মেয়রদের জন্য বাপা’র ১৭ দফা ইশতেহার ও ৭ দফা সুপারিশ

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২৩:৪২, জানুয়ারি ২৭, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:৫৯, জানুয়ারি ২৭, ২০২০

বাপার সংবাদ সম্মেলন

আসন্ন ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিজয়ী মেয়রদের জন্য বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ১৭ দফা ইশতেহার ও ৭ দফা সুপারিশ প্রদান করেছে। সোমবার (২৭ জানুয়ারি) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি’র সাগর-রুনি মিলনায়তনে বাপা আয়োজিত ‘আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচন : পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়ন বিষয়ক প্রত্যাশা’ শীর্ষক এক সংবাদ সম্মেলনে এই ইশতেহার ও সুপারিশ তুলে ধরেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল।

১৭ দফা ইশতেহারে তিনি উল্লেখ করেন— নগরবাসীর জন্য বিভিন্ন নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন সরকারী সংস্থার মধ্যে ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণের সঙ্গে অধিক সমন্বয় সাধন করা; জলাবদ্ধতার সমস্যা নিরসন; জনস্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণ; যানজট নিরসন; সুষম আবাসন; নিরাপদ আবাসন; বায়ু দূষণ রোধ ও পরিবেশের উন্নয়ন; প্লাস্টিক দূষণ রোধ; শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণ; দৃষ্টি দূষণ রোধ; বর্জ্য ব্যবস্থাপনা; উন্মুক্ত স্থান, পার্ক, খেলার মাঠ, বিনোদন সুবিধাদি; ইমারত নির্মাণ বিধিমালা প্রয়োগ এবং নির্মাণ কাজে জনদূর্ভোগ কমানো; সাংস্কৃতিক সুবিধাদি; পুরাতন জেলখানার উপযুক্ত ব্যবহার; পুরাকৃতি সংরক্ষণ এবং পরিবেশকে অগ্রাধিকার দিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এলাকাভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা।

৭ দফা সুপারিশ হচ্ছে— বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে এলাকাবাসী ও ওয়ার্ড কাউন্সিলকে সম্পৃক্ত করতে হবে; এলাকাভিত্তিক ও পাড়াভিত্তিক কমিউনিটি তৈরি করার জন্য সামাজিকীকরণের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে; সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ডের বিভিন্ন সড়কের বিদ্যমান অবস্থার মূল্যায়ণ সাপেক্ষে সড়কের প্রোফাইলিং তৈরি করে অগ্রাধিকারভিত্তিক সড়ক মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ কর্মসূচি প্রণয়ন করতে হবে; এলাকাভিত্তিক নাগরিক সেবা ও অবকাঠামোর বিদ্যমান অবস্থার বিশ্লেষণ ও করণীয়সমূহ নির্ধারণের মাধ্যমে পরিবেশকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এলাকাভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে; নারীবান্ধব শহর গড়ে তুলতে শহরের প্রধান সড়ক ও অভ্যন্তরীণ সড়কে পর্যাপ্ত আলোকবাতির ব্যবস্থা করা এবং নজরদারি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় সিসিটিভি স্থাপন নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে নগরবাসীদের অবাধ যাতায়াতে হুমকি আছে এরূপ এলাকা/স্পটসমূহ চিহ্নিতকরণের মাধ্যমে নজরদারি বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে; এলাকাভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনায় শিশু, বয়স্ক ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার দিয়ে পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে; মানুষকে ও পরিবেশকে উন্নয়নের কেন্দ্রবিন্দু করে সকল উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নে জনস্বাস্থ্যকে এবং পরিবেশকে প্রাধান্য দিয়ে টেকসই উন্নয়ন যেন নিশ্চিত হয় সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় সকল উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। একইসঙ্গে জনস্বার্থ নিশ্চিত করার জন্য পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়ন সম্পর্কিত বিদ্যমান সকল আইন, বিধি ও নীতিমালার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করে নগর উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলন শেষে বাপা’র সভাপতি সুলতানা কামাল বলেন, আজ আমরা এখানে এসেছি আমাদের নৈতিকতার তাগিদে। কিন্তু যারা নগর পিতা হিসেবে দায়িত্ব নিতে চায় তারা নিজেরাই জানে না পরিবেশের প্রতি তাদের কী দায়িত্ব বা কর্তব্য। আজ সারা ঢাকা পলিথিন বা প্লাস্টিকে আবৃত, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থীদের পোস্টারে ছেয়ে গেছে। সমাজে সহমর্মিতা ও সংবেদনশীলতার অভাব তৈরি হয়েছে, কারণ আমাদের সামাজিকীকণের প্রক্রিয়া ও ব্যবস্থাগুলোকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একটা সমাজে যদি সহমর্মিতা না থাকে তা হলে তার পৌর, প্রশাসনিক কিংবা রাষ্ট্রীয় কোনও ব্যবস্থাই কার্যকর থাকে না।

তিনি আরও বলেন, আমরা উন্নয়ন মানে শুধু কাঠামোগত উন্নয়ন বুঝি। কিন্তু আমরা যে ভেতরে ভেতরে একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত, সেই বোধটাই নষ্ট করে দিচ্ছি ইট-পাথরের উন্নয়ন দিয়ে। এটা একটি ভারসাম্যহীনতা। কাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি সামাজিকীকরণের উন্নতি সাধনও জরুরি।

সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাপা’র কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মুহাম্মদ খান। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন বাপা’র যুগ্ম সম্পাদক মো. শাহজাহান মৃধা, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য স্থপতি সালমা এ শাফী।

 

 

/এইচএন/টিএন/

লাইভ

টপ