ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সম্মিলিত প্রার্থনা বন্ধের আহ্বান ১৭ চিকিৎসকের

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২১:৩২, এপ্রিল ০৩, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:১৮, এপ্রিল ০৩, ২০২০

দেশের সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সম্মিলিত প্রার্থনা বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছেন ১৭ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) এর গণসংক্রমণ প্রতিরোধে সামাজিক বা শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে চলতে (বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী) এ আহ্বান জানিয়েছেন তারা। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) গণমাধ্যমে ১৭ জন চিকিৎক স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘কোভিড-১৯’ এর হাত থেকে মুক্ত থাকার প্রধান উপায় হচ্ছে- সামাজিক/শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে চলা। এজন্য বিশ্বের সর্বত্র রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সমাবেশসহ জনসমাগম হতে পারে এমন সবকিছু আইনি প্রক্রিয়ায় বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে কিছু ধর্মীয় নেতৃত্ব স্থানীয় ব্যক্তি ধর্মীয় সমাবেশ স্থগিত না করে তা অব্যাহত রেখেছেন। এ কারণে মালয়েশিয়া, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া, ভারতে মুসলিমদের তাবলীগ জামাত ও জামাতে নামাজ পড়ার মাধ্যমে কোভিড-১৯ ছড়িয়েছে।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘দক্ষিণ কোরিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় চার্চের প্রার্থনা অনুষ্ঠানের দ্বারা এই রোগের বিস্তার ঘটেছে। আমরা জানি জনসমাগম এবং নামাজের জামাত বন্ধ রাখতে মক্কা ও মদীনার মতো অতি পবিত্র নগরীতেও অনির্দিষ্টকালের জন্য কারফিউ জারি করা হয়েছে।’

বাংলাদেশের পরিস্থিতি উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, আমরা অত্যন্ত বেদনার সঙ্গে লক্ষ্য করেছি কিছু আলেম ওলামার অদূরদর্শিতার জন্য বাংলাদেশের মসজিদে মসজিদে জুমার নামাজ ও পাঞ্জেগানা নামাজ জামাতে পড়া হচ্ছে। এদেশে কোভিড-১৯ এখন গণসংক্রমণের প্রথম ধাপে রয়েছে। আমরা আশঙ্কা করছি জামাতে অংশগ্রহণ করার মধ্য দিয়ে এই সংমক্রণের ব্যাপক বিস্তারের পথ উন্মুক্ত হবে। তাতে কোভিড-১৯ প্রতিরোধের কাজ বিপর্যস্ত হবে।

সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সম্মিলিত প্রার্থনা বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এরকম বাস্তবতায় আমরা নিম্নলিখিত চিকিৎসকগণ কোভিড-১৯ এর গণসংক্রমণ প্রতিরোধে মসজিদে জামাতে নামাজ আদায়সহ সব ধরনের ধর্মীয় জমায়েত এবং একই সঙ্গে মন্দির, বৌদ্ধমন্দির, চার্চসহ অন্যান্য উপাসনালয়ে সম্মিলিত প্রার্থনা স্বাস্থ্যবিধি ও রোগতত্ত্বীয় দৃষ্টিকোণ থেকে আইন প্রয়োগ করে বন্ধ রাখার দাবি জানাচ্ছি। এটি কেবলমাত্র আপদকালীন ব্যবস্থা হবে।’

স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকদের মধ্যে রয়েছেন- অধ্যাপক ডা. রওশন আরা বেগম (স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ), অধ্যাপক ডা. আবু সাঈদ (জনস্বাস্থ্য এবং ডায়াবেটিস গবেষক), অধ্যাপক ডা. আশরাফুল ইসলাম সার্জারি বিশেষজ্ঞ), ডা. লেলিন চৌধুরী (জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ), ড. আক্তার বানু (পুষ্টিবিজ্ঞানী ও চিকিৎসক), অধ্যাপক ডা. কাজী রকিবুল ইসলাম (শিশু-কিশোররোগ বিশেষজ্ঞ), সহযোগী অধ্যাপক ডা. বিলকিস বেগম চৌধুরী (স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ), অধ্যাপক ডা. এবিএম জামাল (সার্জারি বিশেষজ্ঞ) ডা. এম আর করিম রেজা (চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ), সহকারী অধ্যাপক ডা. সারওয়ার ইবনে সালাম (হাড় ও জোড়া বিশেষজ্ঞ), অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম (চক্ষু), অধ্যাপক ডা.ফজলুর রহমান (অ্যানেস্থেসিয়া), অধ্যাপক ডা. শাকিল আক্তার (হাড় ও জোড়া), অধ্যাপক ডা. আ. খালেক (চক্ষু), ডা. নুপুর আক্তার, অধ্যাপক ডা. আরিফুর রহমান (শিশু সার্জারি), অধ্যাপক ডা. রোকসানা দিল আফরোজ (ওষুধবিজ্ঞান)।

/আরজে/টিটি/

লাইভ

টপ