স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা জাতীয়করণের উদ্যোগ

Send
এস এম আববাস
প্রকাশিত : ২২:১০, জুন ০১, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:৪০, জুন ০১, ২০২০

শিক্ষা মন্ত্রণালয়দীর্ঘ ৩৬ বছরের বঞ্চনার অবসান হচ্ছে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষকদের। প্রাথমিকের মর্যাদায় জাতীয়করণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ এ লক্ষ্যে কাজ করছে।

জানতে চাইলে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মুনশী শাহাবুদ্দীন আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মূল ধারায় আনতে হবে। তাই জাতীয়করণ করা যায় কিনা সে বিষয় ভাবা হচ্ছে। আমরা চেষ্টা করছি। তবে প্রক্রিয়ার বিষয় রয়েছে। আমাদের তথ্য প্রয়োজন। জেলা প্রশাসন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে কিছু তথ্য এনেছি। এই লক্ষ্যে (জাতীয়করণ) কাজ করছি।’

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের ৪ হাজার ৩১২টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা বেতন কাঠামোর আওতায় নেওয়ার প্রক্রিয়া করা হয় গত বছর। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নিবন্ধিত ও সরকারি অনুদান পাওয়া প্রতিষ্ঠান রয়েছে ১ হাজার ৫১৯টি। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ জরিপে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে সাড়ে তিন হাজারের মতো।

গত বছরের ৯ মে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিসংখ্যান তুলে ধরে এমপিওভুক্তির জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সারাংশ পাঠায় কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ। কিন্তু স্কুল-কলেজসহ কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নতুন এমপিওভুক্তির সুযোগ পেলেও স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি প্রতিষ্ঠান তা পায়নি।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক। স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি শিক্ষাকে মূল ধারার বাইরে রাখতে চান না প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাই স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসাগুলোকে প্রাথমিকের সমান মর্যাদায় জাতীয়করণ করার লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ। গত বছর দেশের সব স্বতন্ত্র মাদ্রাসার তালিকা তৈরি এবং কতজন শিক্ষক কাজ করেন তার তথ্য সংগ্রহ করা হয়। সেই তথ্য আবার যাচাই-বাছাই করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ দেশের প্রাথমিক স্তরের স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা স্থাপন, স্বীকৃতি, পরিচালনা, জনবল কাঠামো এবং বেতন-ভাতা/অনুদান সংক্রান্ত নীতিমালা ২০১৮ সালের ১৮ নভেম্বর জারি করে সরকার। নীতিমালায় স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষকদের প্রাথমিক শিক্ষকের সমান মর্যাদা দেওয়া হয়। নীতিমালা অনুযায়ী ইবতেদায়ি মাদ্রাসায় প্রধানসহ ৫ জন শিক্ষক থাকবেন। এদের মধ্যে একজন ইবতেদায়ি প্রধান, দুই জন ইবতেদায়ি সহকারী শিক্ষক, একজন সহকারী শিক্ষক (বিজ্ঞান) এবং একজন ইবতেদায়ি ক্বারি শিক্ষক। ইবতেদায়ি প্রধান ১১তম গ্রেডে বেতন পাবেন। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের (প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত) বেতন গ্রেড ১১তম। তবে নীতিমালা অনুযায়ী ইবতেদায়ি সহকারী এবং ক্বারি শিক্ষক বেতন পাবেন ১৬তম গ্রেডে। বর্তমানে নিবন্ধিত ইবতেদায়ি প্রধান শিক্ষকরা দুই হাজার ৫শ’ টাকা এবং সহকারী শিক্ষকরা দুই হাজার ৩০০ টাকা সরকারি অনুদান পাচ্ছেন।

মন্ত্রণালয়ের আগের হিসাব অনুযায়ী দেশে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা মোট ৪ হাজার ৩১২টি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো প্রস্তাব অনুযায়ী দেশের স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার মোট ৪ হাজার ৩১২টি প্রতিষ্ঠানের বেতন-ভাতা দিতে প্রতি বছর সরকারের ব্যয় হবে ৩১০ কোটি ৯৭ লাখ ৭১ হাজার ২৮০ টাকা। মোট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নিবন্ধিত সরকারি অনুদান পাওয়া প্রতিষ্ঠান এক হাজার ৫১৯টি। এসব মাদ্রাসা এমপিওভুক্ত করলে সরকারের ব্যয় হবে ১০৯ কোটি ৫৪ লাখ ৮৭ হাজার ৬১০ টাকা। আর অনুমোদনহীন ও বিনা অনুদানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে ২ হাজার ৭৯৩টি। এসব প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রতিবছর ব্যয় হবে ২০১ কোটি ৪২ লাখ ৮৩ হাজার ৬৭০ টাকা।

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা বর্তমানে ১২তম গ্রেডে বেতন পাচ্ছেন। আর সহকারী শিক্ষকরা বেতন পাচ্ছেন ১৩তম গ্রেডে। সেই হিসেবে দেশের স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মোট ৪ হাজার ৩১২টি মাদ্রাসার চার জন করে শিক্ষক ধরে বেতন-ভাতা বাবদ ব্যয় হবে ৪০০ কোটি ৫ লাখ ২০ হাজার ১২০ টাকা। মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে সাড়ে তিন হাজারে মতো স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা রয়েছে। এসব মাদ্রাসা জাতীয়করণ করা হলে বেতন-ভাতা বাবদ সরকারে প্রতি বছর ব্যয় হবে ৩২৫ কোটি ৯৭ হাজার ৫০০ টাকা।

বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদের সভাপতি এস এম জয়নুল আবেদীন জেহাদী জানান, ২০১৮ সালের জনবল কাঠামো অনুযায়ী সব প্রতিষ্ঠানে চার জন করে শিক্ষক নেওয়া হয়। অনেক প্রতিষ্ঠান চলছে তিন জন দিয়ে। সেক্ষেত্রে জাতীয়করণ করা হলে শুরুতে ব্যয় ৩০০ কোটির বেশি প্রয়োজন হবে না।

এস এম জয়নুল আবেদীন জেহাদী তাদের দাবি তুলে ধরে বলেন, ‘জাতীয়করণ না হওয়া পর্যন্ত চলতি বাজেটের বরাদ্দ ৩১১ কোটি টাকা সমন্বয় করে শিক্ষকদের বেতন দিতে হবে। আগামী বাজেটে জাতীয়করণের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখতে হবে। ২০১৮ সালের নীতিমালা জারি হওয়ার আগে ২০১৪ সালে শূন্যপদে নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকের বিদ্যমান নিয়মে বেতন ভাতা দিতে হবে।’

/এমআর/এমওএফ/

লাইভ

টপ