নিরাপদ সড়ক ও দুই শিক্ষার্থীকে বাসচাপায় ‘হত্যার’বিচারসহ নয় দফা দাবিতে বৃহস্পতিবার (২ আগস্ট) পঞ্চম দিনের মতো রাজধানীর উত্তরায় সড়ক অবরোধ করেছে শিক্ষার্থীরা। উত্তরার আব্দুল্লাহপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত সড়কে অবস্থান নিয়েছে শিক্ষার্থীরা।
এদিকে রাজধানীর আসাদগেট, সায়েন্সল্যাব, ফার্মগেট ও মৌচাক এলাকার রাস্তাও অবরোধ করেছে। তারা বুধবারের মতো রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে কাগজপত্র ও চালকদের লাইসেন্স চেক করছে।
মোহাম্মদপুর বাস স্ট্যান্ড অবরোধ করেছে পাইওনিয়ার কলেজ, আলহাজ মকবুল হোসেন ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থীরা। তারা বিভিন্ন গাড়ি থামিয়ে লাইসেন্স আর কাগজপত্র চেক করছে। এ এলাকার সড়কে বিআরটিসি’র বাস ছাড়া কোনও বাস চলাচল করছে না।
এদিকে, শাহবাগ মোড়ের সড়কে বৃষ্টি উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীরা সড়কে অবস্থান করছে। এতে করে ওই এলাকাসহ আশপাশের এলাকায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। সড়ক অবরোধে অংশ নিয়েছে কমার্স কলেজ, বিইউবিটি’র শিক্ষার্থীরাও। শেওড়াপাড়ায় গ্রিন ইউনির্ভাসিটির শিক্ষার্থীরা সড়কের মাঝখানে অবস্থান নিয়ে মানববন্ধন করে।
প্রসঙ্গত, গত ২৯ জুলাই দুপুরে রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের অদূরে বিমানবন্দর সড়কে (র্যাডিসন হোটেলের উল্টোদিকে) বাসচাপায় রমিজউদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়। ওইদিন দুপুর সাড়ে ১২টায় বিমানবন্দর সড়কের বাঁ-পাশে বাসের জন্য অপেক্ষা করার সময় জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাস তাদের চাপা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলো দিয়া খানম মীম ও আব্দুল করিম। এ সময় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়। পথচারীরা সঙ্গে সঙ্গে আহতদের নিকটস্থ কুর্মিটোলা হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে গুরুতর আহত কয়েকজনকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়।এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে কলেজের শিক্ষার্থীরা। তারা জাবালে নূর পরিবহনের ওই বাসে আগুন ধরিয়ে দেয় ও শতাধিক বাস ভাঙচুর করে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট চালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতকরণ ও নৌপরিবহনমন্ত্রীর অনৈতিক বক্তব্যের প্রতিবাদসহ ৯ দফা দাবি জানায় শিক্ষার্থীরা। গত চার দিন ধরে শিক্ষার্থীরা রাজধানীর সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করে। বুধবার (১ আগস্ট) বিকালে বাস মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে বৈঠক করে শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেওয়ার কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। একই সন্ধ্যায় শিক্ষামন্ত্রণালয় থেকে বৃহস্পতিবার (২ আগস্ট) রাজধানীসহ সারাদেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণার কথা জানানো হয়।








