জঙ্গিবাদের পুরো চরিত্র-কৌশল সম্পর্কে সাধারণ মুসল্লিদের সচেতন করতে ইমাম ও মসজিদ কমিটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে মনে করছে সরকার। এ কারণে জঙ্গিবাদ নির্মূল করতে সরকার আলেমদের পাশাপাশি দেশের মসজিদ কমিটিগুলোকেও কাজে লাগাতে চায়। এ লক্ষ্যে মসজিদগুলোর নির্বাচিত কমিটিগুলোর খোঁজ-খবর নিতে রাষ্ট্রীয় একটি প্রভাবশালী গোয়েন্দা সংস্থাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ কাজে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহযোগিতা নেওয়া হচ্ছে বলেও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, অন্তত দুই সপ্তাহ আগে সারাদেশের মসজিদগুলোর ইমাম ও মসজিদ কমিটির বিস্তারিত খোঁজ-খবর নেওয়া শুরু হয়েছে। মসজিদ কমিটিতে জঙ্গি মনোভাব-সম্পন্ন কোনও ব্যক্তি বা জামায়াতে সমর্থক ও দলের নেতাকর্মীদের কেউ যুক্ত আছেন কি না—এ নিয়ে ইতোমধ্যে মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছেন জোনভিত্তিক গোয়েন্দারা।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের হিসাবমতে, শুধু রাজধানীতে মসজিদ রয়েছে প্রায় ৬ হাজার। সর্বশেষ ২০০৮ সালের এক জরিপে এ সংখ্যা বলা হয় ৫৭৭৬টি। ওই জরিপ অনুযায়ী সারাদেশে মসজিদ-সংখ্যা ২ লাখ ৫০ হাজার ৩৯৯।
সূত্রের দাবি, সরকার মনে করছে, জঙ্গিবাদের উত্থান ঠেকাতে মসজিদগুলোর ভূমিকা অনেক বেশি কার্যকর হবে। এ কারণে আগে থেকে মসজিদ কমিটি গুলোয় জঙ্গিবাদি বা জামায়াত ঘরানার কোনও ব্যক্তি আছে কি না, সেটি নিশ্চিত হতে চায় সরকার। এরপর মসজিদগুলোকে কেন্দ্র করে জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রম শুরু করতে চান নীতিনির্ধারকরা।
সূত্রের দাবি, দেড়মাসের মধ্যেই মাঠ পর্যায়ের পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে উচ্চতর একটি টিম কাজ শুরু করবে। তালিকা অনুযায়ী কমিটিগুলোর কার্যক্রম, চিহ্নিত ব্যক্তিদের দিনলিপিসহ বিভিন্ন সন্দেহজনক বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করবেন তারা। এরপরই সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বিষয়টিকে গোয়েন্দাসংস্থার নিজস্ব বিষয় বলে জানান।
গোয়েন্দা সূত্রটি জানায়, কমিটিগুলোর তালিকা আসা পর সদস্যদের বিরুদ্ধে কোনও মামলা আছে কি না, তাদের কেউ জঙ্গিবাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত কি না, জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত কি না—এসব বিষয় নিশ্চিত হলেই কমিটি পুনর্গঠনের চাপ দেওয়া হবে। এই কার্যক্রমে মসজিদ কমিটিতে থাকা আওয়ামীপন্থী ব্যক্তিবর্গের সহযোগিতা নিচ্ছেন গোয়েন্দারা।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, মসজিদ কমিটিগুলোর তথ্য খোঁজার কাজে গোয়েন্দারা প্রতিষ্ঠানটির সহায়তা নিচ্ছেন। প্রতিষ্ঠানটির মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম বিভাগের মাধ্যমে এ ধরনের তথ্য নেওয়া শুরু হতে পারে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইফাবা’র মহাপরিচালক সামীম মোহাম্মদ আফজাল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমাদের কার্যক্রম ইসলাম ধর্মের প্রচার ও প্রসারে। দ্বীনের দাওয়াত মুসলমানদের ঘরে-ঘরে পৌঁছে দিতেই আমাদের কাজ চলছে, কারও তথ্য সংগ্রহে নয়। তিনি আরও জানান, ইসলামিক ফাউন্ডেশন জেলা-উপজেলা পর্যায়ে শুক্রবার জুমার নামাজের আগে দেওয়া খুতবার বিষয়ে কাজ করছে।
জানা গেছে, ইসলামিক ফাউন্ডেশন শুক্রবারের খুতবা আরবিতে দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে সারাদেশের মসজিদগুলোয়। নির্দেশনা অনুযায়ী, কোরআন-হাদিসের ব্যাখ্যাসহ হুবহু বক্তব্য দিতে হবে।
সামীম মোহাম্মদ আফজাল বলেন, আমরা নবী করীম (সা.)-এর মতো মানুষকে ন্যায়ের পথে ডাকতে চাই। এ জন্য প্রতি শুক্রবারের বক্তব্য আরবিতে দিতে হবে। অসাম্প্রদায়িক চেতনার কথা বলতে হবে। আমরা উপজেলা-পর্যায়ে নির্দেশনা দিয়েছি।
/এমএনএইচ/








