করোনা মোকাবিলায় জাতীয় কৌশল প্রণয়নের আহ্বান টিআইবির

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৯:৩৫, মার্চ ২৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:৩৫, মার্চ ২৮, ২০২০

টিআইবিকরোনা ভাইরাস সংক্রমণে উদ্ভূত সংকট মোকাবিলায় স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় কৌশল প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। একইসঙ্গে জিডিপির অন্তত ১০ শতাংশ পরিমাণ অর্থে বিশেষ তহবিল গঠনেরও আহ্বান জানানো হয়েছে। এই কৌশল বাস্তবায়ন ও তহবিল ব্যবহারে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বলেছে সংস্থাটি। শনিবার (২৮ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই আহ্বান জানান টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

বিবৃতিতে বলা হয়, গত ২৫ মার্চ জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিকে জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে আখ্যায়িত করে সম্মিলিতভাবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার যে ডাক দিয়েছেন তার প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেছেন ড. ইফতেখারুজ্জামান।

তিনি বলেন, ‘হোম-কোয়ারেন্টিনে দেশবাসীকে পাঠিয়ে অপ্রতুল ও বিক্ষিপ্ত কিছু প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করে হাতগুটিয়ে বসে থাকার সময় নেই। এখনই সংশ্লিষ্ট দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ত করে একটি সমন্বিত স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা সম্বলিত জাতীয় কৌশল চূড়ান্ত করতে হবে এবং একইসঙ্গে তার বাস্তবায়নের জন্য জিডিপির অন্তত ১০ শতাংশ পরিমাণ অর্থের যোগানের পাশাপাশি বহুমুখী উদ্যোগ চালিয়ে যেতে হবে। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ চিহ্নিত করা এবং চিকিৎসার সক্ষমতা বাড়াতে হবে। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে এবং তাদের অবদানের উপযুক্ত সম্মান দিতে হবে।’

রফতানি সংশ্লিষ্টখাতের শ্রমিক ও হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়াতে প্রধানমন্ত্রী যে ঘোষণা দিয়েছেন, তাকে সাধুবাদ জানিয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘কীভাবে এর বাস্তবায়ন হবে, বরাদ্দকৃত অর্থ কোন প্রক্রিয়ায় শ্রমিকদের হাতে যাবে এবং এ ক্ষেত্রে কীভাবে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে, তার সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া এখনই নির্ধারণ করতে হবে। এই সহায়তা দেশের হতদরিদ্রদের জন্য সমভাবে সম্প্রসারিত করতে হবে। একইভাবে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী যেমন, স্বল্প বেতনের কর্মজীবী মানুষ, দিনমজুর, শ্রমিক, কৃষক, রিকশাচালক, গৃহকর্মী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী; যাদের অনেকেই ইতোমধ্যে বেকার হয়ে পড়েছেন বা হবেন, তাদেরও এর আওতায় আনতে হবে।’

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘সংকট চলাকালীন খাদ্যপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর সরবরাহ সচল রাখতে হবে। তা না হলে কোভিড-১৯ এর পাশাপাশি কোয়ারেন্টিনই মানুষের ক্ষুধা ও মৃত্যুর কারণ হবে। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে নিয়োজিত পুলিশের একাংশের বিভ্রান্ত ও অশোভন বলপ্রয়োগ সংকট ঘনীভূত করছে, যা বন্ধ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘নাগরিকের মৌলিক অধিকার, বিশেষ করে জীবন-জীবিকার অধিকারের পাশাপাশি বাকস্বাধীনতা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা লঙ্ঘনের সব সম্ভাবনা প্রতিহত করা সরকারের দায়িত্ব। সরকারের বরাদ্দের পাশাপাশি দেশের ধনিকশ্রেণিকে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। জনগণের করের টাকায় ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের একাংশ বিভিন্ন সময় বহুমুখী সুবিধা নিয়ে সম্পদ বাড়িয়েছেন। আজ এই ক্রান্তিলগ্নে তারা দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবেন।’

বাংলাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগে লিপ্ত বিদেশি ও বহুজাতিক কোম্পানি, আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থারও এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্রিয়ভাবে অবদান রাখার আহ্বান জানায় টিআইবি।

ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, ‘বিশাল এ সংকট মোকাবিলায় সফল হতে হলে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতার কোনও বিকল্প নেই। তথ্যের স্বচ্ছ ও অবাধপ্রবাহ নিশ্চিত করতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠান সচেষ্ট হবেন বলে আশা করি। বিশেষ করে কোন খাতে কত বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে, অর্থায়নের উৎস এবং কীভাবে ও কতটা কার্যকরভাবে তা ব্যয় করা হচ্ছে, সে তথ্য নিয়মিত প্রকাশ ও হালনাগাদ করতে হবে। এই সংকটকে পুঁজি করে যেন কোনও ধরনের দুর্নীতি না হয় এবং কেউ যেন অন্যায্য মুনাফা করতে না পারেন, সে ব্যাপারে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে, সরকারি প্রতিষ্ঠান প্রদত্ত তথ্যের ব্যাপারে আস্থাহীনতার সুযোগে গুজব ছড়াচ্ছে, যা জনমনে আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। সংক্রমণ, প্রাণহানি, চিকিৎসা ও সুস্থ হওয়ার সংখ্যাসহ প্রতিরোধ ও প্রতিকারমূলক সব কার্যক্রমের তথ্য কোনওপ্রকার ঢেকে না রেখে প্রকাশ করাটা জরুরি। তাতে জনগণ অধিকতর সতর্ক হওয়ার সুযোগ পাবেন। এতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওপর জনগণের আস্থা বাড়বে।’

/আরজে/আইএ/

লাইভ

টপ