এলাকাভিত্তিক ধারণ ক্ষমতা এবং জনঘনত্ব নির্দিষ্ট করে উন্নয়ন করতে হবে: বিআইপি

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২০:১৭, অক্টোবর ২০, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:২০, অক্টোবর ২০, ২০২০

ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে হলে শহরের ভারবহন ক্ষমতা বিবেচনায় এলাকাভিত্তিক ধারণ ক্ষমতা ও জনঘনত্ব নির্দিষ্ট করে উন্নয়ন পরিকল্পনা করতে হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)। মঙ্গলবার ‘ঢাকা শহরের জনঘনত্ব, বাসযোগ্যতা ও উন্নয়ন ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিআইপির প্রতিবেদন প্রকাশ’ শীর্ষক এক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বিআইপির সাধারণ সম্পাদক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, যেকোনও শহরের বাসযোগ্যতার অন্যতম পরিমাপক শহরের জনঘনত্ব। সেই হিসেবে বাসযোগ্যতার সূচকে ঢাকা শহরের অতি নিম্ন অবস্থানের প্রধান কারণ অতিরিক্ত জনসংখ্যা ও অধিক জনঘনত্ব। উন্নয়ন পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনায় জনসংখ্যা, জনঘনত্ব ও শহরের বিদ্যমান অবকাঠামো ও নাগরিক সুযোগ-সুবিধাদির সাপেক্ষে শহরের ভারবহন ক্ষমতা বিবেচনা না করা হলে যে কোনও শহর তার বাসযোগ্যতা হারাবে। ঢাকা এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
বিআইপির প্রতিবেদনে অন্যান্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের জনঘনত্বের একটি তুলনা চিত্র তুলে ধরা হয়। এতে জানানো হয়, একটি বড় শহরের জনঘনত্বের জন্য মানদণ্ড ধরা হয় প্রতি একরে ৭০-৮০ জন। যা সর্বোচ্চ ১২০ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শহর এলাকায় হতে পারে। জাপানের টোকিও শহরের কেন্দ্রীয় এলাকার ওয়ার্ড সমূহের জনঘনত্ব একরপ্রতি ৯০ এর নিচে, অস্ট্রেলিয়ায় সিডনি শহরের সর্বোচ্চ জনঘনত্ব প্রতি একরে ৫৮ জন এবং সিঙ্গাপুরকে উঁচু ভবন এর শহর বলা হয়, কিন্তু সেখানেও শতকরা ৮০ ভাগ জমি সরকারের মালিকানাধীন এবং শতকরা ৯০ভাগ আবাসন সরকার প্রদান করে থাকে এবং একটা পরিকল্পনা এলাকা (প্ল্যানিং ডিসট্রিক্ট) ব্যতীত বাকি সকল পরিকল্পিত শহরের জনঘনত্ব প্রতি একরে ৮০ জন এর নিচে।
তিনি বলেন, যে কোন শহরের ইমারত নির্মাণ বিধিমালায় রাস্তাকে বিবেচনায় নেওয়া হয়। কিন্তু ঢাকার ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ২০০৮ এ ভবনের উচ্চতা নির্ধারণে রাস্তার প্রশস্ততার বিবেচনা বাদ দিয়ে করা হয়েছে। এতে অবকাঠামো ও নাগরিক সুবিধাদির ভিত্তিকে এলাকাভিত্তিক ভারবহন ক্ষমতাকে বিবেচনায় না নিয়ে সুউচ্চ ফ্লোর এরিয়া অনুপাত (এফএআর) প্রস্তাব করার ফলে ঢাকা শহরের জনসংখ্যা ও জনঘনত্ব ক্রমাগত বেড়েই চলছে।
