সম্প্রতি চূড়ান্ত হওয়া আওয়ামী লীগের ২৩৪ মেয়র প্রার্থীর মধ্যে মাত্র ৭ জন নারীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। মনোনয়নপ্রাপ্ত নারীরা হলেন, জাকিয়া খাতুন পঞ্চগড়, তাহমিনা আক্তার ঠাকুরগাঁও, মোসাম্মদ নার্গিস খাতুন চারঘাট, সিরাজগঞ্জের বেলকুচি পৌরসভায় বেমগ আশানুর বিশ্বাস, রুখসানা মোর্তজা লিলি নাটোরের লালপুর, নারায়ণগঞ্জের তারাবো পৌরসভায় হাসিনা গাজী ও উমা চৌধুরী নাটোর সদরের প্রার্থী। আর ৮৮ জনের বিএনপির তালিকা থেকে একজন নারীর নামও খুঁজে পাওয়া যায়নি।
নারী উন্নয়নের কথা বলে জনপ্রতিনিধি হিসেবে নারীদের যোগ্যতা অনুযায়ী মনোনয়ন না দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নারী নেত্রীরা। তারা বলছেন, ‘এটা কোনও কথা হতে পারে না, যে এত মেয়র প্রার্থীর মধ্যে যোগ্য নারী খুঁজে পাওয়া যায় না। সভা সমাবেশ মিছিলে নারীদের প্রতিনিয়ত লড়াই করে যেতে দেখি আমরা।’ এই মনোয়ন না দেওয়াটা পুরুষতান্ত্রিক ‘মাইন্ড সেট’-এর অংশ বলেও অভিযোগ তাদের।
নারীনেত্রী রোকেয়া কবীর বলেন, ‘এটা পুরুষতান্ত্রিক সমাজের চিত্র। আমরা এগিয়ে যাওয়ার কথা বলছি, কিন্তু তৃণমূলে নারীরা জয়ী হয়ে বেরিয়ে আসতে পারে, সেই ভরসা রাখতে পারছি না।’ তিনি আরও বলেন, ‘আরেকটি বিষয় লক্ষণীয়, রাজনীতিতে নারীরা সক্রিয় থাকলেও মনোয়নের যে রাজনীতি, সেখানে কেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার বিষয়ে নারীরা পিছিয়ে যাচ্ছে। পুরুষতান্ত্রিক ‘মাইন্ড সেট’ থেকে আমরা ধরেই নেই নারী হয়তো জিতে বেরিয়ে আসতে পারবে না এবং সিটটা আমি হারাব। সময় পাল্টেছে, এটা দলগুলোর মাথায় আনতে হবে। যেকোনও জায়গায় নারী বা পুরুষ যে কাজ করে বলে জনগণ জানে, তাকেই কিন্তু ভোট দেবে। নারী বলে ভোট দেবে না, এই ধারণা কিন্তু ঠিক নয়।’
জাতীয় মহিলা পরিষদের নেত্রী আয়শা খানম বলেন, ‘এটাই আমাদের দেশের চিত্র হয়ে গেছে। উত্তরবঙ্গের ৫ নারীর ওপর ভরসা করা গেলে ঢাকায় কেন একজন নারীর ওপরও নির্ভর করা যাচ্ছে না। এটা নির্ভরতার প্রশ্ন নয়। মনোনয়নের যে রাজনীতি, সেখানে যোগ্য নারীরাও লড়াই করে পারছে না। তাদের নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।’ জাতীয় নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচনেও তো একই চিত্র দেখি আমরা। এমনকি দলগুলোর কেন্দ্রীয় কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্বের কথা নির্বাচন কমিশন বলে দিলেও তা তো হচ্ছে না।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের একজন নেত্রী বলেন, ‘আমরা শেখ হাসিনার প্রতি আস্থাশীল। কিন্তু এটাও ঠিক আমাদের যদি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকে, তাহলে নারীদের মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে উৎসাহিত করা দরকার। আমরা যারা রাজনীতি করে আসছি, তারা কেবল সংসদে সংরক্ষিত আসন পাব কোনও না কোনও সময়, সেই লক্ষ্যে কাজ করি না।’
আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য নূহ-উল আলম লেনিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, তারা চান নারীরা জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচন করুক। কিন্তু তেমন কোনও নারী প্রার্থী আবেদন না করায় মনোনয়ন দেওয়া সম্ভব হয়নি। কিন্তু তৃণমূলে অনেক নারী সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন—এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি ঠিক। আমরাও চাই আরও নারী মনোনয়নের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে এগিয়ে আসুক।’
এ বিষয়ে বিএনপির পক্ষে দলের ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান এবং যুগ্ম মহাসচিব ও নির্বাচনি কমিটির সমন্বয়ক মো. শাজাহানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।
/এসটি/এমএনএইচ/








