ওয়াসার পানি সুপেয় নয়: গণশুনানিতে বক্তারা

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
০৭ মে ২০১৯, ১৭:০১আপডেট : ০৭ মে ২০১৯, ১৭:১৫

‘নিরাপদ পানি: ওয়াসার দাবি ও জনগণের অভিজ্ঞতা’ শীর্ষক গণশুনানি ‘ওয়াসার পানি অনিরাপদ। ওয়াসা কর্তৃপক্ষ সুপেয় পানির কথা বললেও সেই পানি সুপেয় নয়। আমরা বোতলের পানি কিনে পান করতে চাই না, আমরা সরাসরি ট্যাপের পানি পান করতে চাই।’ মঙ্গলবার (৭ মে) জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে ‘নিরাপদ পানি: ওয়াসার দাবি ও জনগণের অভিজ্ঞতা’ শীর্ষক গণশুনানিতে এসব কথা বলেন বক্তারা। ‘ওয়াসার নিরাপদ পানি আন্দোলন’  নামে একটি সংগঠন এই গণশুনানির আয়োজন করে।

গণশুনানিতে তেল-গ্যাস-খনিজসম্পদ-বিদ্যুৎ ও বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘ঢাকার চারপাশে যে নদী রয়েছে, সেগুলোর পানি যদি পরিষ্কার থাকতো, তবে মানুষের অসুখ-বিসুখ প্রায় ৫০ শতাংশ কম হতো। কারণ, পানিবাহিত রোগীর সংখ্যাই বেশি। নিরাপদ পানি পাইপের মাধ্যমে প্রতিটি মানুষের ঘরে যাবে— এটা তাদের নাগরিক অধিকার। কিন্তু সেটা জনগণ ভোগ করতে পারছে না। পানির আলাদাভাবে বাণিজ্যিকীকরণের ব্যবস্থা চলছে। এটা বন্ধ করে আমরা ওয়াসার নিরাপদ সুপেয় পানি ঘরে বসে ট্যাপ খুলে পান করতে চাই।’
বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘আজকের এই গণশুনানি জীবন নিয়ে গণশুনানি। কারণ, পানির অপর নাম জীবন।ওয়াসার অনিয়ম-দুর্নীতি এখনও বন্ধ করা যায়নি। যদি এই দুর্নীতি বন্ধ করা যেতো, তবে বছর বছর পানির দাম বাড়তো না। নাগরিকরা ঘরে বসে বিশুদ্ধ সুপেয় পানি পেতো। ওয়াসার পাহারাদার সরকারকে আমরা বলতে চাই, আমরা বোতলের পানি কিনে পান করতে চাই না, আমরা সরাসরি ট্যাপের পানি পান করতে চাই।’

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী ড. লেলিন চৌধুরী বলেন, ‘ওয়াসার দায়িত্ব নগরবাসীকে সুপেয় পানি পান করানো। কিন্তু তারা জনগণকে সেই সুবিধা দিচ্ছে না। সম্প্রতি আমরা জানতে পেরেছি, আসাদগেটে ওয়াসার একটি ল্যাবরেটরি আছে, যেখানে পানির বিশুদ্ধতা নির্ণয় করা হয়। সেখানে তারা আমাদের টাকায় বেতন নিচ্ছে ঠিকই, কিন্তু কাজ করছে না। সরকারের উচিত, তারা হয় নিয়মিত কাজ করবে, না হলে ওয়াসা থেকে এই ডিপার্টমেন্ট বাতিল করে দেওয়া হোক। প্রয়োজন হলে আমরা নদীর পানি সংগ্রহ করে পান করবো।’

ওয়াসার নিরাপদ পানি আন্দোলনের সমন্বয়ক মিজানুর রহমান দাবি করে বলেন, ‘বাসায় বসে ট্যাপ ছেড়ে পানি পান করতে চাই। যেসব বাসাবাড়ি এলাকায় পানি নাই এবং বিষাক্ত, নোংরা ও ময়লা পানি আসে, সেসব বাসাবাড়িতে ও এলাকায় অতিদ্রুত নিরাপদ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করতে হবে। দূষিত পানির কারণে জুরাইন, শ্যামপুর, মুরাদপুর ও দনিয়া পর্যন্ত যারা অসুখ-বিসুখের  শিকার হয়েছেন, তাদের প্রত্যেককে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। অসত্য বক্তব্যের জন্য ওয়াসার এমডিকে ক্ষমা চাইতে হবে। দায়িত্ব পালন করতে না পারলে তাকে পদত্যাগ করতে হবে।’

গণশুনানিতে বাম দলের নেতা বজলুর রশিদ ফিরোজ, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হাসনাত কাইয়ুমসহ ‘ওয়াসা নিরাপদ পানি আন্দোলন’ এর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

ছবি: সাজ্জাদ হোসেন

 

/এইচএন/এপিএইচ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
ফুল দিয়ে ড. খলিলুর রহমানকে বরণ
ফুল দিয়ে ড. খলিলুর রহমানকে বরণ
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বন্ধ কলকারখানা চালু ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভা
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বন্ধ কলকারখানা চালু ও ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সভা
ত্রিমুখী তদন্তের ‍মুখে বেবিচকের প্রকৌশলী শরিফুল
ত্রিমুখী তদন্তের ‍মুখে বেবিচকের প্রকৌশলী শরিফুল
শিশুর হাতে স্মার্টফোন: আশীর্বাদ না অভিশাপ? 
শিশুর হাতে স্মার্টফোন: আশীর্বাদ না অভিশাপ? 
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান