পাথরভর্তি ট্রাকে মিললো ফেনসিডিল, আটক দুই

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২১:৩২, ডিসেম্বর ০৮, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:৩৫, ডিসেম্বর ০৮, ২০১৯

পাথরভর্তি ট্রাকে ফেনসিডিল উদ্ধার হওয়ায় চালক ও সহকারী গ্রেফতার

পাথরভর্তি ট্রাকে লুকিয়ে ফেনসিডিল পাচারের সময় ঢাকার আশুলিয়া থেকে মাদক কারবারি চক্রের দুই সদস্যকে আটক করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-১)।  এসময় ট্রাকটি তল্লাশি করে ৯৭০ বোতল ফেনসিডিল জব্দ করে র‌্যাব। আইন প্রয়োগকারী সংস্থাটির দাবি আটক দুই জনই আন্তঃজেলা মাদক কারবারি চক্রের সদস্য।

রবিবার (৮ ডিসেম্বর) ভোর ৪ টা ১০ মিনিটে ঢাকার আশুলিয়া থানাধীন জিরাবো চৌরাস্তায় অবস্থিত আফজাল সুপার মার্কেটের সামনে অভিযান চালিয়ে এই চক্রের সদস্যদের আটক করা হয়।

র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম বাংলা ট্রিবিউনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

আটক মাদক কারবারিরা হলো বগুড়ার মো. সোহাগ (৩৫) ও মো. মানিক মিয়া (২১)।  এসময় তাদের ব্যবহৃত পাথরভর্তি ট্রাকটি তল্লাশি করে ৯৭০ বোতল ফেনসিডিল, নগদ ২ হাজার ৪৫০ টাকা, ১২ টন পাথর ও ২ টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম জানান, আটক আসামিরা দিনাজপুরের সীমান্তবর্তী বিরামপুর এলাকা দিয়ে চোরা কারবারির মাধ্যমে এসব ফেনসিডিল সংগ্রহ করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করতো। এই চালানটি ঢাকায় নিয়ে আসা হচ্ছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়। এরপর আশুলিয়ার জিরাবো এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।  তারা আন্তঃজেলা মাদক কারবারি চক্রের সদস্য। দেশের বিভিন্ন জেলায় মাদক কারবারিদের সঙ্গে তাদের ভালো সখ্যতা রয়েছে।

পাথরভর্তি ট্রাক থেকে উদ্ধার হওয়া ফেনসিডিল

তিনি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক আসামিরা জানায়, চক্রের মূলহোতার নির্দেশে দিনাজপুরের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ফেনসিডিল সংগ্রহের পর সেগুলো বিভিন্ন পণ্যবাহী ট্রাকে করে সোহাগ ও কামাল ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় নিয়ে সরবরাহ করে আসছিল।

তিনি আরও জানান, আসামি সোহাগ আগে কৃষিকাজের পাশাপাশি রিকশা চালাতো। এরপর সে ট্রাক চালানো শুরু করে। টাকার লোভে সে এই চক্রে যোগদান করে। সে এর আগেও ৬-৭ টি মাদকের চালান বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করেছে বলে স্বীকার করেছে। চালানপ্রতি সরবরাহের জন্য সে  ৪০ হাজার টাকা পেতো।  এদিকে, আসামি মানিক জানায়, সোহাগের মাধ্যমে সে এই চক্রে যুক্ত হয়। ট্রাকের হেলপার হিসেবে কাজ শুরু করে সে। মাদকদ্রব্য পাচার কাজে সে সোহাগের সহযোগী হিসেবে কাজ করে থাকে। চালানপ্রতি মানিক ১৫ হাজার টাকা পেতো।

সারওয়ার বিন কাশেম জানান, আটক আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়াও তারা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। সেগুলো যাচাই-বাছাই করে আন্তঃজেলা মাদক কারবারির এই চক্রের আরও সদস্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। 

 

/এসজেএ/এনএল/টিএন/

লাইভ

টপ