রোহিঙ্গা সমস্যামিয়ানমারকে তোয়াজ না করে জাতিসংঘকে ভূমিকা রাখার আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২২:৫৮, অক্টোবর ২২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:৩৯, অক্টোবর ২২, ২০২০

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারকে তোয়াজ না করে আরও বড় ভূমিকা রাখার জন্য শক্তিশালী দেশ ও জাতিসংঘকে আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রোহিঙ্গাদের জন্য তহবিল সংগ্রহের জন্য যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা কর্তৃক আয়োজিত অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মাদ শাহরিয়ার আলম এই আহ্বান জানান।

বাংলাদেশের হতাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, 'তিন বছর রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার পরে বাংলাদেশের যে বার্তাটি দেওয়ার দরকার ছিল, সেটি আমরা দিতে পেরেছি।'

বাংলাদেশ শক্ত বার্তা দিচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, 'কারণ আমরাই জানি রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য আমাদের কী ক্ষতি হচ্ছে, ভবিষ্যতে কী ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বেশি দেরি হওয়ার আগে এই বার্তাটি দিতে হবে, সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। শুধু বার্তা দিলেই হবে না, এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিক্রিয়া যদি না আসে বাংলাদেশ নিজের মতো করে সিদ্ধান্ত নেবে।'

তিনি বলেন, 'জাতিসংঘ মিয়ানমারকে যথেষ্ট চাপ দিচ্ছে না এবং চাপ প্রয়োগের জন্য যথেষ্ট কার্যক্রম নিচ্ছে না বলে আমরা মনে করি এবং এটি আমরা জানিয়েছি। যেসব রাষ্ট্র মিয়ানমারের ভবিষ্যতের সঙ্গে সম্পৃক্ত তাদের আহ্বান করে বলেছি, তারা যেন সম্পর্কের গভীরতা ব্যবহার করেন মিয়ানমারকে বোঝাতে।'

অনেক রোহিঙ্গা পরিবার ভাসানচরে যেতে চায় জানিয়ে তিনি বলেন, 'আমরা তাদের জোর করে নিয়ে যাবো না। ২০১৭ সালের অনেক আগে যারা এসেছে, তারা হয়তো ভাসানচরে যেতে পারলে খুশি হবে।'

মিয়ানমারকে চাপ দেওয়ার জন্য সব দেশের উদ্যোগ নেওয়া উচিত জানিয়ে তিনি বলেন, 'জাতিসংঘকে আরও শক্ত ও দৃঢ় ভূমিকা রাখতে হবে এবং মিয়ানমারের বন্ধুরাষ্ট্রগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। এ ধরনের বৈঠক আরও হয়েছে কিন্তু ফলপ্রসূ হয়নি। নিরাপত্তা পরিষদে যে সর্বসম্মতির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয় থাকে, সেটি আটকে যায়।'

এদিকে অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের ডেপুটি সেক্রেটারি স্টিফেন বিগেন বলেন, 'রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে কফি আনান কমিশনের রিপোর্টে পূর্ণ বাস্তবায়ন দরকার।' প্রত্যাবাসনের দায়িত্ব মিয়ানমারের এবং এর জন্য শান্তিপূর্ণ সমাধান প্রয়োজন দরকার বলে মনে করেন বিগেন।

রাখাইনে মানবিক সহায়তা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন সংস্থাকে অবারিত সুযোগের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, 'মিয়ানমার সরকারকে এই সুযোগ দিতে হবে, যাতে করে জাতিসংঘসহ অন্যরা ওই অঞ্চলে কাজ করতে পারে।'
অনুষ্ঠানে বিগেন ২০ কোটি ডলার বাড়তি সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

একইভাবে রোহিঙ্গাদের জন্য বাড়তি প্রায় পাঁচ কোটি পাউন্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যুক্তরাজ্যের মন্ত্রী লর্ড উইম্বেলডন।

/এসএসজেড/এএইচ/এমওএফ/

লাইভ

টপ