বিদেশে অর্থপাচারের মামলায় ক্রিসেন্ট গ্রুপের মালিক এম.এ. কাদেরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৩১ জানুয়ারি) ঢাকা মহানগর হাকিম মোহাম্মদ জসিম জামিনের আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর এ আদেশ দেন।
দুপুরে তদন্ত কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন আসামি কাদেরকে আদালতে হাজির করেন। এরপর মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
আসামিপক্ষে আইনজীবী রেজাউল করিম ও আবুল কালাম আজাদ জামিন শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আবু জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠান। এর আগে বুধবার রাজধানীর কাকরাইল থেকে এম. এ. কাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে রাজধানীর চকবাজার মডেল থানায় পৃথক তিনটি মামলা রয়েছে।
জানা গেছে, এম. এ. কাদের জাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার আবদুল আজিজের ভাই।
বুধবার (৩০ জানুয়ারি) জরুরি সংবাদ সংবাদ সম্মেলন করে এম.এ. কাদেরকে গ্রেফতার ও জাজ মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার আবদুল আজিজকে খোঁজার বিষয়টি তুলে ধরেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া। তিনি জানান, ক্রিসেন্ট গ্রুপের তিন প্রতিষ্ঠান ক্রিসেন্ট লেদার ৪২২ কোটি ৪৬ লাখ, রিমেক্স ফুটওয়্যার ৪৮১ কোটি ২৬ লাখ ও ক্রিসেন্ট ট্যানারিজ ১৫ কোটি ৮৪ লাখ টাকা বিদেশে পাচার করেছে।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘৯১৯ কোটি টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা মানিলন্ডারিংয়ের মাধ্যমে বিদেশে পাচারের সঙ্গে জড়িত থাকায় শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতর মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধিত ২০১৫) অনুযায়ী রিমেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের চেয়ারম্যান আব্দুল আজিজ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিসেস লিটুল জাহান (মিরা) এবং অন্য দুটি প্রতিষ্ঠান ক্রিসেন্ট লেদার প্রোডাক্টস লিমিটেড ও ক্রিসেন্ট ট্যানারিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান এম.এ. কাদের এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিসেস সুলতানা বেগম (মনি) ও জনতা ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট ১৩ জন কর্মকর্তাকে আসামি করে রাজধানীর চকবাজার মডেল থানায় পৃথক তিনটি মামলা দায়ের করা হয়।’
শুল্ক গোয়েন্দা সূত্র জানায়, আসামিদের মধ্যে আছেন—রিমেক্স ফুটওয়্যারের চেয়ারম্যান আবদুল আজিজ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক লিটুল জাহান মিরা, ক্রিসেন্ট লেদার প্রোডাক্টস ও ক্রিসেন্ট ট্যানারিজের চেয়ারম্যান এম এ কাদের এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুলতানা বেগম মনি।
এনবিআর চেয়ারম্যান জানান, ক্রিসেন্ট লেদার প্রোডাক্টস থেকে জনতা ব্যাংকের ইমামগঞ্জ করপোরেট শাখা যে রফতানি বিল কেনে, তার মধ্যে চার মাসে টাকা ফেরেনি এমন বিলের সংখ্যা ২১৫টি এবং টাকার পরিমাণ ৪২৮ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। ২০১৮ সালের ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত ২১৫টি বিলের মধ্যে মাত্র তিনটি বিলের বিপরীতে ৫ কোটি ৯৭ লাখ টাকা ফেরত এসেছে। ফলে ২১২টি বিলের বিপরীতে ৪২২ কোটি ৪৬ লাখ টাকা ফেরত আসেনি। এনবিআরের তদন্তে উঠে এসেছে—ক্রিসেন্ট লেদার এবং ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ৪২২ কোটি ৪৬ লাখ টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে পাচার হয়েছে। এছাড়া, রিমেক্স ফুটওয়্যারেরও জনতা ব্যাংকের ইমামগঞ্জ শাখা হতে ২৪০টি বিলের বিপরীতে ৪৮১ কোটি ২৬ লাখ টাকা অপ্রত্যাবাসিত রয়েছে।
মামলায় জনতা ব্যাংকের যেসব কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়েছে তারা হলেন—সিনিয়র অফিসার (বরখাস্ত) আবদুল্লাহ আল মামুন, মো. মনিরুজ্জামান, মো. সাইদুজ্জাহান, প্রিন্সিপাল অফিসার (বরখাস্ত) রুহুল আমিন, মগরেব আলী, খায়রুল আমিন, এজিএম (বরখাস্ত) আতাউর রহমান সরকার, ডিজিএম মো. ইকবাল, এ কে এম আসাদুজ্জামান, কাজী রইস উদ্দিন আহমেদ, জিএম (বরখাস্ত) মো. রেজাউল করিম, ডিএমডি (বরখাস্ত) ফখরুল আলম এবং বর্তমানে সোনালী ব্যাংকের ডিএমডি জাকির হোসেন।
আরও পড়ুন: জাজ মাল্টিমিডিয়ার মালিক আজিজকে খুঁজছেন গোয়েন্দারা, ভাই কাদের গ্রেফতার








