‘করোনা রোগীদের জন্য প্রস্তুত ১৫০টি আইসিইউ বেড’

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২২:৪৪, মার্চ ১৭, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:৪৯, মার্চ ১৭, ২০২০




করোনা ভাইরাস প্রস্তুতিকরোনা মোকাবিলায় কেউ যেন তথ্য গোপন না করেন সে বিষয়ে সবাইকে আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, ‘করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য দেশে এ মুহূর্তে হাসপাতালগুলোতে ১৫০টির মতো আইসিইউ বেড প্রস্তুত রয়েছে।’

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) কোভিড-১৯ নিয়ে নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

ব্রিফিংয়ে দেশে পর্যাপ্ত কিট রয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আইইডিসিআরের পরীক্ষা করার সক্ষমতা রয়েছে, আইইডিসিআরের সক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করার কোনও অবকাশ নেই।’

আইইডিসিআর দিনে এক হাজারের বেশি নমুনা পরীক্ষা করতে পারবে দাবি করে তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের যে ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া আছে, কিট নেই বলে সক্ষমতা নেই বলে এখন পর্যন্ত আমরা কোনও পরীক্ষা বন্ধ করিনি, বন্ধ করা হবে না। কিটের ফ্লো যেন ঠিক থাকে সে বিষয়ে আমাদের যথেষ্ট প্রস্তুতি এবং পরিকল্পনা নেওয়া আছে।’

ব্রিফিংয়ে তিনি বিদেশি বায়ারদের বিষয়ে বলেন, ‘দেশে অনেক প্রতিষ্ঠান রয়েছে যেখানে বিদেশি বায়াররা আসেন। এ মুহূর্তে তারা যদি আসেন, তাহলে যেন দাফতরিক কাজের সময় অনেক লোকের মাঝে না যান, কারণ তাদের মাধ্যমেও করোনা সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে।’

সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, ‘আমাদের কাছে গার্মেন্টস মালিকরা জানতে চেয়েছেন তারা কী করবেন। কেবল তাদের জন্য নয়, যেসব অফিসে একসঙ্গে অনেক মানুষের সমাগম হয় অথবা যেখানে কাছাকাছি বসা হয়, সেসব জায়গাতে, কারও যদি কোনও লক্ষণ বা উপসর্গ থাকে তাহলে তাদেরকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া দরকার এবং যতদিন তারা সুস্থ না হবেন ততদিন তাদেরকে ছুটি দিতে হবে।’

‘এক্ষেত্রে মালিকদের প্রতি অনুরোধ কোয়ারেন্টাইনে থাকার ১৪ দিন যেন তাদেরকে স্ববেতনে ছুটির ব্যবস্থা করা হয়। নয়তো কারও এ ধরনের লক্ষণ হলেও, তারা তথ্য গোপন করবেন। এই তথ্য যেন কেউ গোপন না করেন, সেই ব্যবস্থাই নিতে হবে’, যোগ করেন তিনি।

বিদেশ ফেরতদের বিষয়ে তিনি বলেন, তাদের অবশ্যই ১৪ দিন একটি ঘরের মধ্যে থাকতে হবে। অত্যবশ্যকীয় না হলে ঘরের বাইরে যাওয়া যাবে না, যেতে হলে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। জ্বর-কাশি-গলাব্যথা-শ্বাসকষ্ট থাকলে আইইডিসিআরের হটলাইনে যোগাযোগ করতে হবে।

অতিরিক্ত সতকর্তা হিসেবে স্কুল ও জনসমাগম বন্ধ রাখা বা সমাবেশে না যাওয়ার জন্য বলা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, এসব পদক্ষেপ নেওয়ার কারণে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। যারা বিদেশ থেকে এসেছেন তাদের সবাইকে যদি ১৪ দিন সঠিকভাবে ঘরে রাখা যায়, তাহলে দেশে স্থানীয়ভাবে রোগটি ছড়িয়ে পরার আশঙ্কা থাকবে না।

গণপরিবহনের যাতায়াত সর্ম্পকে তিনি বলেন, যাদের হাঁচি-কাশি, সর্দি ও গলা ব্যথা রয়েছে তারা গণপরিবহন ব্যবহার করবেন না। গাড়ি চালকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, চালকদের কারও মধ্যে যদি এ ধরনের কোনও লক্ষণ-উপসর্গ থাকে, তাহলে তারা যেন গাড়ি না চালান। এই দুটো পরামর্শ যদি মেনে চলা যায়, তাহলে গণপরিবহন থেকে সংক্রমণের আশঙ্কা সীমিত হবে।

গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে আইইডিসিআর পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, যে জায়গাগুলোতে রোগী রয়েছে এবং যেসব জায়গাতে কোয়ারেন্টাইন করা হচ্ছে সেসব জায়গাতে কিংবা তার আশেপাশে যাবেন না। জনসমাগমে যেতে হলে অবশ্যই মাস্ক পরে যেতে হবে।

 

/জেএ/টিটি/

লাইভ

টপ