বিদেশফেরতদের সহায়তায় ৩ কোটি টাকা দিচ্ছে ব্র্যাক

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২৩:৩৮, জুন ১৮, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:৪১, জুন ১৮, ২০২০

অনলাইনে সহায়তা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীনকরোনা মহামারির সময় চাকরি হারিয়ে বা অসহায় হয়ে দেশে ফেরত আসা সাত হাজার ২৫০ জন অভিবাসী কর্মীকে জরুরি সহায়তা হিসেবে নগদ তিন কোটি টাকা অর্থ সহায়তা দিচ্ছে ব্র্যাক। ব্র্যাকের নিজস্ব অর্থায়ন, রয়েল ড্যানিশ দূতাবাস, সুইস এজেন্সি ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কোঅপারেশন (এসডিসি), প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে আইওএম-ব্র্যাকের যৌথভাবে পরিচালিত প্রত্যাশা প্রকল্প, চিলড্রেন ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড ফাউন্ডেশন (সিফ) এবং ব্র্যাক ইউকে-এর সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে নগদ এই অর্থ প্রদান করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে অনলাইনে ভার্চুয়াল কনাফারেন্সের মাধ্যমে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন।

অনুষ্ঠানে ব্র্যাকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, দেশের বিভিন্নস্থানে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে এবং স্থানীয়ভাবে ব্র্যাকের মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের দ্বারা বিদেশ ফেরত কর্মীদের প্রকৃত অবস্থা যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে তালিকা প্রস্তুত করে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা বিকাশের মাধ্যমে নগদ এই অর্থ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

ইতোমধ্যে এক হাজার ৫৪৫ জন বিদেশফেরত কর্মীর কাছে ৬১ লাখ ৮০ হাজার টাকা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বাকী পাঁচ হাজার ৭০৫ জনের যাচাই-বাছাই চলছে। তারাও দ্রুততম সময়ের মধ্যে জরুরি এই অর্থ-সহায়তা পাবেন। মূলত, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, মালয়েশিয়া, লিবিয়া, ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে যারা ফিরেছেন তারা এই সহায়তা পাচ্ছেন।

ব্র্যাক জানায়, শুধু জরুরি সহায়তা নয়, ব্র্যাকের নিজস্ব অর্থায়ন ও দাতাদের সহায়তায় বিদেশ ফেরতদের মনোসামাজিক সেবা, দক্ষতা তৈরি, অর্থনৈতিক পুনরেকত্রীকরণের জন্য আগামী তিন বছরে প্রায় ১০০ কোটি টাকা পরিকিল্পিতভাবে খরচের পরিকল্পনা রয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত বিদেশ ফেরতদের জরুরি সহায়তা কর্মসূচির উদ্বোধনের পর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. আহমেদ মুনিরুছ সালেহীন বলেন, প্রবাসীদের কল্যাণ নিশ্চিতে সরকার কাজ করছে। কিন্তু এই মুহূর্তে যেটা দরকার, সেটা হচ্ছে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা। এই মুহূর্তে দরকার দৃশ্যমান কোনও সহায়তা যা সরাসরি কাজে লাগতে পারে। সেক্ষেত্রে ব্র্যাক এই যে, তিন কোটি টাকা নগদ অর্থ সহায়তা নিয়ে এগিয়ে এসেছে সেটি অত্যন্ত সময়োপযোগী। আমাদের সবাইকে এভাবে দাঁড়াতে হবে। সরকার ৭০০ কোটি টাকা ঋণ হিসেবে বিদেশ ফেরতদের দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। এসময় তিনি বায়রাসহ অন্যান্য দাতা ও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থাকে প্রবাসী কর্মীদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, সবাই মিলে এগিয়ে এলে বর্তমান সংকট কাটিয়ে সবার জন্য নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করা সম্ভব।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ঢাকার ড্যানিশ দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন রেফিকা হেইতা কোপেনহেগেন থেকে যুক্ত হয়ে বলেন, কোভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে হাজার হাজার প্রবাসী বাংলাদেশে ফিরতে শুরু করেন। ব্র্যাক তখন জরুরি পরিস্থিতিতে বিদেশ ফেরতদের সহায়তা করার জন্য আমাদের প্রস্তাব দেয়। এমন বিরুপ পরিস্থিতিতেও যে মানবিকভাবে সবার পাশে দাঁড়ানোর কৌশল বের করা যায় সেটি কিন্তু ব্র্যাক করে দেখালো।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ব্র্যাকের সিনিয়র ডিরেক্টর কে এ এম মোর্শেদ। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দেশ যখনই কোনও দুর্যোগে পতিত হয়েছে, ব্র্যাক সামনের সারিতে থেকে সরকারের সঙ্গে একাত্ম হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) বাংলাদেশে আঘাত হানার সঙ্গে সঙ্গে ব্র্যাক সরকারের সঙ্গে সহযোগী হয়ে তা মোকাবিলায় কাজ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিদেশ ফেরতদের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ।

তিনি বলেন, আমরা প্রবাসীদের সহায়তা দিচ্ছি বলবো না। দেশের প্রতি তাদের অবদানের কৃতজ্ঞতা স্বরূপ আমাদের পক্ষ থেকে এটি ছোটো উপহার।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা ও মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন ব্র্যাকের মাইগ্রেশন কর্মসূচি প্রধান শরিফুল হাসান। ব্র্যাকের কোভিড-১৯ এর জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং করোনা পরবর্তী সময়ে বিদেশফেরত কর্মীদের জন্য টেকসই পুনরেকত্রীকরণের জন্য প্রোগ্রামের উদ্যোগগুলোর কথা তুলে ধরেন।

বায়রার মহাসচিব শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমান বলেন, অভিবাসীদের পাশে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে ব্র্যাক সবসময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। করোনার এই সময়েও সবার আগে তারা উদাহরণ তৈরি করলো। আমরাও ভাবছি কী করা যায়। সবাই মিলে প্রবাসীদের পাশে দাঁড়াতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন জেলার কয়েকজন বিদেশ ফেরত অভিবাসী কর্মী করোনায় তাদের অবস্থা তুলে ধরেন।

 

 

/এসও/টিটি/

লাইভ

টপ