দেশের সব স্বাস্থ্যকন্দ্রে দেওয়া হবে বিনামূল্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২২:৩৯, ডিসেম্বর ০৫, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:০৬, ডিসেম্বর ০৫, ২০১৯

পরিবার কল্যাণ সেবা ও প্রচার সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তব্য রাখছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক

দেশের সব স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে নারীদের বিনামূল্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, এই সরকারি সেবাটি গ্রামে থাকা মা-বোনদের অনেক উপকার করবে।

আজ বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরে পরিবার কল্যাণ সেবা ও প্রচার সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। ‘পরিবার পরিকল্পনা সেবা গ্রহণ করি, কৈশোরকালীন মাতৃত্ব রোধ করি’—এ প্রতিপাদ্যে ৭ থেকে ১২ ডিসেম্বর সারাদেশে পরিবার কল্যাণ সেবা সপ্তাহ পালিত হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, অসচ্ছলতার কারণে অনেক কিশোরী ও মা স্যানিটারি ন্যাপকিন কিনতে পারেন না। স্যানিটারি ন্যাপকিনের অভাবে বিভিন্ন ধরনের ইনফেকশন, এমনকি ক্যান্সারে পর্যন্ত আক্রান্ত হন নারীরা। এ কারণে আমরা স্যানিটারি ন্যাপকিন বিনামূল্যে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি। এ বছর থেকে দেশের প্রতিটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে কিশোরী ও মায়েদের জন্য বিনামূল্যে স্যানিটারি ন্যাপকিন দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, এখন দেশের ১৫০টি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে ২৪ ঘণ্টা স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হবে।

স্যানিটারি ন্যাপকিন (ছবি: ইন্টারনেট থেকে)

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ৪ হাজার ৬২৮টি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র রয়েছে। জনবলের অভাবে সব স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখা যাচ্ছে না। এ কারণে সরকার নতুন জনবল নিয়োগের কথা ভাবছে। মন্ত্রী বলেন, জনবলের অভাব রয়েছে, জনবল সংকট কেটে যাবে বলে আশা করছি। আর এটা হলে আমরা সবক’টি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার ব্যবস্থা করবো।

প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, দেশে ১৮ বছরের আগেই বিয়ে হয়ে যাচ্ছে ৫৯ শতাংশ নারীর। ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সে প্রতি হাজারে ১১৩ জন কিশোরী গর্ভধারণ করে। কিশোরী মায়েদের মধ্যে মাতৃমৃত্যুর হার ২০ বছরের বেশি মায়েদের তুলনায় দ্বিগুণ। আবার ১৪ বছর বা তার কম বয়সী কিশোরী মায়েদের মধ্যে মৃত্যুঝুঁকি ২০ বছর বা তার বেশি বয়সী মায়েদের তুলনায় পাঁচগুণ বেশি। তাদের সন্তানদেরও মৃত্যুঝুঁকি অনেক বেশি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশ মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যু কমানোর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। এর মূল কারণ নারী শিক্ষা, সফল টিকাদান কর্মসূচি এবং পরিবার পরিকল্পনা। এসব অর্জন ম্লান হয়ে যায় যখন একজন মেয়ে কিশোরী বয়সে মা হতে গিয়ে অকালে প্রাণ হারায়। এ সমস্যা সমাধানে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ করতে হবে। আর পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহণে সক্ষম দম্পতিদের উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি বিবাহিত কিশোরীদের সঠিকভাবে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির ব্যবহার ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব সেবার ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করতে হবে বলে জানান মন্ত্রী। পরিবার কল্যাণ সেবা ও প্রচার সপ্তাহে উঠান বৈঠক, মা সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে বলে প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়।

প্রেস ব্রিফিংয়ে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব শেখ ইউসুফ হারুন, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের মহাপরিচালক কাজী আ খ ম মহিউল ইসলাম।

/জেএ/টিএন/এমওএফ/

লাইভ

টপ