ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) প্রশাসন স্নাতক শেষ বর্ষ ও স্নাতকোত্তর শ্রেণির পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেও করোনা পরিস্থিতির জন্য আবাসিক হল খুলছে না। তাই হল খোলার দাবিতে অবস্থান কর্মসূচিতে বসেছেন ছাত্র অধিকার পরিষদের কিছু সদস্য। আজ বুধবার (২৩ ডিসেম্বর) সকাল ১১টা থেকে সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ছাত্র অধিকার পরিষদের ব্যানারে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন তারা। তাদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
স্বাস্থ্যবিধি মেনে হল খুলে দেওয়াসহ চার দফা দাবি জানিয়েছেন অবস্থানকারীরা। তারা বলছেন, হল না খোলা পর্যন্ত তাদের অবস্থান কর্মসূচি চলবে।
জানতে চাইলে ছাত্র অধিকার পরিষদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি বিন ইয়ামিন মোল্লা অবস্থান কর্মসূচি থেকে বলেন, ‘ইতোমধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক বিভাগে পরীক্ষা শুরু হয়ে গেছে। অনেক বিভাগে পরীক্ষার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। অনেক বিভাগে ভারিখও দিয়ে দিয়েছে। এমতাবস্থায় দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা বেশিরভাগ মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত শিক্ষার্থীর জন্য থাকার জায়গা ব্যবস্থা করা দুরূহ হয়ে পরেছে। বিশেষ করে নারী শিক্ষার্থীদের জন্য রীতিমত একটি ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইতোমধ্যে আমরা সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দাবি গুলো প্রশাসনকে জানিয়েছি। শিক্ষার্থীরাও নানা ভাবে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে চলছে। এরপরও এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নীরব ভূমিকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা, অনিশ্চয়তা আর ক্ষোভ সৃষ্টি করছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি ভ্রুক্ষেপ করছে না।’
অবস্থানকারী শিক্ষার্থী শাকিল মিয়া বলেন, ‘আজকের এই অবস্থান কর্মসূচি থেকে আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে আমাদের দাবিগুলো মেনে নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের অবস্থান কর্মসূচি চলবে।'
ছাত্র অধিকার পরিষদের দাবিগুলো হলো-
১. অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পরীক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে হল খুলে দিতে হবে। এক্ষেত্রে মেডিক্যাল সেন্টারে করোনা ইউনিট স্থাপন এবং পর্যাপ্ত অক্সিজেনের ব্যবস্থা করতে হবে। বহিরাগত প্রবেশ সীমিত করতে হবে। হলে প্রবেশ ও বের হওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর চেকিং ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করতে হবে। খাবার বক্সের ভেতরে করে রুমে নিয়ে যাওয়া, প্রতি ফ্যাকাল্টিতে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করতে হবে, অসুস্থ শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেওয়ার ব্যাপারে ভিন্ন নীতিমালা প্রণয়নসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
২. পরীক্ষার আগে শিক্ষার্থীদের অবশ্যই পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।
৩. ভার্চুয়াল ক্লাসের জন্য ডিভাইস সংকটে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনে ডিভাইসের ব্যবস্থা করতে হবে।
৪. সব শিক্ষার্থীর নেট প্যাকেজ কেনার জন্য ন্যূনতম মাসিক খরচ দিতে হবে।
উল্লেখ্য, করোনা পরিস্থিতি জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের দাবিতে গত ১২ মার্চ রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে অবস্থান কর্মসূচিতে বসেন চার জন শিক্ষার্থী। এরপর ১৯ মার্চ আবাসিক হল বন্ধ ঘোষণা করেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
উপাচার্যকে ছাত্রদলের স্মারকলিপি
শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলো সীমিত পরিসরে খুলে দিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে স্মারকলিপি দিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। আজ বুধবার (২৩ ডিসেম্বর) সকালে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামানকে স্মারকলিপি দেন ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন এবং সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির আহ্বায়ক রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সদস্য সচিব আমানউল্লাহ আমান।
ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী রয়েছেন যাদের ঢাকা শহরে থাকার মতো সামর্থ্য নেই। তাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে আবাসিক হলগুলো সীমিত পরিসরে পরীক্ষার্থীদের জন্য খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছি। উপাচার্য আমাদের স্মারকলিপি গ্রহণ করেছেন এবং দাবির বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন।'







