চাঁদপরের মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর পৌরসভায় আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী রফিকুল আলম জর্জ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। মঙ্গলবার বিকেলে চাঁদপুরের রিটার্নিং অফিসার মফিজুল ইসলাম তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করেন।
ছেংগারচর পৌর নির্বাচনের সহকারী রিটার্নিং অফিসার হেকমত আলী জানান, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী তাকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি চিঠিও এরইমধ্যে রফিকুল আলম জর্জকে দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৮ ডিসেম্বর) মেয়র প্রার্থী রফিকুল আলম জর্জকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করতে রিটার্নিং অফিসারকে চিঠি দেয় নির্বাচন কমিশন।
কমিশনের সহকারী সচিব মো. রাজীব আহসান স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়, ছেংগারচর পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে একজন মাত্র প্রার্থী থাকায় স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) নির্বাচন বিধিমালা ২০১০ এর বিধি ২১ অনুসারে সেই প্রার্থীকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণার ব্যাপারে আদালতের নিষেধাজ্ঞা নেই বিধায় বিধি অনুসারে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে।
নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব, চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সব দফতরে এ চিঠির অনুলিপি দেওয়া হয়েছে।
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত মেয়র রফিকুল আলম জর্জ বলেন, ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঠিক করেছেন- এ জন্য তাকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। আমি যেহেতু সুযোগ পেয়েছি- সেহেতু এ পৌরসভাকে মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।’
তিনি বলেন, ইভটিজিং, মাদক, বাল্য বিবাহ ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন।
প্রসঙ্গত গত ৫ ডিসেম্বর হলফনামায় তথ্য গোপন ও ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগে রিটার্নিং অফিসার বিএনপি প্রার্থী সারওয়ারুল আবেদীন খোকনের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন। এরপর তিনি আপিল কর্তৃপক্ষ ও চাঁদপুরের জেলা প্রশাসকের কাছে আপিল করেন। শুনানির পর সেখানেও তার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে গত ১৩ ডিসেম্বর বিএনপির এ মেয়র প্রার্থী উচ্চ আদালতে আপিল করেন। আপিল শুনানি শেষে বিচারপতি নাইমা হায়দার ওই মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার আদেশ দেন। এরপর এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী রফিকুল আলম জর্জ। পরে গত ২২ ডিসেম্বর আপিল বিভাগের চেম্বার জজ ইমান আলী বিএনপি প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধতার রায় ৬ সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেন। এছাড়া উচ্চ আদালতের এ আদেশে আগামী ছয় সপ্তাহের মধ্যে শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে যেতে বলা হয়। পরে আদালতের নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের দিক নির্দেশনা চেয়ে চিঠি দেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
/জেবি/এফএস/








