কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় দুর্নীতি কমানো সম্ভব হয়নি: দুদক চেয়ারম্যান

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২১:৫৫, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:০৩, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২০

রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদঅনেক চেষ্টার পরও কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় দুর্নীতি কমেনি বলে মন্তব্য করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘আমরা কমিশনের দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই দুদকের মামলার আসামিদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার ব্যবস্থা করি। হাজারেরও বেশি আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। ভেবেছিলাম এতে দুর্নীতি হয়তো কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় কমে আসবে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, জনআকাঙ্ক্ষা অনুসারে দুর্নীতির প্রকোপ কমেনি। এ কারণেই আমরা কখনও কখনও কিছুটা হলেও হতাশা অনুভব করি।’

বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর অক্সফাম ইন বাংলাদেশের প্রধান কার্যালয়ে ‘প্রিভেন্টিং করাপশন টু এস্টাবলিশ গভার্নেন্স: রোল অব পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ’ শীর্ষক এক স্মারক বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগত অভিমত হলো, পরিণত মানুষের চিন্তা চেতনা ও মানসিকতার পরিবর্তন করা সত্যিই জটিল। কারণ কোনও কোনও পরিণত মানুষ ঠান্ডা মাথায় অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন এবং অপরাধের পক্ষে অনেক যুক্তি দাঁড় করান। এদের নিয়ন্ত্রণে কমিশন দমনমূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মের মাঝে নৈতিকমূল্যবোধ জাগিয়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ করার কৌশল গ্রহণ করেছে। এই কৌশলের অংশ হিসেবেই দেশের ২৬ হাজার ২১৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিয়ে তাদের নৈতিকমূল্যবোধ বিকাশে বিতর্ক প্রতিযোগিতা করা হয়েছে। এ কাজে অক্সফামের সহযোগিতা পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের অন্যতম উদাহরণ।’

কমিশনের প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমের অধিকাংশ অর্থই এই তরুণদের পেছনে ব্যয় করা হচ্ছে জানিয়ে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘এর মাধ্যমে যদি ১০ হাজার নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ সৃষ্টি করা যায়, তা হবে এ দেশের এক অমূল্য সম্পদ।’ তিনি বলেন, ‘বিতর্ক ও রচনা প্রতিযোগিতা, কালচারাল শোসহ এ জাতীয় কর্মসূচির মাধ্যমে তরুণ শিক্ষার্থীদের মননে উত্তম চারিত্রিক গুণাবলি গ্রোথিত করার চেষ্টা হচ্ছে। এই কর্ম প্রয়াসে সবার সমন্বিত অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করি।’

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগত অভিমত হচ্ছে, শিক্ষার সৌন্দর্য হলো কোনটি সঠিক এবং কোনটি ভুল তা নির্ণয় করার সক্ষমতা অর্জন করা।’

ইকবাল মাহমুদ বলেন, “দুর্নীতি নিয়ে অনেক আলোচনা হয়। কিন্তু দুর্নীতির কোনও সর্বজনীন সংজ্ঞা পাওয়া যায় না। অনেকে মনে করেন বিবেকের বাইরে কিছু করাই দুর্নীতি। লোভই মানুষকে বিবেকের বাইরে নিয়ে যায়। সম্পদ বানানোর এই লোভকে নিবারণ করতে হবে। কথায় আছে, ‘দেহ খায় পোকে, আর সম্পদ খায় লোকে’। তাই আমার অনুরোধ সম্পদের মোহে বিবেকের বাইরে গিয়ে কেউ কিছু করবেন না। এ সম্পদ আপনি হয়তো ভোগ করতেই পারবেন না।”

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন—অক্সফাম বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা কান্ট্রি ডিরেক্টর ও স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত জুলিয়ান ফ্রান্সিস ওবিই , অক্সফাম বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. দীপঙ্কর দত্ত, নাট্য অভিনেতা আজিজুল হাকিম, শহীদুজ্জামান সেলিম, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শারমিন্দ নিলরময় ডালিয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সালমা ও দুদকের প্রতিরোধ অনুবিভাগের মহাপরিচালক এ কে এম সোহেল।

অনুষ্ঠানে দুদকের আয়োজনে চলমান বিতর্ক প্রতিযোগিতা নিয়ে অক্সফামের স্বেচ্ছাসেবীরা একটি তথ্য চিত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে জানান, দেশের ৪৯৩টি উপজেলার ২৬ হাজার ২১৩টি বিদ্যালয়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতার প্রথম ধাপ সম্পন্ন হয়েছে। এই প্রতিযোগিতার ১ লাখ ৪০ হাজার ছবি সংগ্রহ করা হয়েছে এবং প্রায় ৩ লাখ শিক্ষক এ প্রতিযোগিতায় সম্পৃক্ত হয়েছেন।

 

/ডিএস/আইএ/

লাইভ

টপ