এই গরম থাকবে, কেন?

Send
উদিসা ইসলাম
প্রকাশিত : ১৭:৩৭, আগস্ট ০৩, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১০:১১, আগস্ট ০৪, ২০২০

কয়েক দিন ধরেই দেশজুড়ে প্রচণ্ড ভ্যাপসা গরম। থেমে থেমে বৃষ্টি হলেও অসহনীয় গরম কিছুতেই কমছে না। রাজধানী ঢাকায় সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে ১৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হওয়ার পরেও গরমে ঝলসে যাচ্ছে শরীর। রবিবার (২ আগস্ট) দেশে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস । কিন্তু অনুভব হচ্ছিল প্রায় ৪০ ডিগ্রির মতো। আবহাওয়া অধিদফতর বলছে— বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় তাপমাত্রা কম থাকলেও ‘ফিল লাইক’ (যতটা গরম না ততটাই অনুভব করা) আরও দেড় মাস হবে।

সারারাতের তীব্র গরমের পর সোমবার ভোরে রাজধানীতে বৃষ্টির দেখা মেলে। কিন্তু সকাল আটটার পর থেকেই শরীরে আবারও প্রচণ্ড গরম এবং অস্বস্তি  অনুভব হতে থাকে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, তিন কারণে এইরকম গরম অনুভূত হচ্ছে।

গরমের তিন কারণ

আবহাওয়া অফিসের দেওয়া তথ্যমতে, রবিবার দেশে ৩৪.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা ছিল। সেটি এই সময়ে স্বাভাবিক বলা যাবে না। কারণ, গত ৩০ বছরের এই দিনের হিসাব গড় করলে তাপমাত্রা হওয়ার কথা ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অর্থাৎ, রবিবার স্বাভাবিকের চেয়ে তিন ডিগ্রি বেশি তাপমাত্রা ছিল। এর কারণ উল্লেখ করতে গিয়ে আবহাওয়া অফিস জানায়— বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি, বাতাসের গতিবেগ কম, সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রার মধ্যে একেবারেই ফাঁক না থাকা, দীর্ঘ সময় ধরে সূর্যের তাপ ভূ-পৃষ্ঠে পড়ার কারণে গরম যতটা না— ততটা অনুভূত হচ্ছে।

শ্রাবণের শেষের দিকে এমন গরম পড়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে আবহাওয়াবিদ আবদুর রহমান খান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বাতাসে প্রচুর জলীয় বাষ্প থাকে এই সময়ে। এই জলীয় বাষ্পের কারণে শরীরে প্রচুর ঘাম হয়। আর এই ঘামের কারণে একটু গরম পড়লে মনে হয় গরমটা অনেক বেশি।’ দিনের লম্বা সময় সূর্যের কিরণ ভূ-পৃষ্টে পড়াটাও একটি কারণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এখন দিনের ব্যাপ্তি বেশ দীর্ঘ। সূর্যের তাপ লম্বা সময় ধরে ভূ-পৃষ্ঠে পড়ার কারণে গরম বেশি অনুভূত হচ্ছে।’

সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ তাপমাত্রার মধ্যকার পার্থক্য না থাকা, গরম বেশি অনুভূত হওয়ার আরেকটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করে আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রবিবার (২ আগস্ট) সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪ এর সামান্য বেশি, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৭। পার্থক্য ১০ ডিগ্রির কম থাকলে এরকম অস্বস্তি অনুভব হওয়ার কথা।’ মৌসুমি বৃষ্টিতে তাপমাত্রা কমে না উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘আগাম সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে সূর্যের দক্ষিণায়ন শুরু হলে এই অস্বস্তি দূর হতে শুরু করবে। এসময় জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় তাপমাত্রা যা-ই থাকুক গরমের ফিলিংস বেশি হবে। গতকাল রবিবার বাতাসে জলীয় বাষ্প ছিল ৯৫, বিকাল সেটা ছিল ৮৮। আজকেও পরিমাণটি সেরকমেরই।

পূর্বাভাস কী বলে

আবহাওয়াবিদরা আগেই পূর্বাভাস দিয়েছিলেন, মৌসুমি বায়ুর কারণে শ্রাবণে গরম বাড়বে। শ্রাবণের ১৯ দিন পেরিয়ে আসার পর এখন সেই গরমের অস্বস্তিতে পড়েছে সারাদেশ। আবহাওয়া অধিদফতরের পূর্বাভাসে বলা হয়— মৌসুমি বায়ু ভারতের পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত। এর একটি বর্ধিতাংশ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।

বৃষ্টির আগাম বার্তা দিতে গিয়ে বুলেটিনে জানানো হয়— রংপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

ছবি: সাজ্জাদ হোসেন

 

/এপিএইচ/

লাইভ

টপ