বিদ্রোহী দমনে বিপাকে আ. লীগ, সংকট নিরসনে বার্তা যাচ্ছে তৃণমূলে

পাভেল হায়দার চৌধুরী
০৪ ডিসেম্বর ২০১৫, ২১:১৩আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০১৫, ১৭:১৩

ইসি-আওয়ামী লীগপৌরসভা নির্বাচনে দলীয় মনোনয়নবঞ্চিত তৃণমূল নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোয়নপত্র জমা দেওয়ায় বিপাকে পড়েছে আওয়ামী লীগ। এই সংকট মোকাবিলায় এই বিদ্রোহী প্রার্থীদের দাখিলকৃত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিতে চাপ দেওয়া শুরু করেছে ক্ষমতাসীন দলটি। এরই অংশ হিসেবে কেন্দ্র থেকে বিদ্রোহী প্রার্থীদের মোবাইলে কল দিয়ে এবং এসএমএস পাঠিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। পাশপাশি জেলা কমিটির দায়িত্বশীল নেতা ও স্থানীয় এমপিদেরও যথাযথ ভূমিকা রাখতে বলা হচ্ছে। আওয়ামী লীগের একাধিক কেন্দ্রীয় ও তৃণমূলের দায়িত্বশীল নেতাদের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানা গেছে।

আওয়ামী লীগের কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, দল করলে নিয়ম মেনে চলতে হবে। শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে কোনও ছাড় দেওয়া হবে না। কেন্দ্র থেকে অনেকটা এ রকম হুঁশিয়ারিসহ নির্দেশনা পাঠানো হচ্ছে তৃণমূলে।

সূত্র জানায়, শুক্রবার সকালে দলের সম্পাদকমণ্ডলীর নেতারা দলীয় সভাপতির ধানমণ্ডির  কার্যালয়ে বৈঠক করেন। সেখানে সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত নেন—বিদ্রোহী দমনে কঠোর অবস্থান নেওয়ার। শুক্রবার সকাল থেকে  দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে যেসব প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন, ইতোমধ্যে তাদের বেশ কয়েকজনের  কাছে কেন্দ্রের নির্দেশনা পৌঁছে গেছে।

নীতি-নির্ধারণী সূত্রগুলো জানায়, ১৩ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন। তার আগেই সারাদেশে যেসব বিদ্রোহী প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন, তারা সবাই প্রত্যাহার করে নেবেন।

সংশ্লিষ্ট কয়েকটি সূত্র জানায়, বিদ্রোহী প্রার্থী ঠেকাতে মনোনয়নপত্রে এবার শেখ হাসিনা স্বাক্ষর করেছেন। এটাই বিদ্রোহী দমনে আওয়ামী লীগের অন্যতম হাতিয়ার। যারা ইতোমধ্যে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন, শেখ হাসিনার স্বাক্ষরের বিষয়টি বিবেচনায় এনে, শেষ পর্যন্ত তারা আর প্রার্থী থাকার সাহস করবেন না।

সূত্রমতে, অনেকে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন এই ভেবে যে, প্রার্থী যাচাই-বাছাই শেষে যদি আওয়ামী লীগের কোনও প্রার্থী বাদ হয়ে পড়েন, তখন দলীয় প্রার্থী তিনিই হবেন। ওই মহলের দাবি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীকে দুবার চিঠি দেওয়া হয়। প্রথম বার মনোনয়ন দেওয়ার খবর জানিয়ে, দ্বিতীয় বার প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার কথা জানিয়ে। কিন্তু পৌরসভা নির্বাচনে দলের পক্ষ থেকে একবারই চিঠি দেওয়া হয়।

দলের কেন্দ্রীয় দুই নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমার কাছে শুক্রবার বেশ কয়েকটি জায়গা থেকে ফোন এসেছে। প্রার্থীরা বলছেন, ‘অমুক প্রার্থী ঋণখেলাপি, তার মনোনয়ন তো বাতিল হয়ে যাবে।’ আমি তাকে বললাম, এসব টেকনিক্যাল কারণে দলীয় প্রার্থী বাতিল হলে সেখানে শূন্য থাকবে দলীয় প্রার্থী। ওই দুই নেতা জানান, আমাদের কাছে তথ্য আছে, বিদ্রোহী প্রার্থীরা দল মনোনীত প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল করতে ব্যাংক, থানসহ বিভিন্ন স্থানে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। যদি ঋণখেলাপি হিসেবে কাউকে পাওয়া যায়, বা কারও বিরুদ্ধে মামলা পাওয়া যায়, এ চিন্তায়। যখন শুনলেন, এতে কোনও লাভ হবে না, তখন এ অপচেষ্টা থেকে বিরত থাকেন।

সূত্রের দাবি, ঋণখেলাপি বা মামলার কারণে কেউ কেউ বাদ পড়তে পারেন, এমন আশঙ্কা থেকেই বিদ্রোহী প্রার্থীর আধিক্য।

কেন্দ্রীয় প্রভাবশালী দুই নেতা জানান, বিদ্রোহী প্রার্থীর ব্যাপারে আওয়ামী লীগের অবস্থান অতীতের যেকোনও সময়ের চেয়ে কড়া ও কঠোর। তাই এবার কোথাও বিদ্রোহী প্রার্থী থাকবে না বলে মনে করেন তারা। আর এ কারণেই সারাদেশের প্রায় ৯০ ভাগ পৌরসভায় বিদ্রোহী প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করলেও ক্ষমতাসীনরা বেশ ফুরফুরে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যেসব বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলেন এবং বিজয়ী হয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়ার   নজির কি না, জানতে চাইলে ওই দুই নেতা বলেন,  ওই সময়ের পরিস্থি  ও এই সময়ের অবস্থান সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখন সত্যিই কোনও বিদ্রোহী প্রার্থীকে ছাড় দেওয়া হবে না।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নূহ-উল আলম লেনিন বলেন, দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে দলেরই অনেক নেতা স্বতন্ত্র হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। সবাই শেষ পর্যন্ত থেকে যাবে—এটা ঠিক নয়। এজন্য আমাদের ১৩ ডিসেম্বর  মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তিনি বলেন, বিদ্রোহী প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রত্যাহরের জন্যে বলা হচ্ছে।

যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবউল আলম হানিফ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমরা সবাই দলের জন্য কাজ করি। সুতরাং দলের গঠনতন্ত্র নিয়মশৃঙ্খলা মেনে চলতে হয়। তিনি বলেন, যেহেতু শেখ হাসিনা স্বাক্ষর করে পৌরসভার মেয়রদের প্রার্থী করেছেন, সেখানে বিদ্রোহ প্রকাশ করে প্রার্থী হওয়ার কোনও সুযোগ নেই। কোথাও এমন ঘটনা ঘটলে তাকে সর্বোচ্চ শাস্তি পেতে হবে। হানিফ আরও বলেন, ১৩ ডিসেম্বরের আগেই সারাদেশে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন, তারা সবাই প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেবেন। তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ ইতোমধ্যেই বিদ্রোহীদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে।

সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ভুল বোঝাবুঝির কারণে বেশ কিছু পৌরসভায় বিদ্রোহী প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। শেষ পর্যন্ত কোনও পৌরসভায় বিদ্রোহী প্রার্থী থাকবে না। তিনি বলেন, আসলে ভুল বোঝাবুঝির কারণে বিদ্রোহী প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

/এমএনএইচ/

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
ড্রোন কিনতে ২০০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়ের পরিকল্পনা ভারতের
ড্রোন কিনতে ২০০০ বিলিয়ন রুপি ব্যয়ের পরিকল্পনা ভারতের
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
কুমিল্লায় এক শিশুকে ধর্ষণ ও আরেক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম