রমজান মাস উপলক্ষে আমাদের দেশে বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য সামগ্রীর দাম হু হু করে বাড়লেও কাতারে এর চিত্র ঠিক উল্টো। দেশটিতে রমজান মাসকে সর্বোচ্চ মর্যাদার সঙ্গে পালন করা হয় এবং ক্রয়ক্ষমতা সাধারণ মানুষের নাগালে রাখতে এ মাসে ৫ শতাধিক নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম কমিয়ে সেগুলোর মূল্য তালিকা দোকানের সামনে ঝুলিয়ে দিয়েছে দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
রমজান হচ্ছে পবিত্র সিয়াম সাধনার মাস। রোজার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে মুত্তাকির গুণাবলী অর্জন করা। মুত্তাকির সার কথা হচ্ছে সর্ব অবস্থায় আল্লাহর ভয় অন্তরে জাগ্রত রাখা। বিষয়টি কঠোরভাবে মেনে চলা হয় মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠের দেশ কাতারে। রমজানে নিত্যপণ্যের দাম যেন কোনোভাবেই বাড়তে না পারে সেই ব্যাপারে কঠোর নজরদারির ব্যবস্থা করে কাতার সরকার। রমজানের এক সপ্তাহ আগে থেকেই কাতারের ছোট বড় সব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দোকানের সামনে পাঁচ শতাধিক পণ্যের মূল্য তালিকা ঝুলিয়ে দেওয়া হয় কাতারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে, যা বছরের অন্য সময়ের থেকে কম থাকে এবং সেগুলো সিটি করপোরেশনের (বলাদিয়া) কর্মকর্তাদের দিয়ে কঠোরভাবে মনিটর করানো হয়। এসব পণ্যের মধ্যে চাল, ডাল, তেল, মাছ, মাংস, ছোলা, মুড়ি, মসলা সবই রয়েছে।
কাতারের বিভিন্ন এলাকার নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দোকানগুলো ঘুরে দেখা গেছে তারা কাতারের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া মূল্যতেই পণ্য বিক্রি করছেন।
কাতারের আবু হামুরে অবস্থিত সাফারি মলে কর্মরত বাংলাদেশি ক্যাশিয়ার ইমরান হাসান জানান, সারা বছর আমরা যে দামেই বিক্রি করি না কেন রমজান মাসে প্রায় প্রত্যেকটা ভোগপণ্যে আমরা বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা করে থাকি। যেমন বাসমতি চালের ৫ কেজির প্যাকেট রমজানের আগে আমরা ৩৬ রিয়েলে বিক্রি করলেও রমজানে সেটা ২৬ রিয়েলে বিক্রি করছি। এ ধরনের আরও অনেক পণ্য আছে যেগুলি বছরের অন্য সময়ের চেয়েও অনেক কম দামে আমরা গ্রাহকের হাতে তুলে দেই।
বাংলাদেশি মালিকানাধীন বিভিন্ন গ্রোসারি শপগুলোতেও (মুদি দোকান) রমজানের নিত্যপ্রয়োজনীয় ছোলা, মুড়ি, বেসন, খেজুরসহ নানা ধরনের ফলে বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা করা হয়।
কাতারে বসবাসরত বাংলাদেশি ব্যবসায়ী বাবুল ইসলাম ভূইয়া জানান, ‘বছরের ১২ মাসের ১১ মাস তো আমরা ব্যবসা করেই যাচ্ছি। সেই ১১ মাসের চেয়ে রমজান মাসটা ভিন্ন। বিশেষ একটা মাস। এই মাসটা আত্মশুদ্ধির মাস। তাই এই মাসের সম্মানে আমি অন্য মাসের তুলনায় কম মুনাফা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আল্লাহ তায়ালা চাইলে আমার এই কম মুনাফার মধ্যেই বরকত দিয়ে দেবেন।’
বারওয়া হাউজিংয়ে বসবাসরত বাংলাদেশি গৃহিণী নাঈমা আক্তার ও ইসমত আরা তুলি জানান, রমজান মাস এলেই দেশের সাধারণ মানুষজন নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে এক রকম আতঙ্কে থাকে। কিছু কিছু পণ্য তো সাধারণের নাগালের বাইরে চলে যায়। সেদিক থেকে কাতারে আমরা বেশ স্বস্তিতেই আছি। এই দেশে বাড়বে তো দূরের কথা, বেশ অনেক পণ্যে বিশেষ বিশেষ ছাড়েরও ব্যবস্থা থাকে। কোনও কোনও শপিংমলে দুইটা পণ্য কিনলে একটা পণ্য ফ্রিও পাওয়া যাচ্ছে।
কাতারের কিছু কিছু শপিংমলে বিশেষ মূল্য ছাড়ের পাশাপাশি ক্রেতাদের আকর্ষণ করতে স্বর্ণালংকার, গোল্ড কয়েন ও নিশান পেট্রোল, বিএমডব্লিউ, মার্সিডিসের মতো দামি গাড়িও লটারির মাধ্যমে গ্রাহকদের দেওয়ার অফার দেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
রোজায় লন্ডনে দাম কমে নিত্যপণ্যের
ইচ্ছেমতো দামে মাংস বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা
বাজার সামলাতে ব্যস্ত সরকারের ১২ সংস্থা, তবু অস্বস্তিতে ক্রেতারা








