সাধারণ মানুষকে জঙ্গিবাদে আকৃষ্ট করার জন্য বিভিন্ন উপায় ব্যবহার করে জঙ্গিরা। এর মধ্যে একটি হচ্ছে বইয়ের মাধ্যমে নতুন সদস্যদের উদ্বুদ্ধ করা। নতুন কারও সঙ্গে পরিচয় হওয়ার পর তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে কিছু বই লেনদেন করে তারা। এসব বইয়ের প্রতি সেই ব্যক্তির যাতে আকর্ষণ সৃষ্টি হয় সেজন্য বইগুলোর নামও দেওয়া হয় ‘জান্নাতের পাসপোর্ট বা আখিরাতের পাসপোর্ট’ ধরনের। গত শনিবার (১০ জুন) নারায়ণগঞ্জ থেকে সারোয়ার-তামিম গ্রুপের শুরা সদস্য ও গার্মেন্ট ব্যবসায়ী ইমরান আহমেদকে (৩৭) আটকের পর র্যাব এ তথ্য জানিয়েছে।
গত ১০ জুন নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থেকে সারোয়ার-তামিম গ্রুপের শুরা সদস্য ও গার্মেন্ট ব্যবসায়ী ইমরান আহমেদ (৩৭) ও তার এক সহযোগী শামীম মিয়াকে আটক করে র্যাব। এসময় তারা ইমরানের সংগ্রহে থাকা বেশ কিছু বই উদ্ধার করেন। রবিবার এ বিষয়ে প্রেস ব্রিফিং করে সংস্থাটি।
র্যাবের দাবি, জঙ্গিবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়াতে ও নতুন সদস্যদের এ বিষয়ে উদ্বুদ্ধকরণের কাজে এসব বই ব্যবহার করা হয়।
তার সংগ্রহ থেকে উদ্ধার বইগুলো হলো জান্নাতের পাসপোর্ট, আখিরাতের পাসপোর্ট, পরকালের পাসপোর্ট, তিনটি মতবাদ, ফিরক্বাহ নাজিয়াহ, জিহাদ ও ক্বিতাল, দাওয়াত ও জিহাদ, ইসলামী সমাজ বিপ্লবের ধারা, ছবি ও মূর্তি, তায্কিয়াতুন নুফুস, চাই- তাআ’ল্লুক মাআ’ল্লাহ, সিফাতু ইবাদির রাহমান, ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব, অধিকাংশ লোক আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা সত্ত্বেও মুশরিক, ওদের মৃত বলো না. .’ ইত্যাদি।
এসব বই সম্পর্কে র্যাব-১১-এর কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল কামরুল হাসান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এরা এই বইগুলো মূলত নতুন সদস্যদের উদ্বুদ্ধকরণের কাজে ব্যবহার করে। তবে সবগুলো বই যে একই কাজে ব্যবহার হয় তা নয়। তবে জান্নাতের পাসপোর্ট বা আখিরাতের পাসপোর্ট নাম দিয়ে একটা আকর্ষণ তৈরি করে। প্রাথমিকভাবে এসব বই লেনদেন করার পর উদ্বুদ্ধকরণের বইগুলো পরে সরবরাহ করা হয়।’
বাজারে এসব বই পাওয়া যায় কিনা এমন প্রশ্নে কামরুল হাসান বলেন, ‘এগুলো সব জায়গায় পাওয়া যায় এমন না। তবে ক্ষুদ্র পরিসরে এগুলো বিক্রি হয়। আর এগুলো নিষিদ্ধও না। ফলে বিক্রি হতে পারে।’
র্যাবের মুখপাত্র মুফতি মাহমুদ খান সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘ইমরান আহমেদ বাসা, অফিস ও ফ্যাক্টরি এই তিনটি জায়গাতে জঙ্গিবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিভিন্ন উগ্র মতবাদের বই সংগ্রহ করে রেখেছিল। সে প্রায় ৩৫-৪০টি দেশে ভ্রমণ করেছে। বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে সে এসব বই সংগ্রহ করে নিজের কাছে রাখতো। এইগুলো মাধ্যমে সে অন্যদের মোটিভেটের (উদ্বুদ্ধকরণের) কাজটা করে থাকে।’
এর আগে গত ১১ এপ্রিল কুরআন ও হাদিসের অপব্যাখ্যা ঠেকাতে জঙ্গিবাদবিরোধী বই প্রকাশ করে র্যাব। ‘কতিপয় বিষয়ে জঙ্গিবাদীদের অপব্যাখ্যা এবং পবিত্র কুরআনের সংশ্লিষ্ট আয়াত ও হাদিসের সঠিক ব্যাখ্যা’ শীর্ষক বইটি প্রকাশ করা হয়।
বইটি সম্পর্কে র্যাবের পক্ষ থেকে বলা হয়, কুরআনের আয়াত ও হাদিসের অপব্যাখা দিয়ে জঙ্গিরা এ দেশের যুবসমাজের একটি অংশকে রাষ্ট্রদ্রোহী কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করছে। তাদের এসব অপব্যাখ্যার সঠিক ব্যাখ্যাসহ জঙ্গিবাদবিরোধী এই বইটি প্রকাশ করেছে র্যাব। জঙ্গিদের অপব্যাখ্যার বিপরীতে দেশের জ্ঞানী আলেমদের মতামতের ভিত্তিতে সঠিক ব্যাখ্যাসহ বইটি প্রকাশ করা হয়েছে।
/আরজে/টিএন/








