ক্ষমতার অপপ্রয়োগ করে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই নিজ প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে তার অপব্যবহার করায় সানম্যান গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের মহাসচিব মেজর (অব.) আব্দুল মান্নানসহ ১১জনের বিরুদ্ধে মুদ্রাপাচার আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ আগস্ট) পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) মতিঝিল থানায় এই মামলাটি দায়ের করে। সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিটের বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্যা নজরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মোল্যা নজরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মতিঝিল থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। আমরা আসামিদের গ্রেফতারে চেষ্টা করছি।’
সিআইডি’র তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ভাই-বোন, স্ত্রী, সন্তান, শ্যালক ও আত্মীয়স্বজনের নামে শ্যাডো অ্যাকাউন্ট খুলে মোটা অঙ্কের টাকার ঋণ নিয়েছেন মেজর (অব.) আবদুল মান্নান। নিজ প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফিন্যান্স কোম্পানি লিমিটেড (বিআইএফসি) থেকে ওই ঋণ নেওয়া হয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থার কোনও অনুমোদন ছাড়াই। চলতি বছরের মার্চ মাসে সিআইডি অনুসন্ধানে ঋণগ্রহণে জালিয়াতির প্রাথমিক প্রমাণ পায়। দীর্ঘ তদন্ত শেষে অবশেষে মামলা করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, ‘যাদের নামে অ্যাকাউন্ট খুলে ঋণ নেওয়া হয়েছিল, তাদের সবাইকে চিহ্নিত করা হয়েছে। কোনও অ্যাকাউন্ট থেকে কতটাকা নেওয়া হয়েছে, এসব অর্থ কোথায়, কিভাবে গেছে, তাও তদন্ত করা হয়েছে। কংক্রিট তথ্যের পর আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সিআইডির দীর্ঘ অনুসন্ধানের আগে আব্দুল মান্নানের ঋণ কেলেঙ্কারির বিষয়টি প্রথম অনুসন্ধান করে বাংলাদেশ ব্যাংক।
মুদ্রাপাচার আইনে সিআইডি’র দায়ের করা মামলার আসামিরা হলেন, বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফিন্যান্স কোম্পানি লিমিটেড (বিআইএফসি) সাবেক এমডি ইনামুর রহমান, সাবেক এসএভিপি এবং বিআইএফসি লিমিটেডের ইউনিট প্রধান আহম্মেদ করিম চৌধুরী, বিআইএফসির সাবেক ব্যবসা প্রধান সৈয়দ ফাখরী ফয়সাল, বিআইএফসির সাবেক চেয়ারম্যান মেজর (অব.) আবদুল মান্নান, তার স্ত্রী বিআইএফসির সাবেক চেয়ারম্যান উম্মে কুলসুম, মেজর (অব.) আবদুল মান্নানের শ্যালক বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল গেটওয়ে লিমিটেডের পরিচালক রইস উদ্দীন, বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল গেটওয়ে লিমিটেডের পরিচালক রিজিয়া সুলতানা, বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল গেটওয়ে লিমিটেডের পরিচালক আকবর হোসেন, আমিনুর রহমান খান, মেজর (অব.) আবদুল মান্নানের মেয়ে তানজিলা মান্নান এবং ১১ নম্বর আসামি মেজর (অব.) আবদুল মান্নানের আরেক মেয়ে তাজরিনা মান্নান।
মেজর (অব.) আবদুল মান্নানের ঋণজালিয়াতির বিষয়টি প্রথম উঠে আসে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুসন্ধানে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুসন্ধানে ধরা পড়ে, মেজর (অব.) আবদুল মান্নানের মালিকানাধীন সানম্যান গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান বিআইএফসি থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে ৫১৮ কোটি টাকা তুলে নেন তিনি। এরপর ছয় মাস সময় দেওয়ার পরও তা পরিশোধ করেননি। ঋণ জালিয়াতির বিষয়টি দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগ থেকে ২০১৫ সালের ২২ ডিসেম্বর বিআইএফসির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানের কাছে এ ব্যাপারে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। সন্তোষজনক জবাব না পাওয়ায় ওই মাসেই বিআইএফসির পরিচালনা পরিষদ ভেঙে দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। একইসঙ্গে ঋণ জালিয়াতির বিষয়টি নিবিড় অনুসন্ধানের জন্য সিআইডিতে পাঠানো হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে মেজর (অব.) আবদুল মান্নানের ঋণ জালিয়াতির বিষয়টি গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে তদন্ত শুরু করে সিআইডি। দীর্ঘ তদন্ত শেষে যথাযথ তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে মামলা করে সংস্থাটি।
/এমএনএইচ/








