রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালের লিফটে প্রায় দেড় ঘণ্টা আটকে ছিলেন চিত্রশিল্পী মুর্তজা বশীর ও তার ছেলে মেহরাজ বশীর। রবিবার (৭ মে) রাত ১০টা ১০ মিনিট থেকে দেড় ঘণ্টা তারা লিফটে আটকা পড়েছিলেন বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে জানিয়েছেন তার মেয়ে মুনীরা বশীর। বাংলা ট্রিবিউনকেও তিনি এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে অ্যাপোলো হাসপাতালের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা রবিবার রাতে লিফট বিকল হয়ে পড়ার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘এ কারণে শিল্পী মুর্তজা বশীর সেখানে আটকে পড়েছিলেন।’
সোমবার (৮ মে) ফেসবুক স্ট্যাটাসে এ ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন মুনীরা বশীর। তিনি লিখেছেন, “আমার বাবা মুর্তজা বশীর এবং ভাই মেহরাজ বশীরসহ আরও চার-পাঁচ জন অ্যাপোলো হাসপাতালের ফুড কোর্টের লিফটে রাতে ১০টা ১০ মিনিট থেকে দেড় ঘণ্টা আটকে ছিলেন। খবর পাওয়ার পর কাউকে খুঁজে পাইনি যার কাছে সহযোগিতা চাওয়া যায়। আমার বোন মুনীজা বশীর নিরাপত্তা রক্ষীকে বলার পরও তারা কোনও গুরুত্ব দেয়নি। রিসিপশনে জানানোর পর তারাও খুব নির্লিপ্ত ছিল। শেষমেষ ডিউটি ম্যানেজারকে কল করার পর পাওয়া গেল। ডিউটি ম্যানেজারের একই কথা— ‘চেষ্টা চলতেছে, ধৈর্য ধরেন।’ কী করে ধৈর্য ধরবো? আমার চোখের সামনে আম্মা কান্না ভেঙে পড়ছিলেন, আরেকদিকে বাবা আর ভাই লিফটে আটকে আছেন। আমার বোন আর আমি পাগলের মতো ইমার্জেন্সিতে আম্মার কাছে আর ফুড কোর্টের লিফটের কাছে কতবার যে ছুটোছুটি করেছি তা আল্লাহ মালিক জানেন।”
চিত্রশিল্পী মুর্তজা বশীরসহ আটকে পড়াদের উদ্ধারে অ্যাপোলো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দ্রুততার সঙ্গে কোনও ইতিবাচক পদক্ষেপ নিতে পারেনি বলে মন্তব্য করেন মুনীরা বশীর। স্ট্যাটাসে তিনি আরও লিখেছেন, ‘এখানে ভালো টেকনিশিয়ান নেই। লিফটে আটকানোর প্রায় ৪৫ মিনিট পর লিফট মেরামতের জন্য লোক আসে। এর মধ্যে তাদের উদ্ধার করার জন্য আমার ভাইয়ের স্ত্রী রেজওয়ানা রহিম যোগাযোগ করেন ফায়ার ব্রিগেডে। বাবা কৃত্রিম অক্সিজেন বহন করেন, কারণ তিনি শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। লিফটে কোনও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ছিল না। বাতাস চলাচলের কোনও ব্যবস্থাও নেই। লিফটের বাইরে থাকা ইমার্জেন্সি কল নম্বরে ফোন করলেও কেউ ধরছিল না। তাছাড়া লিফটের অ্যালার্ম বেল বারবার বাজিয়েও কোনও লাভ হচ্ছিল না।’
অবশেষে দেড় ঘণ্টা পর লিফট কোনোরকম ফুড ভিলেজের প্রবেশপথের মাঝামাঝি নেওয়া হয় এবং মুর্তজা বশীরকে হুইলচেয়ারসহ টেনে বের করা হয় বলে জানান মুনীরা বশীর। তিনি বলেন, ‘কপাল ভালো ছিল, বাবাকে আমার ভাই হুইলচেয়ারে ফুড ভিলেজে নিয়ে গিয়েছিল। তা না হলে বাবাকে দেড় ঘণ্টা দম বন্ধ করা লিফটে দাঁড়িয়েই থাকতে হতো। এই ঘটনার দায়িত্ব কে নেবে? এদিকে আম্মা তখন জরুরি বিভাগে! তখন আমার মনের অবস্থাটা চিন্তা করেন।’
ঘটনাটি প্রসঙ্গে মুর্তজা বশীরের সঙ্গে সোমবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমার স্ত্রী এখন মৃত্যুশয্যায়, আমি এখন কথা বলতে পারবো না।’
এ প্রসঙ্গে অ্যাপোলো হাসপাতালের ফ্যাসিলিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার সাজেদুল ইসলাম খান সোমবার রাতে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘একযুগে আমাদের এখানে লিফটে কারও আটকে পড়ার ঘটনা এবারই প্রথম ঘটলো। রবিবার রাতে লিফটের দুটি পাশই ব্লক হয়ে গিয়েছিল। খবর পেয়ে আমরা সেখানে ছুটে গেলেও লিফট খোলা যাচ্ছিল না। কারণ লিফটের সফটওয়্যার সিস্টেম অকেজো হয়ে পড়েছিল। পরে সেটা ম্যানুয়ালি সচলের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। শেষমেষ ভেন্ডরকে ডেকে এনে লিফট সচল করা গেছে।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালটির একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরাও ঘটনাটি শুনেছি, তারা ফুড ভিলেজের লিফটে আটকে পড়েছিলেন। পরে শুনেছি লিফটটি নষ্ট ছিল। যদিও রাতে সেটি সচল করা হয়েছে এবং আজ (সোমবার) সারাদিন মানুষ ওঠানামা করেছে।’
এদিকে অ্যাপোলো হাসপাতালের লিফটে শিল্পী মুর্তজা বশীরের লিফটে আটকে থাকার ঘটনায় ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে।
/জেএইচ/








