ভিকারুননিসায় অতিরিক্ত ৮৫৯ শিক্ষার্থী ভর্তির চেষ্টা

Send
এস এম আববাস
প্রকাশিত : ১২:২৮, ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:০৪, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২০





অতিরিক্ত শিক্ষার্থীর বোঝা থাকার পরেও নতুন করে আরও ৮৫৯ জন শিক্ষার্থী ভর্তির উদ্যোগ নিয়েছিল রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ। প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন ক্যাম্পাসের দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত এসব শিক্ষার্থী ভর্তির প্রক্রিয়া প্রায় শেষের দিকে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও আদালতের আদেশের কারণে ভর্তি প্রক্রিয়া বর্তমানে বন্ধ আছে।

২০২০ শিক্ষাবর্ষের জন্য বিভিন্ন ক্লাসে শিক্ষার্থী ভর্তি করাতে গত ১৩ জানুয়ারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানটি। বিজ্ঞপ্তিতে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির মূল শাখা ছাড়াও প্রত্যেক শাখা ক্যাম্পাসে ভর্তির জন্য আসন বণ্টন করা হয়।

মূল শাখায় বাংলা মাধ্যমে দ্বিতীয় শ্রেণির প্রভাতী শিফটে ৭ জন ও দিবা শিফটে ৬ জন, তৃতীয় শ্রেণিতে প্রভাতী শিফটে ১৮ জন ও দিবা শিফটে ২৬ জন, চতুর্থ শ্রেণির দিবা শিফটে ২০ জন, পঞ্চম শ্রেণির প্রভাতী শিফটে ৩০ জন ও দিবা শিফটে ৪ জন, ষষ্ঠ শ্রেণির প্রভাতী শিফটে ২০ জন ও দিবা শিফটে ৩০ জন, সপ্তম শ্রেণির প্রভাতী শিফটে ১৬ জন ও দিবা শিফটে ৩৫ জন, অষ্টম শ্রেণির প্রভাতী শিফটে ২৭ জন ও দিবা শিফটে ২৭ জন এবং নবম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগে প্রভাতী শিফটে ২২ জন ও দিবা শিফটে ৪৭ জন শিক্ষার্থী ভর্তির বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়।

অন্যদিকে ইংরেজি মাধ্যমে দ্বিতীয় শ্রেণিতে দিবা শিফটে ১৭ জন, পঞ্চম শ্রেণিতে দিবা শিফটে ১৬ জন, সপ্তম শ্রেণিতে দিবা শিফটে ৬ জন এবং নবম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগে দিবা শিফটে ১০ জন ছাত্রী ভর্তি করানোর বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। মূল ক্যম্পাসেই মোট ৩৭৫ জনকে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি দেয় প্রতিষ্ঠানটি।

একইভাবে ধানমন্ডি, বসুন্ধরা, আজিমপুর ক্যম্পাসে প্রভাতী ও দিবা শিফটে শিক্ষার্থী ভর্তির জন্যও বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়। পরে মূল ক্যাম্পাসসহ বিভিন্ন ক্যাম্পাসে মোট ৮৫৯ জন শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য গত ১৬ জানুয়ারি সকাল ১০টা থেকে ২১ জানুয়ারি রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন নেওয়া হয়। আবেদন ফি ছিল ২০৫ টাকা। ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় গত ২৪ জানুয়ারি।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ শিক্ষাবর্ষে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে অতিরিক্ত ৪৪৩ জন ছাত্রী ভর্তির অভিযোগে সাবেক অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আইননানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল মন্ত্রণালয়। অতিরিক্ত শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়েছিল প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত।এই শিক্ষার্থীরা এখনও ওই প্রতিষ্ঠানেই পড়াশুনা করছে।

ভিকারুননিসার এক ছাত্রীর অভিভাবক আব্দুল মজিদ সুজন অভিযোগ করেন, ‘গভর্নিং বডির সদস্যরা চাপ দিয়ে অতিরিক্ত ছাত্রী ভর্তি করানোর ব্যবস্থা করেছেন। এর সঙ্গে একজন শিক্ষক প্রতিনিধিও জড়িত। লাখ লাখ টাকার বাণিজ্য করতে অতিরিক্ত ছাত্রী থাকার পরও আবারও ছাত্রী ভর্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছে গভর্নিং বডি।’

প্রতিষ্ঠানটির অভিভাবক ফোরামের সভাপতি আনিসুর রহমান আনিস বলেন, ‘ভিকারুননিসায় ৪৪৩ জন ছাত্রী অতিরিক্ত রয়েছে। এরপরও আর্থিক লাভের জন্য আবারও ছাত্রী ভর্তির পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত ছাত্রী ভর্তি বন্ধে হাইকোর্টে রুল জারি করলেও তা কর্তৃপক্ষ আমলে নেয়নি। এমনকি উচ্চ আদালত যখন ভর্তির বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে তার কয়েকদিন পর ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে।’

জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ অধ্যাপক ফওজিয়া রেজওয়ান বলেন, ‘গভর্নিং বডির সিদ্ধান্তে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি দিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। তবে ভর্তির বিষয়টি এখন অনিশ্চিত। ভর্তি করানো না হলে ২০০ টাকা করে যে ফি নেওয়া হয়েছে তা ফেরত দেওয়া হবে।’

উচ্চ আদালতে ভর্তি প্রক্রিয়া স্থগিত করা হলেও কেন ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, ‘আদালতের কাগজপত্র পাওয়ার আগে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। আদালতের কাগজ হাতে পাওয়ার পর ভর্তি প্রক্রিয়া বন্ধ রয়েছে।’

এ বিষয়ে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘ভর্তি প্রক্রিয়া প্রথমে স্থগিত ও পরে বাতিল করা হয়।’

 

/টিটি/এপিএইচ/

লাইভ

টপ