বিলের টাকার জন্য নবজাতককে হাসপাতালে আটকে রাখার অভিযোগ

রাফসান জানি
০৭ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৯:২০আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০১৭, ১৯:৩৪

ভুক্তভোগী রিকশাচালক বেলাল হোসেন ও তার স্ত্রী

দালালের ফাঁদে পড়ে নবজাতক শিশুকে নিয়ে বেসরকারি হাসপাতালে গিয়েছিলেন রিকশাচালক বাবা। সেখানে চিকিৎসা শেষে মোটা অংকের বিলের টাকা দিতে না পারায় শিশুটিকে ছাড়পত্র দিচ্ছে না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। রাজধানীর মোহাম্মদপুরের কেয়ার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন শিশুটির বাবা বেলাল হোসেন ও তার স্ত্রী মুন্নী।

বৃহস্পতিবার (৭ ডিসেম্বর) বেলাল হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, গত ৩ ডিসেম্বর তার ছেলে সন্তানের জন্ম হয়। এরপর কিছু সমস্যা দেখা দিলে তিনি প্রথমে শ্যামলী শিশু হাসপাতাল ও পরে সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু অক্সিজেনের ব্যবস্থা নেই বলে অন্য কোথাও চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে দুই হাসপাতাল থেকেই তাদের ফেরত দেওয়া হয়।

এ অবস্থায় সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ‘বড় খালা’ নামে পরিচিত একজন নারী তাদের একটি ভিজিটিং কার্ড দেন। ওই কার্ডের নম্বরে কল দেওয়ার পর খুব কম খরচে চিকিৎসা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয় এবং সঙ্গে সঙ্গে একটি অ্যাম্বুলেন্সও পাঠানো হয়। খরচের ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে মোবাইলের অপর প্রান্ত থেকে জানানো হয়, দুই তিন হাজারে বেশি খরচ হবে না। অসহায় রোগীদের অনেকটা বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হয় বলেও জানানো হয় তখন। এ আশ্বাসের পর রাজধানীর মোহাম্মদপুরে কেয়ার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শিশুটিকে ভর্তি করানো হয় বলে জানান রিকশাচালক বেলাল হোসেন।

এই সেই ভিজিটিং কার্ড

কিন্তু দুই দিন চিকিৎসার পর ৫ ডিসেম্বর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায় যে, ৩৪ হাজার ৬৫০ টাকা বিল হয়েছে। যা শুনে মাথায় বাজ পড়ে বেলাল হোসেনের। টাকার সংগ্রহ করতে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যান তিনি। কিন্তু টাকার কোনও ব্যবস্থা করতে না পেরে আর হাসপাতালে ফেরেননি। বেলাল হাসপাতালে ফিরছে না দেখে স্ত্রী মুন্নিকে হুমকি দেয় হাসপাতালের লোকজন।

এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, গত দুইদিন ধরে শিশুটির বাবা-মাকে পাওয়া যাচ্ছে না। তাদের বিল পঞ্চাশ হাজারের বেশি হয়েছে।

শিশুটির মা মুন্নি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ওরা (হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ) বলেছে, টাকা না দিলে আমার ছেলেকে বিক্রি করে দেবে। আমি খাবার আনার নাম করে আমার স্বামীকে খুঁজতে বেরিয়ে এসেছি। এখন আমি আমার ছেলেকে দেখতেও যেতে পারছি না। গেলেই আমাদের বেঁধে রাখবে।’ 

এ ব্যাপারে শিশুর বাবা বেলাল হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি ভয়ে আছি, আমার ছেলেকে ওরা দেবে না। আর আমি এতো টাকা কোথায় পাব। আমার সঙ্গে ফোনে যে কথা বলেছিল, সে বলেছিল, দুই-তিন হাজার টাকা খরচ হবে। এখন হাসপাতাল থেকে বলছে ৩৫ হাজার টাকা বিল হয়েছে। আমি রিকশা চালাই, আর আমার স্ত্রী মানুষের বাসায় কাজ করে। আমার তো এতো টাকা নেই।’

প্রথম দুই দিনের বিলের হিসাব

এদিকে বড় খালার দেওয়া ভিজিটিং কার্ডে যার পরিচয় দেওয়া রয়েছে তিনি হলেন, বাংলাদেশ ট্রমা স্পেশালাইজড হাসপাতালের অ্যাসিসট্যান্ট ম্যানেজার মো. তাজুল ইসলাম (পলাশ)। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাকে রবিবার একজন ফোন করেছিলেন। আমি বলেছিলাম আমাদের ট্রমাতে আসার জন্য। কিন্তু তারা আসেন নি। তারা গেছেন কেয়ার হাসপাতালে।’






ভিজিটিং কার্ডের ব্যাপারে পলাশ বলেন, ‘আমার সঙ্গে সোহরাওয়ার্দীর মেডিক্যালের কয়েকজন ডাক্তারের পরিচয় আছে। তাদের কাছে আমার ভিজিটিং কার্ড আছে। তারা হয়তো দিতে পারেন। কিন্তু বড় খালা নামে কারও কাছে আমার কোনও ভিজিটিং কার্ড দেইনি। উনি কোথায় থেকে পেয়েছেন জানি না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমি সাহায্য করার জন্য উনাদের বলেছিলাম আমাদের এখানে আসতে। কিন্তু তারা তো আসেন নি। এখন তারা কোথায় গিয়ে কি করেছেন সেটা আমার জানা নাই।’

কেয়ার মেডিক্যালের নথি

এ ব্যাপারে কেয়ার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বিলিং সেকশনের এক্সিকিউটিভ অফিসার নর কুমার উত্তম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা কাউকে আটকে রাখেনি। শ্বাসকষ্ট নিয়ে রবিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে একটি নবজাতককে ভর্তি করানো হয়েছিল। এখন সে এনআইসিইউ-২ তে ভর্তি আছে। কিন্তু মঙ্গলবার থেকে ওই রোগীর সঙ্গের কাউকে পাওয়া যাচ্ছে না। এখন পর্যন্ত তাদের বিল হয়েছে ৬৪ হাজার ৩৫৪ টাকা। ভর্তির সময় তারা এক হাজার টাকা দিয়েছিলেন। বাকি ৬৩ হাজার ৩৫৪ টাকা বকেয়া রয়েছে। টাকাও পরিশোধ করা হচ্ছে না, পরিবারের কেউও আসছে না।’ 

এ ব্যাপারে মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন মীর বলেন, ‘আমার কাছে এমন কোনও অভিযোগ বা তথ্য আসেনি। আপনার মাধ্যমেই জানতে পারলাম। অভিযোগ এলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’






উল্লেখ্য, বেলালের বাড়ি শরীয়তপুরের বসেরখালি এলাকায়। পরিবার নিয়ে এখন ঢাকাতেই বসবাস করছেন তিনি।


 

 

/আরজে/এএইচ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের মামলাজট নিরসনের উদ্যোগ জোরদারের দাবি মন্ত্রীর
মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের মামলাজট নিরসনের উদ্যোগ জোরদারের দাবি মন্ত্রীর
হাদি হত্যা নিয়ে মন্তব্যের জের, মমতার বিরুদ্ধে মামলা
হাদি হত্যা নিয়ে মন্তব্যের জের, মমতার বিরুদ্ধে মামলা
তীব্র গরমে ৪ জনের মৃত্যু
তীব্র গরমে ৪ জনের মৃত্যু
বজ্রপাতে একদিনে ১২ জনের মৃত্যু
বজ্রপাতে একদিনে ১২ জনের মৃত্যু
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি