মুহাররমের ১০ তারিখ তথা আশুরার দিন রোজা রাখা সুন্নাত। রাসুল (সা.) এ দিনের রোজার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন এবং ইহুদিদের সঙ্গে সাদৃশ্য এড়াতে ওই দিনের পাশাপাশি ৯ বা ১১ মুহাররম মিলিয়ে দুটি রোজা রাখতে উৎসাহিত করেছেন। (তিরমিজি, হাদিস: ৭৪১)
আশুরাকে কেন্দ্র করে আরেকটি পরিচিত আমল হলো, পরিবার-পরিজনের জন্য সাধ্যানুযায়ী ভালো খাবারের ব্যবস্থা করা। এ বিষয়ে হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) ও হজরত জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি আশুরার দিন পরিবারের জন্য স্বচ্ছলতার ব্যবস্থা করবে, আল্লাহ তায়ালা সারা বছর তার জন্য স্বচ্ছলতার ব্যবস্থা করবেন। (আল-মু-জামুল কাবির, হাদিস: ১০০০৭, শুয়াবুল ঈমান, হাদিস: ৩৫১৩-৩৫১৬)
তবে এ হাদিসের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে মুহাদ্দিসদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কেউ এটিকে জাল বলেছেন, আবার অনেক মুহাদ্দিস; যেমন-ইমাম বায়হাকি, ইমাম সুয়ূতি, মোল্লা আলি কারি, ইবনে আররাক ও আল্লামা আবদুল হাই লাখনভি (রহ.) মত দিয়েছেন যে, একাধিক সনদে বর্ণিত হওয়ায় এটি জঈফ হলেও পরস্পরের মাধ্যমে শক্তিশালী হয়ে হাসান লিগাইরিহি পর্যায়ে উন্নীত হয়। শায়খ আবদুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ (রহ.) ও এটিকে জাল নয়; বরং জঈফ বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
এ কারণে অনেক ফকিহ ও মুফতি ফজিলতের ক্ষেত্রে এ হাদিস অনুযায়ী আমলের অনুমতি দিয়েছেন। তবে এটিকে আবশ্যক সুন্নাত বা বিশেষ সাওয়াবের নিশ্চিত আমল মনে করা যাবে না; বরং আল্লাহর কাছে বরকত ও প্রশস্ত রিজিকের আশা নিয়ে সাধ্যানুযায়ী পরিবারের জন্য ভালো খাবারের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। (আহসানুল ফাতাওয়া, ১/৩৯৫, ১/৫১৩)
তবে আশুরাকে উপলক্ষ করে বিশেষ অনুষ্ঠান, গণভোজ বা নির্দিষ্ট খাবার রান্নাকে ধর্মীয় রীতি বানানো শরিয়তসম্মত নয়। তাই এ বিষয়ে বাড়াবাড়ি যেমন অনুচিত, তেমনই যারা নির্ভরযোগ্য আলেমদের মত অনুসরণ করে সীমিত পরিসরে এ আমল করেন, তাদেরও অযথা বাধা দেওয়া উচিত নয়।
লেখক: গণমাধ্যমকর্মী ও মাদ্রাসাশিক্ষক








