ভেস্তে গেলো মনিরুজ্জামানের ‘এ প্লাস’ মিশন!

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৮:৪৯, মে ২৯, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:৩৪, মে ২৯, ২০২০



সিআইডির হাতে আটক মনিরুজ্জামানএসএসসি পরীক্ষায় ‘এ প্লাস’ পাইয়ে দেওয়ার নামে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার মিশনে নেমেছিলেন ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার যুবক মনিরুজ্জামান (২৪)। নিজেকে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল প্রস্তুতের সঙ্গে সম্পৃক্ত পরিচয় দিয়ে, ফলাফল পরিবর্তনের জন্য কয়েকজনের থেকে টাকাও নিয়েছিলেন। টাকা পাওয়ার পর ভিকটিমদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্লক করে দিতেন তিনি। তবে শেষরক্ষা হয়নি, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তার সমস্ত পরিকল্পনা ভেস্তে দেয়। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) রাত সাড়ে ১১টার দিকে শৈলকূপা থেকে গ্রেফতার করা হয় মনিরুজ্জামানকে।

সিআইডির ডিআইজি শেখ নাজমুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘এ প্লাস’ পাইয়ে দেওয়ার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে প্রতারণা করে আসছিল মনিরুজ্জামান। সাইবার পুলিশের প্রযুক্তিগত সহায়তায় সিআইডি ও জেলা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে।

প্রতারণার কৌশল সম্পর্কে সিআইডি জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এসএসসি পরীক্ষা খারাপ হলেও পাস করিয়ে দেওয়া, ফলাফল আফগ্রেড করা ও এ-প্লাস পাইয়ে দেওয়ার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি প্রচার করছিল মনিরুজ্জামান। হাসান মাহমুদ নামে ফেইক ফেসবুক আইডির মাধ্যমে নিজেকে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল প্রস্তুত কাজে নিয়োজিত ব্যক্তি হিসেবে পরিচয় দিতেন তিনি। যাদের পরীক্ষা খারাপ হয়েছে, ফলাফল পরিবর্তন করতে চায় বা এ-প্লাস পেতে আগ্রহী, তাদের ইনবক্সে যোগাযোগের আহ্বান জানাতেন। আগ্রহীরা ইনবক্সে যোগাযোগ করলে ভিন্ন ভিন্ন কাজের জন্য ভিন্ন অঙ্কের টাকা দাবি করতেন। ভিকটিমের কাছ থেকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ব্লক করে দেওয়া হতো।

মামলার তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, ফলাফল পরিবর্তন করার জন্য একেক জনের কাছ থেকে ১০ হাজার বা তার বেশি করে টাকা নিতেন মনিরুজ্জামান।

ডিআইজি শেখ নাজমুল আলম বলেন, হাসান মাহমুদ আইডিটি ফেক ছিল। সিআইডির সাইবার পুলিশ ফেক ফেসবুক আইডির মালিক ও তার অবস্থান শনাক্ত করে। এরপরই অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। আটক মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে শৈলকূপা থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করা হয়েছে।

ফেসবুক বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফলাফল পরিবর্তন বা প্রশ্নফাঁসের বিজ্ঞাপন দেখে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের প্রতারণার ফাঁদে পা না দেওয়ার আহ্বান জানান সিআইডির এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রশ্নফাঁস বা এ সংক্রান্ত প্রতারণার বিরুদ্ধে কাজ করছি। প্রতারকরা মানুষের সরলতা ও লোভকে পুঁজি করে ফাঁদ পাতে। এ ধরনের ফাঁদে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পা দেওয়া উচিত নয়।

/আরজে/টিটি/এমওএফ/

লাইভ

টপ