যশোরের বাঘারপাড়ায় সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে প্রার্থীতা নিয়ে সর্বমহলে আলোচিত হচ্ছেন তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থী সুমি (৪৭)। সমাজের অবহেলিত সম্প্রদায়ের এই সদস্য গতবারের মতো এবারও সেবার ব্রত নিয়ে জনপ্রতিনিধি হওয়ার এই প্রতিযোগীতায় অংশ নিতে চলেছেন।
২০১৩ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ সরকার তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিয়ে একটি নীতিমালা প্রকাশ করে। এর ফলে নারী ও পুরুষের পাশাপাশি সব নথিপত্রে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষদেরও পরিচয় উল্লেখের সুযোগ সৃষ্ট হয়। এরপরও সুমি ‘নারী’ পরিচয়েই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
কথা হয় সুমির নির্বাচনি এজেন্ট বাবলু রহমানের সঙ্গে। তিনি জানান, গতবারের পৌরসভা নির্বাচনে সুমি মাত্র ১৩ ভোটের ব্যবধানে হেরেছিলেন। এবার তার অবস্থান আগের চেয়ে ভালো।
সুমির অবস্থান সম্পর্কে বাবলুর মন্তব্য মানতে নারাজ তার প্রতিদ্বন্দ্বী ২০০৪ সালের পৌর নির্বাচনে কাউন্সিলর পদজয়ী তাসলিমা খাতুন। কথা হয় তসলিমা খাতুনের ভাই আরিফ খানের সঙ্গেও। সুমির বিষয়ে তিনি মোটেও আশাবাদী নন। ‘হিজড়া মানুষ, লোকজন চাঁদা তুলে তাকে নামিয়েছে হাসি-ঠাট্টার জন্য’ এমনটাই মনে করেন তিনি।
সুমি জানালেন, তার দৃঢ় বিশ্বাস, সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে জনসমর্থন নিয়ে তিনিই নির্বাচিত হবেন।
মনোনয়নপত্রে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী সুমির বাবা সোহাগ গাজী এবং মা জায়েদা বেগম। সুমির ঘনিষ্ঠ একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে জানা যায়, ২৫ বছর আগে কুমিল্লা থেকে যশোর সদরে এসেছিলেন তিনি। পরে বাঘারপাড়ায় আসেন। বর্তমানে বাঘারপাড়া পৌর এলাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের হাসাপাতাল মোড় এলাকায় স্থায়ী হয়েছেন।
/এইচকে/এএ/








