হাউজিং প্রতারণা, লন্ডনে বাংলাদেশি নারীর জেল-জরিমানা

লন্ডন প্রতিনিধি
২২ জানুয়ারি ২০২০, ০১:২৩আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২০, ০১:৪৬

 

হাউজিং প্রতারণা, লন্ডনে বাংলাদেশি নারীর জেল-জরিমানা

লন্ডনের বাংলাদেশি অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটসে বসবাসরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এক নারীকে হাউজিং প্রতারণার দায়ে কারাদণ্ড দিয়েছেন একটি আদালত। একইসঙ্গে তার কাছ থেকে ক্ষতিপূরণও আদায় করা হয়েছে। টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের স্পেশালিস্ট হাউজিং ফ্রড টিম তদন্ত শেষে মামলা দায়ের করলে স্নেয়ার্সব্রুক ক্রাউনকোর্ট গত ৯ জানুয়ারি তার বিরুদ্ধে এই রায় দেন।

প্রসঙ্গত খাদিজা বেগম নামে ওই নারী ২০০২ সালে কাউন্সিল হাউজিং-এর জন্য আবেদন করেন। এসময় তিনি ডিক্লারেশন পেপারে সাইন করে জানান যে, তার কোথাও কোনও বাড়ি নেই। এ বিষয়ে তার অবস্থার পরিবর্তন হলে তিনি তা কাউন্সিলকে অবহিত করবেন। পরবর্তীতে ২০০৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ইলফোর্ডে তিনি তার ভাইয়ের সঙ্গে মিলে ৩৩৭,৫০০ পাউন্ড দিয়ে ৪ বেডরুমের একটি বাড়ি কেনেন। কিন্তু এ বিষয়ে কাউন্সিলকে অবহিত করেননি। এর ৩ মাস পর হোয়াইট চ্যাপেলের কলিংউড হাউজে কাউন্সিল থেকে বসবাসের জন্য একটি ফ্ল্যাট পান তিনি। এসময়ও তিনি ভাইয়ের সঙ্গে যৌথভাবে তার বাড়ি থাকার বিষয়টি চেপে যান।

উল্লেখ্য যে, একক অথবা যৌথভাবে অন্য কোথাও বাড়ি থাকলে কাউকে সোশাল হাউজিং বরাদ্দ দেওয়ার বিধান নেই। 

পরবর্তীতে ২০১৬ সালে খাদিজা বেগম রাইট টু বাই আইনের অধীনে ডিসকাউন্টে কলিংউড হাউজের ফ্ল্যাটটি কেনার জন্য কাউন্সিলের কাছে আবেদন করেন। কাউন্সিলের বাড়ি কিনতে হলে অন্য কোথাও একক বা যৌথভাবে বাড়ি থাকলে রাইট টু বাই অধিকার প্রযোজ্য হয় না।

খাদিজা বেগমের রাইট টু বাই আবেদন পর্যালোচনাকালে কাউন্সিলের হাউজিং ফ্রড টিম আবিষ্কার করে যে ইলফোর্ডে যৌথনামে তার একটি বাড়ি রয়েছে এবং তিনি কখনও তা কাউন্সিলকে জানাননি। কাউন্সিলের কাছে বিভিন্ন সময়ে দেওয়া ইন্টারভিউ এবং ডিক্লেয়ারেশনে তিনি তা ধারাবাহিকভাবে অস্বীকার করেন। কাউন্সিলের হাউজিং ফ্রড টিম তাকে তথ্য প্রমাণসহ চ্যালেঞ্জ করলে ২০১৭ সালের জুন মাসে তিনি কাউন্সিল ফ্ল্যাটটি ফেরত দেন।

পরবর্তীতে বিষয়টি আদালতে নিয়ে যাওয়া হলে ২০১৯ সালের ৫ ডিসেম্বর থেমস ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে খাদিজা বেগম তার বিরুদ্ধে আনীত হাউজিং প্রতারণার অভিযোগ স্বীকার করে নেন। পরে এ বছরের ৯ জানুয়ারি স্নেয়ার্সব্রুক ক্রাউনকোর্ট খাদিজা বেগমকে  ১৬ মাসের সাসপেন্ডেড কারাদণ্ড প্রদান করে।

একইসঙ্গে মামলার খরচ বাবদ তাকে প্রায় ৬ হাজার পাউন্ড প্রদানেরও নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া তার কারণে দীর্ঘদিন অন্য একটি পরিবার সোশাল হাউজিং থেকে বঞ্চিত হয়। ওই পরিবারকে অস্থায়ী হাউজিংয়ে রাখার কারণে কাউন্সিলের খরচ হওয়া ১ হাজার ৫০০ পাউন্ড খাদিজা বেগমের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ বাবদ উদ্ধার করা হয়। এ ব্যাপারে নির্বাহী মেয়র জন বিগস তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, দ্রুতবর্ধনশীল জনসংখ্যার কারণে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলে সোশাল হাউজিং-এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। খাদিজা বেগম সত্যি কথা বললে আরেকটি পরিবার উপকৃত হতো। কাউন্সিলের বাড়িটি তাকে বরাদ্দ দেওয়া হতো না।

/এমআর/
সম্পর্কিত
১০ বছর পর এলেন দেশে, বাড়ি ফিরলেন মা-ভাই-বোনসহ লাশ হয়ে
যুক্তরাজ্যে যুগান্তকারী রায়, দেশে বসেই ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেন ভারতীয় কর্মী
ব্রিটিশ-বাংলাদেশি শিক্ষকের বিরুদ্ধে ১৩ ছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, ব্যাপক চাঞ্চল্য
সর্বশেষ খবর
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম