ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর বলেছেন, ‘সাংবাদিক সাগর-রুনির হত্যাকারীদের গ্রেফতারে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে আট বছর পেরিয়ে গেছে। এখনও আসামিদের গ্রেফতার করতে ব্যর্থ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আর ডাকসুতে হামলাকারীদের চিহ্নিত করতে সাত দিনের তদন্ত প্রতিবেদন ১২ মাসেও দিতে পারেনি ঢাবি প্রশাসন। আমরা ধিক্কার জানাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দলকানা প্রশাসনের প্রতি। শিক্ষকদের বলা হয় সমাজ গড়ার কারিগর। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে বলা হয় জাতির বিবেক। অথচ প্রকাশ্য দিবালোকে এ রকম একটি ঘটনার এক বছর পরও তারা তদন্ত প্রতিবেদন দিতে পারেননি।’
আজ মঙ্গলবার (২২ ডিসেম্বর) দুপুরে ‘ডাকসুর হামলার এক বছর: বিচারহীনতার বিরুদ্ধে কালো পতাকা মিছিল’ ব্যানারে একটি প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ। সেখানে তিনি এসব কথা বলেন।
ডাকসুতে হামলার ঘটনার তদন্ত প্রসঙ্গে নুর বলেন, ‘আমরা ধিক্কার জানাই মামলা থেকে আসামিদের অব্যাহতি দেওয়ার জন্য। একটি মিথ্যা তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ধাক্কাধাক্কির মতো একটা ঘটনা ঘটেছে। আমরা তদন্ত প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করছি। ডাকসু ভবন এ ন্যক্কারজনক হামলা নিয়ে আন্তর্জাতিক পত্রিকাগুলোতেও নিউজ হয়েছে। সেই মামলা একটি বানোয়াট প্রতিবেদন দিয়ে আসামিদের অব্যাহতি দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী (সাহারা খাতুন) বলেছিলেন ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাদের হত্যাকাণ্ডের বিচার করা হবে। সাংবাদিক ভাইবোনদের প্রতি আমার প্রশ্ন, আপনারা কি আপনার সহকর্মীর হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে পেরেছেন? পারেননি। আপনারা যে সাংবাদিকতা করে যাচ্ছেন, আপনাদেরও সাগর-রুনির মতো পরিণতি বরণ করতে হতে পারে। আজ রাষ্ট্রের আইন বিভাগ, বিচার বিভাগ তো সব আওয়ামী লীগময় হয়ে গেছে। বাকি আছে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ সাংবাদিকতা। এখানে যখন আঘাত আসছে, আপনারা যদি রুখে না দাঁড়ান এই যাত্রার শেষ রক্ষা নাই।’
নুর বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার যেমন হয়েছে, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার যেমন হয়েছে, তেমনি তনু হত্যাসহ সব হত্যাকাণ্ডের বিচার বাংলাদেশের মাটিতে হবে।’ এ সময় তিনি নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে রাষ্টপতিকে চিঠি দেওয়া ৪২ জন বিশিষ্ট নাগরিককে ধন্যবাদ জানান।
আওয়ামী লীগকে চ্যালেঞ্জ করে ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক নুরুল হক বলেন, ‘বলতে চাই আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে গেছে। আওয়ামী লীগের পিএইচডিধারীদের সঙ্গে বিতর্ক করে সেটা প্রমাণ করবো।’
সরকার এখন তাদের নিরাপত্তার জন্য ‘সেফ এক্সিট’ খুঁজছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগের ভাইদের বলবো, আপনারা যদি এদেশে রাজনীতি করতে চান, আপনারা জনগণের সঙ্গে যে অন্যায়-নির্যাতন-নিপীড়ন করেছেন, তার জন্য ক্ষমা চেয়ে জনগণের কাতারে আসেন। আপনাদের সঙ্গে বুকে বুক মিলিয়ে রাজনীতি করবো।’
প্রতিবাদ সমাবেশ শেষে কালো পতাকার একটি মিছিল নিয়ে তারা শাহবাগ যান। সেখান থেকে মিছিলটি জাতীয় প্রেসক্লাবে গিয়ে শেষ হয়। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক ফারুক হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা, যুগ্ম-আহ্বায়ক মশিউর রহমান প্রমুখ।
ছবি: নাসিরুল ইসলাম।