এছাড়াও ঢাকার অতিঘন এলাকায় ব্যক্তিগত মালিকানায় ১, ২ বা ৩ তলা বিশিষ্ট ভবনের সংখ্যা শতকরা ৪০-৫০ ভাগ আছে, যেগুলো বিদ্যমান ইমারত সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী ভবিষ্যতে পুনঃউন্নয়ন করা হলে এসব এলাকার জনসংখ্যা ও জনঘনত্ব বাসযোগ্যতার জন্য ভয়ংকর হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। একইসঙ্গে বিআইপি’র পক্ষ থেকে জনঘনত্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী উন্নয়ন না করে হলে পূর্বাচল নতুন শহর ও ভবিষ্যতে অবাসযোগ্য হয়ে যাবে।
ড. আদিল আরও বলেন, ঢাকাকে বসবাস অযোগ্যতার হাত থেকে বাঁচাতে হলে ঢাকা শহরের জনসংখ্যা ও জনঘনত্ব নিয়ন্ত্রণের বিকল্প নেই। এছাড়াও ঢাকার খোলা জায়গা, জলাভূমি কমে যাবার ফলে এবং পরিকল্পনা মাফিক অবকাঠামো ও নাগরিক সুবিধাদি তৈরি না করবার ফলে জনসংখ্যা ধারণ ক্ষমতা কমে গেছে। তাই এলাকাভিত্তিক জনঘনত্বকে গুরুত্ব দিয়ে ডিজাইন পপুলেশন ঠিক করতে হবে। একে বিবেচনায় রেখে পরিকল্পনা করতে হবে।
বিআইপির সভাপতি ড. আকতার মাহমুদ বলেন, রাজউকের প্রধান ৩টি কাজের মধ্যে ‘উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ’ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণে যে সকল উপায় অবলম্বন করতে হবে তার মধ্যে এফএআর প্রয়োগ অন্যতম। ২০০৮ সালের ‘মহানগর ইমারত নির্মাণ বিধিমালা’ তৈরির মধ্য দিয়ে ঢাকা শহরের উন্নয়ন ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে পরিচালিত হয়নি। সারা শহরের জন্য একই ধরনের উচ্চ এফএআরের মান ঢাকা শহরের জনঘনত্বকে অব্যবস্থাপনযোগ্য করে তুলেছে। এর মান নির্ধারণ করতে হয় পরিবহণ সক্ষমতা, অবকাঠামো ও নাগরিক সেবার সংস্থানের উপর নির্ভর করে, যা একটা বিজ্ঞান। কিন্তু ঢাকা শহরের ভারবহন ক্ষমতাকে বিবেচনায় না নিয়ে সকল এলাকা নির্বিশেষে অতি উঁচু মানের এফএআর প্রবর্তন করবার ফলে শহরের ধারণ ক্ষমতার অনেক বেশি মানুষ এই শহরে বাস করছে। ফলশ্রুতিতে পরিবহণ ব্যবস্থা, পানি, গ্যাস, বিদ্যুৎ, সামাজিক, পার্ক-উদ্যান-খেলার মাঠ ও অন্যান্য নাগরিক সেবা বিভিন্ন এলাকার জনগণের জন্য অপ্রতুল হয়ে পড়েছে।
বিআইপি’র সাবেক সহ-সভাপতি পরিকল্পনাবিদ মোহাম্মদ ফজলে রেজা সুমন বলেন, বিভিন্ন শহর বা এলাকার পরিকল্পনা প্রণয়নের সময় পরিকল্পনার মানদণ্ড এবং বাসযোগ্যতা বিবেচনা করেই পরিকল্পনা করা হয় কিন্তু তার বাস্তবায়ন করার সময় সঠিক প্রয়োগের অভাবে সেই পরিকল্পনার মান ঠিক থাকে না। বসবাসযোগ্যতার লক্ষ্যে এলাকা ভিত্তিক ধারণ ক্ষমতা এবং জনঘনত্ব নির্দিষ্ট করতে হবে এবং পরিকল্পনার ক্ষেত্রে জনঘনত্বকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

 

/এসএস/এমআর/

লাইভ

টপ