সিটিটিসির সেরা রিপোর্টিংয়ের পুরস্কার পেলেন বাংলা ট্রিবিউনের নুরুজ্জামান লাবু

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২৩:৪৪, জুন ৩০, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০২:৪৬, জুলাই ০১, ২০১৯

অনলাইন ক্যাটাগরিতে সেরা রিপোর্টিংয়ের পুরস্কার গ্রহণ করছেন বাংলা ট্রিবিউনের অপরাধ বিভাগের ইনচার্জ নুরুজ্জামান লাবু

সহিংস উগ্রবাদ বিষয়ে সেরা রিপোর্টিংয়ের পুরস্কার পেলেন অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউনের সিনিয়র রিপোর্টার (ক্রাইম) নুরুজ্জামান লাবু। এছাড়াও টেলিভিশন ও প্রিন্ট মিডিয়া ক্যাটাগরিতে আরও ৫ জন রিপোর্টারকে সেরা পুরস্কার দেয় পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট।

রবিবার (৩০ জুন) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে ‘সহিংস উগ্রবাদ’ বিষয়ে সেরা রিপোর্টিংয়ের বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন ডিএমপি’র ভারপ্রাপ্ত কমিশনার (সিটিটিসি’র প্রধান) মো. মনিরুল ইসলাম। এসময় জুড়ি বোর্ডের সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ আব্দুস সালাম, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক সাইফুল আলম, ডিবিসি টেলিভিশনের সিইও মঞ্জুরুল ইসলাম ও ডিএমপি’র মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-কমিশনার মো. মাসুদুর রহমান।

সহিংস উগ্রবাদ বিষয়ে সেরা রিপোর্টিং এ তিনটি ক্যাটাগরিতে মোট ৬ জন পুরস্কার পেয়েছেন। অনলাইন মিডিয়া ক্যাটাগরিতে নুরুজ্জামান লাবু ছাড়াও পুরস্কারপ্রাপ্ত অন্যরা হলেন- যৌথভাবে ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার-এর হেড অব ক্রাইম ডেস্ক শরিফুল ইসলাম ও স্টাফ রিপোর্টার মোহাম্মদ জামিল খান এবং দৈনিক প্রথম আলোর সিনিয়র রিপোর্টার শেখ সাবিহা আলম। ইলেক্ট্রনিক মিডিয়া ক্যাটাগরিতে পুরস্কারপ্রাপ্ত দুই জন হলেন- সময় টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার খান মুহাম্মদ রুমেল ও চ্যানেল-২৪ এর স্টাফ রিপোর্টার শামীমা সুলতানা।

অনুষ্ঠানে পুরস্কার হিসেবে সম্মাননা স্মারক, সার্টিফিকেট ও নগদ অর্থ দেওয়া হয়। এসময় ডিএমপি মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ কমিশনার (ডিসি) মাসুদুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সিটিটিসির উপ-কমিশনার মোহাম্মদ আলিমুজ্জামান, প্রলয় কুমার জোয়ার্দার, এএইচএম রাকিবসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সাংবাদিকবৃন্দরা উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজক ও অতিথিদের সঙ্গে পুরস্কার বিজয়ীরা

সিটিটিসি’র এমন আয়োজনকে সাধুবাদ জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণসংযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুস সালাম বলেন, ‘সাংবাদিকতা একটি ঝুঁকিপূর্ণ পেশা। সহিংস উগ্রবাদ নিয়ে লেখনী ও বস্তুনিষ্ট সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে আপনারা সমাজের নায়ক হয়ে উঠবেন। যারা আজ পুরস্কৃত হয়েছেন সকলেকে অভিনন্দন জানাই।’

জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক সাইফুল আলম বলেন, ‘সহিংস উগ্রবাদ সমাজ, পরিবার, রাষ্ট্র বা বিশ্বের জন্য নিরাপদ নয়। বাংলাদেশের মানুষ, সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, মিডিয়া উগ্রবাদবিরোধী। যে দেশের মানুষ উগ্রবাদবিরোধী সে দেশে উগ্রবাদ মাথা উচু করে দাঁড়াতে পারে না।’

ডিবিসি নিউজের সিইও মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, ‘শুধু সিটিটিসি ইউনিটকে নয় পুরো পুলিশের প্রত্যেক সদস্যকে ধন্যবাদ জানাই, তারা স্বল্পসংখ্যক জনবল নিয়ে হলি আর্টিজান হামলার পর বাংলাদেশে উগ্রবাদ নিয়ন্ত্রণ করেছে। এখানে গণমাধ্যমেরও অনেক ভূমিকা রয়েছে। আমি প্রত্যাশা করি এভাবেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।’

ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা সহিংস উগ্রবাদবিরোধী অনেক রিপোর্ট পেয়েছি। তার মধ্যে বস্তুনিষ্ঠ এবং ভালো রিপোর্টি ও রচনাগুলোই বাছাই করে জুরি বোর্ডের কাছে দিয়েছি। তারা একটি চমৎকার ফলাফল ঘোষণা করেছেন। যারা পুরস্কৃত হয়েছেন তাদেরকে আন্তরিক অভিনন্দন।’

 রচনা প্রতিযোগিতার বিজয়ীদেরও পুরস্কার বিতরণ

এদিকে সেরা রিপোটিংয়ের পুরস্কারের পাশাপাশি সহিংস উগ্রবাদ বিষয়ে রচনা প্রতিযোগিতায় স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা শাখায় ৩ জন করে মোট ৯ জন পুরস্কার পেয়েছেন। তারা হলেন- স্কুল শাখায় টাংগাইলের বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী প্রভাষ দাস, তেজগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী সানজানা তাসনিম আদিবা ও ঢাকার রফিকুল ইসলাম স্কুল অ্যান্ড কলেজ এর ১০ম শ্রেণির শিক্ষার্থী সামিয়া হাসান দিপিয়া। কলেজ শাখায় পুরস্কার পেয়েছেন- হলিক্রস কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী শামীমা আফরিন সুইট, ময়মনসিংহ সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহমুদা আকতার দৃষ্টি ও আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী শরীফুল আলম সাকিব। এছাড়া মাদ্রাসা শাখায় পুরস্কার পেয়েছেন- চট্টগ্রামের ধনিয়ালাপাড়ার বায়তুশ শরফ আদর্শ কালিম মাদ্রাসার ফাজিল শ্রেণির শিক্ষার্থী মোহাম্মদ সাইফুর রহমান, পাবনা ইসলামিয়া মাদ্রাসার দাখিল শ্রেণির শিক্ষার্থী রাইয়ান রাফি ও ঢাকার সরকারি মাদরাসা-ই-আলিয়া’র ফাজিল শ্রেণির শিক্ষার্থী মুহাম্মাদ হেদায়াতুল্লাহ।

উল্লেখ্য, সহিংস উগ্রবাদ প্রতিরোধে জনসাধারণকে সম্পৃক্ত ও জনসচেতনতা বাড়াতে ডিএমপির সিটিটিসি ইউনিট ২৫ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ‘সহিংস উগ্রবাদবিরোধী সচেতনতা সপ্তাহ-২০১৯’ পালন করেছে।


/এসজেএ/টিএন/

লাইভ

টপ