প্রতীক বরাদ্দের ৬ দিন আগ থেকেই প্রচার-প্রচারণার সুযোগ পাচ্ছেন পৌরসভা নির্বাচনের প্রার্থীরা। প্রার্থীতা প্রত্যাহার ও নির্বাচনের মধ্যবর্তী সময় কম থাকার কারণেই এমনটি হয়েছে বলে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
তবে প্রচারণা চালাতে পারলেও প্রতীক বরাদ্দের আগে কোনও প্রার্থী দলীয় প্রতীকসহ পোস্টার-লিফলেট-হ্যান্ডবিল ছাপাতে পারবেন না।
আগামী ৩০ ডিসেম্বর ভোট গ্রহণের দিন নির্ধারণ করে ২৪ নভেম্বর দেশের ২৩৫টি পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৩ ডিসেম্বর। ১৪ ডিসেম্বর প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। ৯ ডিসেম্বর থেকে প্রার্থীরা প্রচারে নামতে পারবেন। পৌরসভা নির্বাচন বিধিমালা ২০১৫ অনুসারে ভোট গ্রহণের ২১ দিন আগে প্রচার করার সুযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে বিধিমালায় বলা হয়েছে “কোনও প্রার্থী বা রাজনৈতিক দল কিংবা উহার মনোনীত প্রার্থী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী কিংবা তাহাদের পক্ষে অন্য কোনও ব্যক্তি, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান ভোট গ্রহণের নির্ধারিত দিনের ৩ সপ্তাহ সময়ের পূর্বে কোনও প্রকার নির্বাচনি প্রচার শুরু করতে পারিবেন না।”
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, নির্বাচনে প্রার্থীরা যাতে প্রচারণার নির্ধারিত সময়ের পুরোটাই (৩ সপ্তাহ/২১দিন) প্রতীক পেয়ে নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নিতে পারেন সেটা বিবেচনায় রেখেই সরচারচর তফসিল ঘোষণা করা হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে পরিবেশ-পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে কোন কোন ক্ষেত্রে দু’একদিন হেরফের হয়। কিন্তু এবারের পৌরসভা নির্বাচনে প্রচারণার শুরুর সময়কাল থেকে প্রতীক বরাদ্দের ব্যবধান অন্য নির্বাচনগুলোর তুলনায় একটি বেশি হয়েছে। এর কারণ হিসেবে কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, পৌরসভা আইন সংশোধন, বিধিমালা তৈরিসহ অন্যান্য কার্যক্রমের সময়ক্ষেপণের পাশাপাশি ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনের নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা থাকায় মধ্যবর্তী সময় কিছুটা কম হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার শাহনেওয়াজ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, প্রতীক বরাদ্দের সঙ্গে প্রচারণার কোনও সম্পর্ক নেই। তফসিল অনুসারেই প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। আর বিধিমালায় যে সময়টাকে প্রচারণায় বিধি নিষেধ রয়েছে তা বাদ দিয়ে বাকি সময়ে প্রার্থী, তার দল বা তার কর্মী সমর্থকরা প্রচারণা চালাতে পারবেন।
নির্বাচন কমিশন সচিব মো. সিরাজুল ইসলামও একই কথা বলেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের ৩ সপ্তাহ আগ থেকে নির্বাচনে প্রচারণা চালানো যাবে। তবে, প্রতীক বরাদ্দের আগে কোনও প্রার্থী প্রতীক সম্বলিত পোস্টার-লিফলেট ছাপাতে পারবেন না।
ইতোপূর্বে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে কে কোন প্রতীক পাচ্ছেন তা বরাদ্দের আগে নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ না থাকলেও এবার দলীয়ভিত্তিতে পৌর পরিষদের মেয়র নির্বাচন হওয়ায় দল থেকে যারা মনোনয়ন পাবেন তারা আগে থেকেই প্রতীকের বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে যাবেন।
/এফএ/








