লবণের বাজারে গুজব ছড়িয়েছে কারা?

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৭:০১, নভেম্বর ১৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:২৯, নভেম্বর ২০, ২০১৯

দেশে লবণের ঘাটতি নেইমঙ্গলবার সকাল থেকে শত শত কেজি লবণ বিক্রি হয়ে যাচ্ছে রাজধানীর পাড়া-মহল্লার দোকানগুলোতে। দোকানিরা জানেন না, নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যের চাহিদা হঠাৎ কেন বাড়লো। ক্রেতারাও এর সঠিক কোনও কারণ বলতে পারছেন না। তাদের ভাষ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেখেছেন, বাজারে এ ধরনের কথা শুনেছেন। এ পরিস্থিতিকে গুজব অভিহিত করে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) বলছে, দেশে লবণের কোনও ঘাটতি নেই। অসাধু ব্যবসায়ীরা ভুল তথ্য ছড়িয়ে ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে।
বিসিকের এক কর্মকর্তা জানান, তাদের কন্ট্রোল রুমে কল করে লবণ নেই জানালে তারা ব্যবস্থা করে দেবেন। লবণের ঘাটতির বিষয়টি যে পুরোপুরি গুজব, তা সারাদেশে জানিয়ে দিতে জেলা প্রশাসনকে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
পেঁয়াজের মতো লবণেরও দাম বাড়ছে—এই গুজবে রাজধানীর পাইকারি ও খুচরা দোকানে লবণ বিক্রির হিড়িক লেগেছে। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে শুক্রাবাদ এলাকার মুদির দোকানগুলোতে শত শত কেজি লবণ বিক্রির তথ্য পাওয়া গেছে। বিক্রেতারা এ কথা স্বীকার করে বলছেন, আগের দামেই তারা লবণ বিক্রি করছেন। তবে হঠাৎ চাহিদা কেন বাড়লো, তা তারা জানেন না। আর ক্রেতারা বলছেন, শুনেছি পেঁয়াজের মতো লবণেরও দাম বেড়েছে। এ কারণে আগে আগেই কয়েক কেজি করে লবণ কিনে রাখছেন তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এদিন সকাল থেকেই কাঁচাবাজারে লবণের দাম বাড়তে থাকে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লবণ নেই বলে কোনও কোনও ব্যবসায়ী চড়া দাম হাঁকতে থাকেন। তবে দুপুর নাগাদ বিসিক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, এসবই গুজব। দেশে লবণের কোনও ঘাটতি নেই। অসাধু ব্যবসায়ীরা এই ধরনের ভিত্তিহীন খবর রটিয়ে ফায়দা লোটার চেষ্টা করছেন।


ক্রেতা-বিক্রেতা কেউই জানেন না হঠাৎ লবণের চাহিদা বাড়ার কারণতবে সাধারণ মানুষের শঙ্কা, একবার পণ্যের দাম বাড়তে থাকলে প্রশাসন যে বিজ্ঞপ্তিই দিক, তাতে দাম কমে না। ভোগান্তিতে পড়তে হয় তাদেরই।
শুক্রাবাদ এলাকার আজাদ রাইস স্টোরের বিক্রেতা ইব্রাহিম বলেন, ‘কয়েক ঘণ্টায় আমার দোকানে সব লবণ শেষ হয়ে গেছে। একের পর এক মানুষ এসে শুধু লবণ চাইছে। অন্যান্য দিনে ১০-১৫ কেজি লবণ বিক্রি হলেও মঙ্গলবার দুপুরের মধ্যে ১০০ কেজি লবণ বিক্রি হয়ে গেছে।’ এখন আর তার স্টকে লবণ নেই বলে জানান ইব্রাহিম।
একই কথা জানান মা এন্টারপ্রাইজের বিক্রেতা নুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এসিআই লবণ এক কেজি ৩৫ টাকা করে আমরা বিক্রি করতাম। দিনে বিক্রি হতো ৮-১০ কেজি। আজ ১৫০ কেজির বেশি লবণ অলরেডি বিক্রি হয়ে গেছে। একেকজন এসে ৪-৫ কেজি করে লবণ কিনতে চাচ্ছে। তবে আমি এক কেজির বেশি বিক্রি করছি না।’ এই বিক্রেতার আশঙ্কা, মানুষ যে হারে লবণ কিনছে, তাতে সত্যি সত্যি লবণের দাম বেড়ে যাবে।
মা-বাবার দোয়া নামের দোকানের বিক্রেতা আব্দুল আলীম বলেন, ‘আমার দোকানে ৩৫ কেজির মতো লবণ ছিল। সকালে এসে একজন দোকানদার পাইকারি দামে এক বস্তা (২৫ কেজি) নিয়ে গেছে। তখন বুঝতে পারিনি। এখন এসে সবাই লবণ চাচ্ছে। কিন্তু আমি বিক্রি করতে পারছি না। আমার কাছে থাকা সব লবণ শেষ।’
বিসিকের কন্ট্রোল রুম থেকে আবুল খায়ের বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এটি সম্পূর্ণ গুজব। পেঁয়াজের দামের মধ্যে অসাধু ব্যবসায়ীরা এই গুজব রটিয়ে অস্থিতিশীল করে তুলতে চাইছে। আমাদের কোনও ঘাটতি নেই।’
এই গুজন নিয়ন্ত্রণে কী করণীয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বাজারে যারা বলছেন লবণ নেই, তারা আমাদের নম্বরে কল করুন। তার কাছে লবণ পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। আমরা যোগাযোগ করিয়ে দেবো। কেবল আমাদের জানান।’ ইতোমধ্যে লবণের মজুতের পরিমাণসহ জেলা প্রশাসকদের কাছে বিসিক চিঠি পাঠিয়েছে বলে জানান তিনি।

/আরজে/ইউআই/এইচআই/এমএমজে/

লাইভ

টপ