
রাত পেরোলেই প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে হতে যাচ্ছে পৌরসভা নির্বাচন। নির্বাচন হচ্ছে যশোর সদর পৌরসভায়ও। তবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পারার শঙ্কায় শহরজুড়ে নাগরিকদের মধ্যে চাপা আতংক ও ভয় দেখা গেছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকে থমথমে পরিস্থিতি ছিল শহরে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ ভয় আরও বেড়েছে। এরই মধ্যে রাত সাড়ে আটটার দিকে মনিহার সিনেমা হলের সামনে বোমার বিস্ফোরণ ঘটেছে। আতংকে রয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মারুফুল ইসলাম। ভয়ের কথা পরিষ্কার করেছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী কামরুজ্জামান চুন্নও। পাশাপাশি মেয়রপ্রার্থীরা অভিযোগ করছেন, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টার পরেই অন্তত আটটি কেন্দ্র দখল করতে পারে সরকারদলীয় প্রার্থীর পক্ষের লোকজন।
এ বিষয়ে যশোর পৌরসভার রিটার্নিং অফিসার সাবিনা ইয়াসমিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফোন রিসিভ করেননি এসপি আনিসুর রহমানও।
তবে যশোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শিকদার আক্কাস আলী বলেছেন, এখন পর্যন্ত কোনও অভিযোগ আসেনি। উপযুক্ত তথ্য পেলে তারা অভিযানে যাবেন। তবে যেহেতু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্বাচন কমিশনের অধীনে, সেহেতু রিটার্নিং অফিসার না চাইলে তারা কোনও অভিযানে অংশ নিতে পারবে না।
এ নিয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের প্রার্থী রেন্টু চাকলাদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ত আছেন ও পরে কথা বলবেন বলে জানান।
যশোরে ভয়-শঙ্কা
মঙ্গলবার বিকেলে পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আতঙ্কে আছেন প্রত্যেকেই। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে নির্বাচন সুষ্ঠু করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়েছেন শহরের মাইক পট্টি এলাকার এক ভোটার। নাম না প্রকাশের শর্তে তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে বিএনপি প্রার্থী মারিফুল ইসলামের জয় লাভের সম্ভাবনা বেশি। কারণ আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছে। নির্বাচনি পরিবেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রশাসন ও সরকারের পক্ষ থেকে জানিয়েছে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। নির্বাচনের পরিবেশ দেখে তাদের কথায় আশ্বস্ত হতে পারি না। বিশৃঙ্খলার ভয়ে আমার মনে হয় অর্ধেক ভোটারও ভোট দিতে যাবে না। তিনি আরও জানান, ভোট কতটা পাবে তা জানি না। তবে
আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী অনেক হয়রানির শিকার হয়েছেন। তিনি আওয়ামী লীগের অনেক ভোট পাবেন।
তবে একই এলাকার মুদি দোকানদার মান্নান বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জহিরুল ইসলাম চাকলাদার বিজয়ী হবেন। যেহেতেু তার দল ক্ষমতায় আছে উন্নয়নের লক্ষ্য সবাই তাকেই ভোট দিয়ে বিজয়ী করবে বলেও তার ধারণা। এদিকে বিএনপি প্রার্থী মারুফুল ইসলাম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী এসএম কামরুজ্জামান চুন্নু নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট ও পেশীশক্তি ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী জহিরুল ইসলাম চাকলাদারের বিরুদ্ধে। তাদের শঙ্কা ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলো রাত ১২টার পরই দখল হবে।

মারিফুল ইসলাম বলেন, আমার পৌরসভার ৮টা কেন্দ্র উচ্চমাত্রার ঝুঁকিপূর্ণ। রাত ১২টার আগেই কেন্দ্র গুলো দখল ও ভোট শুরু হয়ে যেতে পারে। এই কেন্দ্রগুলো নিয়ে আমি একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে কথা বলেছি। তারা সদুত্তর দিতে পারেননি। নিজেও নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন দাবি করে মারিফুল বলেন, আজ সারাদিন বাইরে যেতে পারিনি। আমার পোস্টার ব্যানার খুলে ফেলা হচ্ছে বলে খবর পেয়েছি। শহরের তারার মেস ও নাসির স্যারের মেসে ক্ষমতাসীন দল সমর্থিত প্রার্থীর বহিরাগত সশস্ত্র সন্ত্রাসী রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
একই ধরনের অভিযোগ স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুজ্জামান চুন্নুর। তিনি বলেন, আমার প্রচার প্রচারণায় বাধা দেওয়া হচ্ছে। খবর পেয়েছি আজও নাকি আমার পোস্টার-ব্যানার খুলে ফেলা হয়েছে। আমার এজেন্ট দিতে দিচ্ছে না। আমি ওসি, এসপি ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছি।
এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থী জহিরুল ইসলাম চাকলাদারের প্রতিক্রিয়া জানতে সন্ধ্যায় মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ব্যস্ত বলে পরে কথা বলার কথা জানান।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে দাবি করে যশোর সদর থানার ওসি শিকদার আক্কাস আলী বলেন, এখনও কোথাও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। গতকাল ও আজ আমাদের কাছে কোনও অভিযোগ আসেনি। সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের লক্ষ্যে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছি। কেন্দ্রে ভোটের সরঞ্জাম পৌঁছে গেছে।
/এসটিএস/এফএ/








