সম্রাটের সহযোগী আরমানও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র‌্যাব-১ কার্যালয়ে

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৭:২৪, অক্টোবর ১৭, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৫১, অক্টোবর ১৭, ২০১৯

সম্রাটের সহযোগী আরমান

যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের সহযোগী আরমানকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয় থেকে র‌্যাব-১ এর কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেল চারটায় র‌্যাব-১ কার্যালয়ে সম্রাটের সঙ্গে আরমানকেও নেওয়া হয়। রমনা থানায় দায়ের করা মাদক মামলায় আরমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করবে র‌্যাব-১।

১৬ অক্টোবর রাতে সম্রাটের দুটি মামলার পাশাপাশি আরমানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মাদক মামলার তদন্তভার পেয়েছে র‌্যাব-১। আদালতের আদেশে র‌্যাব-১ দুজনের বিরুদ্ধে দায়ের করার মামলাগুলোর তদন্ত র‌্যাব-১ করবে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইং এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক মিজানুর রহমান ভূঁঞা।

তিনি বলেন, মামলাগুলো তদন্তের আদেশ পাওয়ার পর ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট ও আরমানকে ডিবি কার্যালয় থেকে র‌্যাব-১ এর কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়েছে।

গত ১৫ অক্টোবর যুবলীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের বহিষ্কৃত সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের বিরুদ্ধে রমনা থানায় দায়ের করা মাদক ও অস্ত্র মামলায় তার মোট ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। একইসঙ্গে সম্রাটের সহযোগী আরমানের বিরুদ্ধে রমনা থানায় দায়ের করা মাদকের মামলায় তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তোফাজ্জল হোসেন শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

প্রসঙ্গত, গত ৭ অক্টোবর (সোমবার) সম্রাটের বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। উভয় মামলার এজাহারে বলা হয়েছে—মতিঝিল, আরামবাগ, ফকিরাপুল ও পল্টনসহ রাজধানীতে ১০টি ক্লাবে ক্যাসিনো ব্যবসা ছিল সম্রাটের। সবার কাছে সে ‘ক্যাসিনো সম্রাট’ হিসেবে পরিচিত। পাশাপাশি, দলীয় পদের অপব্যবহার করে চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি করতো। কেউ চাঁদা দিতে না চাইলে তাকে ধরে নিয়ে নির্যাতন করতো তার ক্যাডাররা। সম্রাটের কার্যালয় থেকে র‌্যাব অবৈধ অস্ত্র, মাদকসহ নির্যাতন করার জন্য ইলেকট্রিক শক দেওয়ার মেশিন উদ্ধার করেছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশ ও র‌্যাব সূত্র জানায়, সম্রাটের বিরুদ্ধে রমনা থানায় দায়ের করা দুটি মামলারই বাদী র‌্যাবের নায়েব সুবেদার (ডিএডি) আব্দুল খালেক। মাদক মামলায় সম্রাটের পাশাপাশি তার সঙ্গে আটক আরমানকেও আসামি করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান বলেন, ‘মামলা হয়েছে। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ও গুরুত্ব দিয়ে মামলা দুটি তদন্ত করা হবে।’

উল্লেখ্য, বিভিন্ন স্পোর্টস ক্লাবের আড়ালে ক্যাসিনো ব্যবসা চালানোর অভিযোগে গত ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে অভিযান শুরু করে র‌্যাব। এরই ধারাবাহিকতায় ওই দিনই গ্রেফতার করা হয় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে। এর দুদিন পর গ্রেফতার করা হয় যুবলীগ নেতা জিকে শামীমকে। অভিযানের প্রথম দিন থেকেই আলোচনায় আসে ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাটের নাম। গত ২৩ সেপ্টেম্বর অন্যদের সঙ্গে সম্রাটেরও দেশ ত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ও ব্যাংক হিসাব তলব করা হয়। গত ৬ অক্টোবর ভোরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয় তাকে।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, র‌্যাবের একটি দল জানতে পারে, চলমান ক্যাসিনোবিরোধী অভিযানে অন্যতম পলাতক আসামি ক্যাসিনো সম্রাট গ্রেফতারের ভয়ে কুমিল্লা সীমান্ত দিয়ে প্রতিবেশী দেশ ভারতে পালিয়ে যাওয়ার জন্য কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম এলাকায় লুকিয়ে আছে। এই সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব সদর দফতরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সরওয়ার আলম ও নিজাম উদ্দিন আহম্মেদের নেতৃত্বে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে গিয়ে আলকরা গ্রামের কঞ্জুশ্রীপুর গ্রামের মনির চৌধুরীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে সম্রাট ও আরমানকে গ্রেফতার করা হয়। আরমানকে মাদক সেবনরত অবস্থায় পাওয়া যাওয়ায় তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাৎক্ষণিক ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আর সম্রাটের কাকরাইলের কার্যালয়ে ক্যাঙ্গারুর চামড়া পাওয়ায় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত।

 

 

 

/আরজে/টিএন/

লাইভ

টপ
X