বিনাচিকিৎসায় মৃত্যু হয় ৮০ ভাগ কিডনি রোগীর!

জাকিয়া আহমেদ
০৯ মার্চ ২০১৭, ১০:৫৫আপডেট : ০৯ মার্চ ২০১৭, ১২:৪৩

কিডনি বাংলাদেশে কিডনি রোগীদের ৮০ শতাংশই বিনাচিকিৎসায় মারা যান। তবে একটু সচেতন হলেই এই সংখ্যা অনেক কমিয়ে আনা সম্ভব বলেও মনে করেন কিডনি বিশেষজ্ঞরা।

জাতীয় কিডনি ফাউন্ডেশনের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে,  বাংলাদেশে বর্তমানে কিডনি রোগে আক্রান্ত প্রায় ২ কোটি মানুষ, যা মোট জনসংখ্যা ১৭ শতাংশ। যাদের মধ্যে- ডায়াবেটিস জনিত কারণে ৪১ ভাগ, উচ্চ রক্তচাপের কারণে ৩৩ ভাগ, সংক্রমণজনিত কারণে ২৫ ভাগ এবং অন্যান্য কারণে এক ভাগ মানুষ কিডনি রোগে আক্রান্ত হন। আর মোট রোগীর ২০ ভাগ রেনাল রিপ্লেসমেন্ট থেরাপির আওতায় আসলেও ৮০ ভাগ কিডনি রোগী চিকিৎসা না পেয়ে মারা যান। যাদের মধ্যে ৩৫ হাজার রোগীর কিডনি স্থায়ীভাবে অকার্যকর হয়ে যায়।

এছাড়াও দেশে আকস্মিকভাবে কিডনি রোগে আক্রান্ত হন ১৫/২০ হাজার এবং ধীরগতিতে আক্রান্ত হন ৩০/৪০ হাজার মানুষ। যাদের মধ্যে ডায়ালাইসিস করে বেঁচে আছেন ৮/১০ হাজার মানুষ।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নেফ্রোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ডা. শহীদুল ইসলাম সেলিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের দেশে কিডনি রোগীর সংখ্যা দিনকে দিন বেড়েই চলেছে। এর জন্য ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, নেফ্রাইটিস ও পেইনকিলার ওষুধ সেবনই দায়ী।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশের গ্রাম, থানা, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের হাসপাতাল এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কিডনি বিশেষজ্ঞের সংখ্যা অনেক কম। ফলে কিডনি রোগীরা সঠিকভাবে চিকিৎসা পান না। প্রাথমিক অবস্থাতেই যদি এসব রোগীকে উপযুক্ত চিকিৎসা দেওয়া যায় তবে কিডনিরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা কমে আসবে।’

গত ২৯ নভেম্বর কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান হামিদা খাতুন (৫৫) নামের এক নারী। তার স্বামী মোতাহার মিয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘টাকার অভাবে স্ত্রীর সঠিক চিকিৎসা করাতে পারিনি।’

দেশে ১৯৮২ সালে প্রথম কিডনি ট্রান্সপ্লান্টেশন শুরু হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ)। এ পর্যন্ত সেখানে ৫০৫টি কিডনি প্রতিস্থাপন করা হয়। বর্তমানে এখানে কিডনি প্রতিস্থাপনে খরচ হয় এক লাখ ৬০ হাজার টাকা। আর ভারতে খরচ হয় ২০/৫০ লাখ টাকা।

কিডনি বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আমাদের দেশে কিডনি দাতার সংখ্যা কমে যাচ্ছে। দেশে কিডনি প্রতিস্থাপনে নিকট আত্মীয়ের কাছ থেকে কিডনি নেওয়া হয়। পরবর্তীতে যারা নানা সমস্যায় ভোগেন। তবে কিডনি প্রতিস্থাপনের জন্য আইন সংশোধন করে দাদা-দাদি, নানা-নানি, নাতী-নাতনী ও কাজিনদেরও ডোনার পুলে অর্ন্তভুক্ত করতে হবে।

কিডনি ফাউন্ডেশনের মেডিক্যাল অফিসার ডা. মঈনুল খোকন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের দেশে কিডনীদাতার সংখ্যা নির্ধারিত কয়েকজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ। নির্ধারিত ১২ জনের বাইরে ইচ্ছা করলেও কেউ কিডনি আক্রান্ত রোগীকে কিডনি দিতে পারেন না। এই সীমাবদ্ধতা দূর করা দরকার।’

তিনি আরও বলেন, ‘কিডনি রোগ নিয়ন্ত্রণে রোগীকে ওজোন নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত পরিমান স্বাস্থ্যসম্মত খাবার গ্রহণ, নিয়মিত ব্যায়াম এবং ধূমপান থেকে বিরত থাকতে হবে। রোগ হওয়ার পর চিকিৎসা করার চেয়ে রোগ যাতে না হয় সে বিষয়ে সচেতন হলেই কিডনিরোগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।

/জেএ/এসএনএইচ/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
বিশ্ব অর্থনীতির সামনে দুই কঠিন পথ, নেপথ্যে ইরান যুদ্ধ ও এআই সংকট
বিশ্ব অর্থনীতির সামনে দুই কঠিন পথ, নেপথ্যে ইরান যুদ্ধ ও এআই সংকট
এবার পল্লবীতে মিললো আরেক নারীর গলিত মরদেহ
এবার পল্লবীতে মিললো আরেক নারীর গলিত মরদেহ
নিখোঁজ ব্যবসায়ীর হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার
নিখোঁজ ব্যবসায়ীর হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার
ওপেনএআই’র নতুন বাজি ‘কোডেক্স’
ওপেনএআই’র নতুন বাজি ‘কোডেক্স’
সর্বাধিক পঠিত
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম