অভিজিৎ হত্যা: বছর শেষে রায় পাওয়ার আশা রাষ্ট্রপক্ষের

Send
জামাল উদ্দিন ও তোফায়েল হোছাইন
প্রকাশিত : ১২:৫৯, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:৩২, ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২০

অভিজিৎ হত্যা মামলালেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায় হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালে। ২০১৯ সালের ১ আগস্ট এ মামলার বিচার শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ৩৪ সাক্ষীর মধ্যে ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমান। এ মামলায় পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ রয়েছে আগামী ২ মার্চ। চলতি বছরের মধ্যেই এ মামলার বিচারকাজ শেষ হবে বলে আশা করছে রাষ্ট্রপক্ষ।

অভিজিৎ রায় হত্যা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী গোলাম সারোয়ার খান জাকির বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মামলাটির বিচার কার্যক্রম শুরুর পর থেকেই ৬ আসামির মধ্যে চারজন কারাগারে। দু’জন এখনও পলাতক। ৩৪ সাক্ষীর মধ্যে এ পর্যন্ত ১০ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। বাকিদেরও দ্রুত সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করে এ বছরের শেষ নাগাদ রায় পাওয়ার আশা করছি।’ রায়ে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

অভিজিৎ রায়ের ছোট ভাই অনুজিৎ রায় বলেন, ‘আশা করছি ভাই হত্যার বিচার একদিন পাবো। আবার কখনও কখনও মনে হয় এই হত্যার বিচারে কিছুই হবে না।’  তিনি আরও বলেন, ‘এ হত্যা মামলার দুই আসামি এখনও পলাতক। পুলিশ তাদের গ্রেফতার করতে পারেনি। এটা নিয়ে আমরা শঙ্কিত। কখন আবার কী হয় তাতো বলা যায় না।’

অভিজিৎ রায়ের স্ত্রী বন্যা আহমেদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে অনুজিৎ বলেন, ‘তিনি এখন বিদেশে। তিনি দেশে আসতে চাচ্ছেন না। আমরাও চাই না তিনি বাংলাদেশে আসুন। তার নিরাপত্তা কে দেবে? এদেশে তার কোনও নিরাপত্তা  নেই।’

মামলার ভিকটিম ও অন্যতম সাক্ষী বন্যা আহমেদ আদালতে সাক্ষ্য না দিলে মামলার কোনও ক্ষতি হবে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে গোলাম সারোয়ার খান জাকির বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তিনি ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী। তিনি সাক্ষ্য দিলে মামলা প্রমাণ করা রাষ্ট্রপক্ষের জন্য সহজ হবে। আমরা আশা করি তিনি (বন্যা) আদালতে এসে সাক্ষ্য দেবেন।’

ট্রাইব্যুনাল সূত্র জানায়, পুলিশের কাউন্টার টেররিজম থেকে গত বছরের ১১ এপ্রিল ব্লগার অভিজিত রায় হত্যাকাণ্ডে ছয়জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ওই বছরের ১ আগস্ট ৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার কাজ শুরু করেন সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমান।

যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার কাজ শুরু করা হয় তারা হলো, নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের মদতদাতা হিসেবে পরিচিত সৈয়দ মোহাম্মদ জিয়াউল হক ওরফে মেজর জিয়া, মোজাম্মেল হুসাইন ওরফে সায়মন, আবু সিদ্দিক সোহেল ওরফে সাকিব ওরফে সাজিদ ওরফে সাহা, আরাফাত রহমান, শাফিউর রহমান ফারাবী এবং আকরাম হোসেন ওরফে আবির ওরফে আদনান ওরফে হাসিবুল ওরফে আবদুল্লাহ। আসামিদের মধ্যে মেজর জিয়া ও আকরাম হোসেন পলাতক। বাকি চারজন কারাগারে।

সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর পর মামলার বাদী ও অভিজিৎ রায়ের বাবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক অধ্যাপক অজয় রায় গত বছরের ২৮ অক্টোবর আদালতে সাক্ষ্য দেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৯ ডিসেম্বর মারা যান তিনি।

প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি বইমেলা থেকে স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যাকে নিয়ে ফেরার পথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় ব্লগার অভিজিৎ রায়কে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় বন্যাও গুরুতর আহত হন। পরে অভিজিত রায়ের বাবা অজয় রায় বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি প্রথমে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও পরে ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি) তদন্ত করে। তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ১১ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র দেয় সিটিটিসি।

অভিজিত রায় হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের মধ্যে মুকুল রানা ওরফে শরিফুল ইসলাম ওরফে হাদী ডিবির সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মারা যান। আর হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে সায়মন, সোহেল ও আরাফাত ইতোমধ্যে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

/এমআর/এমএমজে/

লাইভ

টপ
X