ্বায়ক লক্ষ্মী চক্রবর্তী, আইনজীবী আইনুন নাহার লিপি, নারী মুক্তি কেন্দ্রের সভাপতি সীমা দত্ত, সমাজতান্ত্রিক মহিলা ফোরামের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী শম্পা বসু, পোশাক শ্রমিক রুপালি আখতার ও খালেদা আক্তার, গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য ফিরোজ আহমেদ, আলাকচিত্রী মুনিরা মোর্শেদ মুন্নি, সাদেকা চৌধুরী জুঁই, মিথিলা মাহফুজসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ব্যক্তিরা।

/এসটিএস/জেএইচ/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
কর্মসংস্থান রক্ষায় ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল আনলো বাংলাদেশ ব্যাংক
কর্মসংস্থান রক্ষায় ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল আনলো বাংলাদেশ ব্যাংক
মহাকাশ কম্পিউটিংয়ের প্রথম উদ্ভাবন কেন্দ্রের অনুমোদন চীনের
মহাকাশ কম্পিউটিংয়ের প্রথম উদ্ভাবন কেন্দ্রের অনুমোদন চীনের
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বজ্রাঘাতে ৬ জনের মৃত্যু, ৪ জনই গিয়েছিলেন আম কুড়াতে
চাঁপাইনবাবগঞ্জে বজ্রাঘাতে ৬ জনের মৃত্যু, ৪ জনই গিয়েছিলেন আম কুড়াতে
বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় আইনের সংশোধন খসড়া অনুমোদন
বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় আইনের সংশোধন খসড়া অনুমোদন
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী