সারাদেশে ৯৭ মেয়র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
০৭ ডিসেম্বর ২০১৫, ১১:৫৭আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০১৫, ১৭:৩৯

পৌরসভা নির্বাচনজেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য অনুসারে ৫ ও ৬ ডিসেম্বর রবিবার মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাইয়ের প্রথম ও দ্বিতীয় দিন মিলিয়ে রাজনৈতিক দল থেকে মনোনীত ও স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থীদের ৯৭ টি মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন। এদিন বেশ কিছু কাউন্সিলর প্রার্থীর মনোনয়নও বাতিল করা হয়। দ্বিতীয় দিনে মূলত নির্বাচনী বিধিমালা লঙ্ঘন, হলফনামায় ভুল তথ্য দাখিল, আয়কর বিবরণী দাখিল না করাসহ কাগজপত্রে বিভিন্ন অসম্পূর্ণতা ও স্বাক্ষর বিভ্রাটের কারণে এসব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি জানান, জেলার মহেশপুর পৌরসভার তিন মেয়র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন জেলা রিটার্নিং অফিসার জাহাঙ্গীর হোসেন। তিনি বলেন, নির্বাচনী বিধিমালা লঙ্ঘনের কারণে তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী শহিদুল ইসলাম, বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী নবিজউদ্দৌলা ও জাসদ সমর্থিত প্রার্থী রমজান আলী।
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জানান, জেলার তিন পৌরসভায় দুই মেয়র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে জেলা রিটার্নিং অফিসার আবু হায়াৎ মোহাম্মদ রহমতউল্লাহ। তিনি জানান, নির্বাচনী বিধিমালা লঙ্ঘনের কারণে দুই মেয়র প্রার্থী অযোগ্য ঘোষিত হয়েছেন।
মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া মেয়র প্রার্থীরা হলেন, উলিপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী আবু সাইদ ও বিএনপির বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী আব্দুর রাজ্জাক।

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, পোগালগঞ্জ পৌরসভায় বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট তৌফিকুল ইসলাম ও টুঙ্গিপাড়া পৌরসভায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ফোরকান বিশ্বাসের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন জেলা রিটার্নিং অফিসার মমিনুর রহমান। 

রিটার্নিং অফিসার বলেন, দাখিল করা কাগজপত্র অসম্পূর্ণ হওয়ায় এবং হলফনামার তথ্যে ভুল থাকায় তাদের প্রার্থীতা সাময়িকভাবে বাতিল করা হয়েছে। তবে আগামি তিন দিনের মধ্যে তারা সংশোধিত কাগজপত্র উপস্থাপন করতে পারবেন।

এছাড়া গোপালগঞ্জ পৌরসভার বর্তমান মেয়র ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মো. রেজাউল হক সিকদার রাজু তার প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। রিটার্নিং অফিসার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এছাড়া কাউন্সিলর পদের সংরক্ষিত মহিলা আসনে তিন ও সাধারণ আসনে আট প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। গোপালগঞ্জের রিটার্নিং অফিসার মো. মমিনুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, হলফনামায় ভুল তথ্য দেওয়া, কাঙ্ক্ষিত কাগজপত্র জমা না দেওয়া ও ঋণখেলাপি হওয়ার কারণে যাচাই বাছাই শেষে তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি জানান, নির্বাচনী বিধিমালা না মেনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ায় মৌলভীবাজারের চারটি পৌরসভায় তিন মেয়র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা রিটার্নিং অফিসার মাসুকুর রহমান সিকদার।

সর্বশেষ দাখিলতকৃত আয়কর রিটার্ন রশিদের কপি মনোনয়পত্রের সঙ্গে দাখিল না করায় মৌলভীবাজার পৌরসভায় বিএনপি দলীয় মেয়র প্রার্থী অলিউর রহমানের মনোনয়পত্র বাতিল করা হয়। ঋণখেলাপির অভিযোগে খেলাফত মজলিশের প্রার্থী সৈয়দ মুজাদ্দিদ আলীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে যায়। মনোনয়নপত্র দাখিলে নির্বাচনী বিধিমালা লঙ্ঘন করায় বড়লেখা আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী রায়না বেগমের মনোনয়পত্র বাতিল করা হয়।

নওগাঁ প্রতিনিধি জানান, নওগাঁ সদর এবং পত্নীতলা উপজেলার নজিপুর পৌরসভায় দুই মেয়র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার আমিরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, হলফনামায় ভুল থাকায় প্রার্থিতা বাতিল করা হয়।

মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার দুই মেয়র প্রার্থী হলেন জাতীয় পার্টি মনোনীত আসগর আলী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী রমজান আলী।

পঞ্চগড় প্রতিনিধি জানান, মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাইয়ের দ্বিতীয় দিনে পঞ্চগড় পৌরসভার মেয়র প্রার্থী মাওলানা আব্দুল খালেকের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা রিটার্নিং অফিসার ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো.মাহমুদুল আলম। আব্দুল খালেক পঞ্চগড় জেলা জামায়াতের আমির।

রিটার্নিং অফিসার জানান, ১০০ সমর্থনকারী ব্যক্তির কাগজে প্রার্থীর প্রতিস্বাক্ষর না থাকায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, জেলার মুন্সিগঞ্জ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের দুই বিদ্রোহী প্রার্থী রেজাউল ইসলাম সংগ্রাম ও জালাল উদ্দিন রুমির মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন জেলা রিটার্নিং অফিসার ফজলে আজিম।

রিটার্নিং অফিসার বলেন, রেজাউল তথ্য গোপন করেছেন। রুমির দেওয়া ১০০ সমর্থনকারী ভোটারের তালিকায় ভুল আছে। 

বাগেরহাট প্রতিনিধি জানিয়েছেন, জেলার মোরেলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র প্রার্থী মোকাম্মেল হোসেন ফকিরের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন জেলা রিটার্নিং অফিসার মামুন উল হাসান। মোকাম্মেল হোসেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী ।

জেলা রিটার্নিং অফিসার বলেন, নির্বাচনী বিধিমালা লঙ্ঘনের কারণে তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।  

ভোলা প্রতিনিধি জানান, জেলার ভোলা পৌরসভার স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী খন্দকার আল আমিনের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন জেলা রিটার্নিং অফিসার মো. হেলাল উদ্দিন খান।  

খন্দকার আল আমিনের মনোনয়নপত্র বাতিলের কারণ হিসেবে নির্বাচনী বিধিমালা লঙ্ঘনের কথা উল্লেখ করেন রিটার্নিং অফিসার।

চাঁদপুর প্রতিনিধি জানান, চার পৌরসভায় চার মেয়র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন জেলা রিটার্নিং অফিসার মফিজুল ইসলাম। মনোনয়ন বাতিল হওয়া মেয়র প্রার্থীরা হলেন, ছেংগারচর পৌরসভায় বিএনপির মেয়র পদপ্রার্থী সারওয়ারুল আবেদীন খোকন, কচুয়া পৌরসভায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আহসান হাবীব প্রাঞ্জল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এম সফিকুল ইসলাম ও হাজিগঞ্জ পৌরসভায় বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী শাহাবুদ্দিন শাহীন।

জেলা রিটার্নিং অফিসার বলেন, আয় ব্যয়ের হিসাবে গরমিল, শিক্ষাগত সনদ না থাকা, তথ্যগোপন ও ১০০ সমর্থক ভোটারের ব্যাপারে ভুল তথ্য দেওয়া ইত্যাদি কারণে তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।   

গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানান, জেলার তিন পৌরসভার মধ্যে শুধুমাত্র গাইবান্ধা পৌরসভায় স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী আরিফুল ইসলাম চৌধুরী শাহীনের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন জেলা রিটার্নিং অফিসার মো. শাহিনুর প্রামাণিক।

এছাড়া সংরক্ষিত কাউন্সিলর আসনে একই পৌরসভার ১ নং আসনে জোলেখা খাতুন লিমা ও মোছাম্মত নূরুন নাহারের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। 

জেলা রিটার্নিং অফিসার বলেন, জাল স্বাক্ষর, শিক্ষা সনদের কপি উপস্থাপন না করা ইত্যাদি কারণে তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

জামালপুর প্রতিনিধি জানান, মনোনয়ন যাচাই বাছাইয়ের প্রথম দিনই দুই মেয়র প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। তারা হলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী সরিষাবাড়ি পৌরসভার রুহুল আমিন সেলিম ও মো. শহিদুল্লাহ।

জেলা রিটার্নিং অফিসার মোশাররফ হোসেন মনোনয়নপত্র বাতিলের পেছনে ঋণখেলাপি, তথ্য গোপন ইত্যাদি ত্রুটিকে দায়ী করেন।

দুই মেয়র ছাড়াও ১১ কাউন্সিলর ও ১ সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।

যশোর প্রতিনিধি জানান, ছয় পৌরসভার তিনটিতে চার মেয়র প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। তারা হলেন, বাঘারপাড়া পৌরসভার আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুর রউফ ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী শহিদুল ইসলাম, মনিরামপুর পৌরসভায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী আবু তালেব ও কেশবপুর পৌরসভায় স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী আলমগীর কবির। বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা রিটার্নিং অফিসার সাবিনা ইয়াসমিন।

এছাড়া ২৮ জন কাউন্সিলর প্রার্থী ও ৭ জন সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

বরিশাল প্রতিনিধি জানান, ছয় পৌরসভার মধ্যে উজিরপুরে ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) মেয়র প্রার্থী মনিরুজ্জামানের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। নিশ্চিত করেন উপজেলা রিটার্নিং অফিসার ঝুমুর বালা।

এছাড়া ৫টি পৌরসভায় ১১জন কাউন্সিলর ও তিনজন সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা না দেওয়া, তথ্য গোপন, ঋণখেলাপ ইত্যাদি কারণে মনোনয়নপত্রগুলো বাতিল করা হয়েছে।

বগুড়া প্রতিনিধি জানান, মনোনয়নপত্র  যাচাই-বাছাই শেষে  বিএনপির একজনসহ ৬ মেয়র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসাররা।

মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া প্রার্থীরা বিএনপি মনোনীত প্রার্থী বর্তমান মেয়র টিপু সুলতান, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সাবেক মেয়র আব্দুল হামিদ সরদার ও আব্দুর রশিদ ফারাজী, স্বতন্ত্র প্রার্থী রাসেল মাহমুদ, জাসদ মনোনীত প্রার্থী মাহবুবার রহমান রুস্তম, স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী জহুরুল ইসলাম বাদশা।

এছাড়া আরও ২০ জন কাউন্সিলর প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। 

মূলত স্বাক্ষর সংক্রান্ত সমস্যা, তথ্য গোপন, ঋনখেলাপের কারণে তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। 

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, জেলার  সাত পৌরসভায় তিন মেয়র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন রিটার্নিং অফিসার। তারা হলেন, কটিয়াদি পৌরসভায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী তানভীরুল হক, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মো. গোলাম ফারুক, ভৈরব পৌরসভায় স্বতন্ত্র প্রার্থী ইমতিয়াজ আহমেদ কাজল।

দাখিলকৃত কাগজপত্রে তথ্যে গরমিল, হলফ নামায় স্বাক্ষর না থাকা, ভোটার তালিকার সঙ্গে নামের মিল না থাকা, ঋণখেলাপ, আয়কর রিটার্ন সার্টিফিকেট দাখিল না করা,  নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহের ফরম পূরণ না করা ইত্যাদি কারণে তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

মাগুরা প্রতিনিধি জানান, মাগুরা পৌরসভায় আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট শাখারুল ইসলাম শাকিলের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। দলীয় প্রার্থীতার পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ না থাকায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। তিনি দলীয় প্রার্থী হিসাবে মনোনয়নপত্র জমা দেন। কিন্তু দলের কোনও অনুমোদনপত্র দেখাতে পারেননি।

জেলা রিটার্নিং অফিসার ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) খোন্দকার আজিম আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানান,  আটটি পৌরসভায় আট মেয়র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন টাঙ্গাইল জেলা রিটার্নিং অফিসার তাজুল ইসলাম।

ধনবাড়ি পৌরসভায় আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী খন্দকার মঞ্জরুল ইসলাম তপন, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এএমএ সোবহান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম, গোপালপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী এনামুল হক, ভূঞাঁপুর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী তারিকুল ইসলাম চঞ্চল ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী জাহাঙ্গীর হোসেনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।

এছাড়া সাধারণ কাউন্সিলর পদে ২২ জন ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ৮ জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়। 

নীলফামারী প্রতিনিধি জানান, জেলার সৈয়দপুর পৌরসভায় তিন স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। তারা হলেন, বিএনপির জেলা শাখার সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার, জাতীয় পার্টির বিদ্রোহী প্রার্থী জাকির হোসেন তালুকদার ও জামায়াতে ইসলামীর পৌর আমির হাফেজ আব্দুল মুস্তাকিম।  বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা রিটার্নিং অফিসার জুলহাজ উদ্দিন।

মনোনয়ন পত্রে সংযুক্ত ভোটারের স্বাক্ষর জাল, মৃত ব্যাক্তিকে প্রস্তাবক বানানোসহ তথ্য গোপন ও নীতিমালা লঙ্ঘনের কারণে তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

শরীয়তপুর প্রতিনিধি জানান, শরীয়তপুর জেলার পাঁচ পৌরসভার ১৩ মেয়র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন সদর পৌরসভার রিটার্নিং অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন।

মনোনয়ন বাতিল হওয়া মেয়র প্রার্থীরা হলেন শরীয়তপর সদর পৌরসভার আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী রফিকুল ইসলাম কোতোয়াল; ডামুড্যা পৌরসভার আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হুমায়ুন কবির বাচ্চু ছৈয়াল, স্বতন্ত্র প্রার্থী আশাফ উদ্দৌলা রতন ছৈয়াল; ভেদরগঞ্জ পৌরসভার স্বতন্ত্র আব্দুল মান্নান বেপারী, আব্দুল জব্বার রাঢ়ি, হালিম বেপারী, তানিয়া জাহিদ; নড়িয়া পৌরসভায় স্বতন্ত্র জাকির বেপারী, শহীদুল ইসলাম, মোসলেহ উদ্দিন; জাজিরা পৌরসভায় স্বতন্ত্র প্রার্থী খোকন তালুকদার, আবুল বাশার খান ও জুলহাস কবিরাজ।

এছাড়া পাঁচ পৌরসভায় ১৬ জন কাউন্সিলর প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র বাতিল করা হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, জেলার তিন পৌরসভায় তিন মেয়র প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মুহাম্মদ কামরুল হাসান এবং জেলা নির্বাচন অফিসার আব্দুর রহিম।

মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন, সিরাজগঞ্জ পৌরসভায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মো. শামছুজ্জামান শেখ আলো; উল্লাপাড়া পৌরসভায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ফয়সাল কাদির রুমি ও শাহজাদপুর পৌরসভায় বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী জয়নাল আবেদীন।

ভোটারের স্বাক্ষর, জন্ম তারিখ ও শিক্ষাগত সনদে গরমিল, ঋণখেলাপ, নির্বাচনী নীতিমালা ভঙ্গ ইত্যা কারণে তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

ফেনী প্রতিনিধি জানান, সদর পৌরসভায় বিএনপির মেয়র প্রার্থী ফজলুল রহমান বকুল ও পরশুরাম পৌরসভার আরও দুই প্রার্থী যুবদল নেতা মো. মোস্তাফিজুর রহমান, স্বতন্ত্র আতিকুল আলম মজুমদারের মনোয়নপত্র বাতিল করেছেন ওই এলাকার রিটার্নিং কর্মকর্তারা। তাদের বিরুদ্ধে মামলা সংক্রান্ত তথ্য গোপন করাসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

শনিবার দুপুরে মনোয়নপত্র যাচাই-বাছাই চলাকালে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি শেষে রিটার্নিং অফিসাররা এ সিদ্ধান্ত নেন।

এখন ফেনী পৌরসভায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বর্তমান মেয়র হাজি আলাউদ্দিন ও জাতীয় পার্টির প্রার্থী ইকবাল আলমগীর। আর সাজেদুল হক মাসুদের মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় এবং পরশুরাম পৌরসভায় আর কোনও প্রার্থী না থাকায় আওয়ামী লীগের প্রার্থী নিজাম উদ্দিন চৌধুরী সাজেলের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন। 

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি জানান, সেখানে যাচাই-বাছাই করে পাঁচ মেয়র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। বাতিলকৃত প্রার্থীরা হলেন, কুষ্টিয়া পৌরসভায় মেয়র পদে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী অ্যাডভোকেট শামীম উল হাসান অপু, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের আব্দুল খালেক ও জাতীয় পার্টির কে এম জাহিদ, ভেড়ামারা পৌরসভায় স্বতন্ত্র মেয়র পদপ্রার্থী আজগর আলী ও মিরপুর পৌরসভায় স্বতন্ত্র মেয়র পদপ্রার্থী সাইফুল হক খান ফারুক চৌধুরী।

রাজশাহী প্রতিনিধি জানান, জেলার ১৩ পৌরসভায় ১৬ মেয়র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হামিদুল ইসলাম।

এছাড়া আরও ৩১ কাউন্সিলর প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া মেয়র প্রার্থীরা হলেন বাঘার আড়ানীর পৌর মেয়র ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী নজরুল ইসলাম, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুল মতিন, জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ পারভেজ কলিন্স; ভবানীগঞ্জ পৌরসভায় বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী শাহিনুল ইসলাম শাহীন; কাটাখালী পৌরসভায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী মঞ্জুর রহমান; দুর্গাপুর পৌরসভায় বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী সৈয়দ জামাল উদ্দিন, জাতীয় পার্টির আজাহার আলী, ওয়ার্কার্স পার্টির শামিমুল ইসলাম; তাহেরপুরে বিএনপির পৌর ছাত্রদলের সভাপতি এস এম আরিফুল ইসলাম, যুবদলের সভাপতি আবদুল আলীম বাবু, সামসুন্নাহার; পুঠিয়ায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আব্দুল মালেক, বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী সাইফুল ইসলাম, জামায়াতের স্বতন্ত্র প্রার্থী আহাদ আলী; নওহাটা পৌরসভায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী আফজাল হোসেন ও হাফিজুর রহমান।

হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকা, ১০০ ভোটারের স্বাক্ষরযুক্ত আইডি কার্ডের ফটোকপি না দেওয়া, তথ্য গোপন ও নির্বাচনী নীতিমালা ভঙ্গের কারণে তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে।

বাগেরহাট প্রতিনিধি জানান, বাগেরহাট সদর পৌরসভার নির্বাচনে মেয়র পদে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা মীনা হাসিবুল হাসান শিপনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাইয়ের সময় হলফনামায় তথ্য গোপন করায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল হয়।

বরগুনা প্রতিনিধি জানান, জেলার তিনটি পৌরসভার মধ্যে দুটি পৌরসভায় মেয়র পদে প্রার্থী যাচাই বাছাই শেষে দুই মেয়র প্রার্থীর মনোনয়ন পত্র বাতিল করা হয়েছে। শনিবার মনোনয়ন পত্র যাচাই বাছাই এর প্রথম দিনে স্ব স্ব পৌরসভার রিটার্নিং কর্মকর্তারা তাদের মনোনয়ন পত্র বাতিল করেন।

ঋণ খেলাপির অভিযোগে বরগুনায় জাতীয় পার্টি মনোনিত প্রার্থী সার্জেন্ট (অব.) এম এ জলিলের মনোনয়ন পত্র বাতিল করা হয়। অন্যদিকে বেতাগী পৌরসভা নির্বাচনে বর্তমান মেয়র পদে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পাওয়া আলতাফ হোসেন বিশ্বাসের মনোনয়নপত্র বাতিল করেন রিটার্নিং অফিসার।

খুলনা প্রতিনিধি জানান, বাছাইয়ের সময় কাউন্সিলর পদে দুই জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা হযরত আলী। মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া দুই কাউন্সিলর প্রার্থী হলেন সংরক্ষিত ২ নম্বর ওয়ার্ডের স্বতন্ত্র প্রার্থী শারমিন সুলতানা ও সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ নেতা মো.শিহাব উদ্দিন ফিরোজ। এখন ২ নম্বর ওয়ার্ডে  সংরক্ষিত প্রার্থী হিসেবে একাই রয়েছেন আওয়ামী লীগের কবিতা দাশ।

এরমধ্যে পাইকগাছা উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা হয়রত আলী জানান, মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দেওয়া তথ্যে শারমিন সুলতানা শিক্ষাগত যোগ্যতার তথ্য গোপন করেছেন। দেওয়া তথ্য মতে তার বয়সও যোগ্যতার চেয়ে কম রয়েছে। আর শিহাবের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া হয়নি। ফলে এ দুজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, পৌর নির্বাচনে সাধারণ কাউন্সিলর পদে জেলার  ৭৩ জনের মধ্যে যাচাই বাছাই শেষে চারজনের মনোনয়ন পত্র বাতিল  হয়েছে। এরা হচ্ছেন, ৫ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক রাজা, ৭ নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী ইলিয়াস হোসেন, ৮ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী আনন্দ মোহন বালু ও  মো. আরশেদ আলী ।

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জানান, ঋণখেলাপি, আয়করসহ কাগজপত্র ত্রুটি থাকায় ওই চার জনের মনোনয়ন পত্র বাতিল হয়েছে।

কুমিল্লা প্রতিনিধি জানান, কুমিল্লার ছয় পৌরসভায় ৩৩ কাউন্সিলর প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩২ জন ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ১জন সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। ঋণখেলাপী, অসম্পূর্ণ আবেদন, সঠিকভাবে হলফনামা পূরণ না করা ইত্যাদি কারণে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সাধারণ ওয়ার্ডে জেলার লাকসাম পৌরসভায় ১জন, চৌদ্দগ্রামে ১৪জন, চান্দিনায় ৯জন, দাউদকান্দিতে ৩জন, বরুড়ায় ১জন, হোমনায় ৪জন কাউন্সিলর ও ১জন সংরক্ষিত কাউন্সিলর প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের বিএনপি প্রার্থী মুহাম্মদ গোলাম রাব্বানী, জাতীয় পার্টির খোরশেদ আলম ও স্বতন্ত্র শাহাবউদ্দিন, লাকসাম জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোখলেছুর রহমান ও স্বতন্ত্র গোলাম ফারুক, হোমনার স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জহিরুল হক ও তার ভাবী স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান মেয়র হারুনের স্ত্রী খোদেজা বেগম এবং বরুড়ার স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. নজরুল ইসলাম।

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, হবিগঞ্জের পাঁচ পৌরসভায় তিন মেয়র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তারা হলেন জেলার চুনারুঘাট পৌর সভার স্বতন্ত্র পার্থী ইফতেখারুল গণি, মীর সাহেব আলী ও হবিগঞ্জ পৌরসভায় ন্যাশনাল পিপলস পার্টি মনোনীত প্রার্থী আব্দুল কাদির। বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা রিটার্নিং অফিসার শফিউল আলম।

এছাড়া আরও ১৩ কাউন্সিলরের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।

এছাড়া খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি জানিয়েছেন, জেলায় স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থীর নুরুল ইসলাম নুরুর মনোনয়নপত্র প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের অভাবে বাতিল করা হয়েছে।


/এইচকে/এআর/টিএন/    

সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম