‘পিলখানায় হত্যাকারীদের মুখ্য উদ্দেশ্য ছিলো তৎকালীন বিডিআরকে অফিসার শূণ্য করা। সামরিক বাহিনী থেকে বাহিনীতে কোনও অফিসার আসবে না, এটাই ছিলো তাদের স্লোগান। তাই আদালত আসামিদের সঠিক সাজাই দিয়েছেন।’ সোমবার পিলখানা হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় ঘোষণার পর অ্যাটর্নি জেনারেল তার নিজ কার্যালয়ে এসব কথা বলেন।
সাজার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৫২ জনের মধ্যে আপিল চলাকালে ১ জন মারা গিয়েছিলেন। ১৫২ জনের মধ্যে আপিলে ৮ জনের মৃত্যুদণ্ড থেকে দণ্ড কমিয়ে যাবজ্জীবন দেওয়া হয়েছে। ৪ জন আসামিকে খালাস দিয়েছেন। ফলে ১৩৯ জন আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। ১৬০ জন যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির মধ্যে আপিল চলাকালে ২ জন মারা গেছে। হাইকোর্ট বিভাগ ১৪৬ জনের যাবজ্জীবন বহাল রেখেছেন, ১২ জনকে খালাস দিয়েছেন।’
অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, পিলখানায় নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়েছিল ঢাকার সেশন (দায়রা) জজ আদালতে। আদালত মোট ১৫২ জনকে ফাঁসি, ১৬০ জনকে যাবজ্জীবন ও ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করেছিলেন। এই দণ্ড প্রদানের পর সেশন কোর্ট থেকে ডেথ রেফারেন্স পাঠানো হয় সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে এবং এ মামলা শুনানির জন্য ৩ জন বিচারপতির সমন্বয়ে একটি বেঞ্চ গঠন করা হয়। বিগত ৩৭০ কার্যদিবস এ মামলার শুনানি হয় হাইকোর্টে। দীর্ঘ শুনানির পর রবিবার (গতকাল) থেকে রায় দেওয়া শুরু হয়, আজ সোমবার রায়ের দণ্ড (অংশ) পড়ে শোনানো হয়।
মাহবুবে আলম আরও বলেন, ‘এছাড়া ২৫৬ জন যাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল তাদের মধ্যে আপিল চলাকালে ৩ জন মারা গেছেন। ২৮ জন কোনও আপিল করেননি। ১৮২ জনকে ১০ বছর কারাদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে। ২ জনকে ১৩ বছর কারাদণ্ড, ৮ জনের ৭ বছর কারাদণ্ড এবং ২৯ জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।’
এছাড়া নিম্ন আদালতে খালাস পাওয়া ৬৯ জনের বিরুদ্ধে আমরা (রাষ্ট্রপক্ষ) আপিল করেছিলাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই ৬৯ জনের মধ্যে আমাদের আপিল আংশিক মঞ্জুর করা হয়েছে। অর্থাৎ ৬৯ জনের মধ্যে ৩১ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড, ৪ জনকে ৭ বছর কারাদণ্ড এবং ৩৪ জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, “এ মামলায় গত দু’দিন রায় প্রকাশের সময় আদালত কিছু অভিমত দিয়েছেন। এতে বিজিবি সদস্যদের যেন ‘ডাল-ভাতের’ মতো কোনও কর্মসূচিতে নিয়োজিত করা না হয়, তা বলা হয়েছে। এই বাহিনীর মধ্যে যারা সদস্য রয়েছেন তাদের একে অপরের মধ্যে সম্পর্ক যাতে আরও উন্নত করা যায় সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছেন। এই বাহিনীর যেকোনও অভাব-অভিযোগের দিকে যেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নজর রাখেন সে ব্যাপারে বলা হয়েছে। বাহিনীর সদস্যদের ছুটি বা অন্যান্য বিষয়গুলো খুব সহানুভূতির সঙ্গে দেখতে বলা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আদালত বলেছেন তৎকালীন বিডিআরের যে সিকিউরিটি ইউনিট ছিল, কেন তারা উপযুক্ত সময়ে সরকারকে বিদ্রোহের তথ্য দিতে পারেনি, এগুলো খুঁজে বের করতে একটি কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে।’
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কোনও আসামি যদি আপিল করেন তাহলে আপিল শুনতে হবে আদালতকে। যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ক্ষেত্রেও এটা প্রযোজ্য। এই দণ্ডপ্রাপ্তরা যদি আপিল করেন তাহলে আপিল বিভাগ এটা শুনবেন বলেও তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, ‘৫৭ জন উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তা যারা সম্পূর্ণ নির্দোষ, তাদের যেভাবে হত্যা করা হয়েছে বিশ্বের আরকোনও দেশে তা ঘটেনি। সরকারের বুদ্ধিমত্তার কারণে, অনতিবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার কারণে এ বিচার করা সম্ভব হয়েছে এবং এ বিদ্রোহ দমন করা সম্ভব হয়েছে।’
এই রায়ের বিরুদ্ধে কোনও আপিল করা হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পূর্ণাঙ্গ রায় দেখার পর খালাসপ্রাপ্তদের বিষয়ে আপিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’








